এসপি হারুন স্ট্রং পুলিশ সুপার, হয়তো সংবর্ধনা দিব : সেলিম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:২২ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার

এসপি হারুন স্ট্রং পুলিশ সুপার, হয়তো সংবর্ধনা দিব : সেলিম ওসমান

নারায়ণগঞ্জের বর্তমান আলোচিতদের একজন হারুন অর রশিদ। তিনি জেলার পুলিশ সুপার। সাম্প্রতিক কিছু অভিযান ও পুলিশের অ্যাকশনের কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ব্যবসায়ীরাও দেন আলটিমেটাম।

এ অবস্থায় ৯ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আসেন শামীম ওসমানের বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান বলছেন, আমরা কেউ চিরজীবনের জন্য আসি নাই। জেলা প্রশাসনে যারা আছেন তারা অন্য জেলার ভালোর জন্য, নারায়ণগঞ্জে ভালো করেছে তাদের হয়তো অন্য কোথাও নিয়ে যাবে। নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য ওনার মতো এসপি না আসলে নির্বাচনে গন্ডগোল হতে পারে। তারজন্য ওনাকে জরুরী ভাবে এখানে আনা হয়েছিল। এমনও হতে পারে অন্য জেলায় ওনার মতো স্ট্রং এসপির প্রয়োজন আছে তাহলে বদলী হতেই পারে। তখন আমরা সবাই মিলে হয়তো বা সেদিন তাকে সংবর্ধনা দিবো।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোন তদবির করবো না। একটা আলোচনা শুনছিলাম যে, পুলিশ মেরি এন্ডারসনে যেতে পারে না, অমুকের ওখানে যেতে পারে না কিন্তু পুলিশ ইচ্ছা করলে বাসর ঘরেও যেতে পারে। পুলিশ যদি সন্দেহ করে তাহলে বাসর ঘরেও যেতে পারে। কারণ এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। এখানে অবহেলা করার কিছুই নেই। পুলিশের যেখানে সন্দেহ সেখানেই যেতে পারে। এটা আইন ও নিয়ম। পুলিশ যদি কাউকে ধরে ফেলে তাহলে কোর্ট আছে আপনি কোর্টে গিয়ে আপিল করেন। আপনার উকিল আছে, আপনার কথা বলেন। ৩৫ থেকে ৩৫ ঘণ্টা থাকতে হতে পারে তার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলখানা অনেক সুন্দর করে দেওয়া হয়েছে। এখানে থাকতে কোন অসুবিধা নেই। সুতরাং এটা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই।’

তিনি বলেন, আমি সৌদি আরব থেকে শুনেচ্ছি দুই ব্যবসায়ীর নামে মামলা দিয়ে দিয়েছে। এজন্য ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হচ্ছে। কিন্তু কাগজপত্রে দেখলাম এখানে কোন মামলাই হয়নি। পুলিশের শুধুমাত্র একটা তদন্ত ছিল। যে কেউ একটা লোক বলে দিতে পারে। এসপির সহযোগিতায় কাজটা আমি করেছি। আমি যতবড় সংসদ সদস্যই হই না কেন আমাকে জিজ্ঞাসা করতে এসপি বাধ্য। আমি যেখানেই থাকি না কেনো এসপি জিজ্ঞাসা করতে পারে। কিন্তু একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আমাকে গ্রেফতার করতে হলে আমার স্পিকারের অনুমতি লাগবে। এটা আমাদের জন্য একটা নিয়ম। কোন সাধারণ লোককে গ্রেফতার করতে হলে কোন অনুমতির প্রয়োজন হয় না।

সেলিম ওসমান বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু তর্কবির্তক হয়। অনেক সময় হতে পারে। এটা একেক জনের একেক আইন, জেলা প্রশাসনের এক আইন, পুলিশ প্রশাসনের এক আইন ও সংসদ সদস্যের এক আইন। আইন কিন্তু তিনটা। আবার সিটি করপোরেশনের আলাদা আইন। আমি আপনাদের সিটি করপোরেশনের দায় দায়িত নেওয়ার দরকার নেই আমার। যদি লিখিত ভাবে সিটি করপোরেশন আমাকে বলেন, আমি আপনার সহযোগিতা চাই। বাস স্ট্যান্ড, ট্রাক স্ট্যান্ড নিয়ে অনেকগুলো কথা বলেছিল কিন্তু কথাগুলো শেষ হওয়ার পরে তাদের যে চাহিদা ছিল সেই চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারি নাই।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতুহল আছে কারণ আমি ও পুলিশ সুপার এক সঙ্গে বসেছি। বরফ গলানো শুরু করে থাকবে। বরফই থাকবে না গলবে কোথায় থেকে।

সেলিম ওসমান বলেন, আমার কাজ জনসমাবেশ করা না জনসেবা করা। হয়তো আজকে এ সাংবাদিকদের কল্যানে বরফ গলে যাবে। জনগনের যাতে কল্যান হয় আমরা সবাই কল্যানে এক হয়ে কাজ করি। ভবিষ্যতে যেন আমাদের মধ্যে ঝগড়া বিভেদ না হয়। যদি এ ধরনের পরিস্থিত হয় প্রয়োজনে আমি হয়তো সংসদ সদস্য থাকবো না। কারণ আমি চাই না আমার কারণে কারো অশান্তির সৃষ্টি হোক। আমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নাই। আইনের জায়গায় আমরা যারা জনপ্রতিনিধি আছি, জেলা প্রশাসক আছে, আমাদের পুলিশ সুপার আছে, আইনকে সম্মান করেই আমাদের পথ এগিয়ে যেতে হবে। এ আইনের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ কিছুই থাকতে পারে না। যতক্ষণ আমি এ চেয়ারে থাকবো ততক্ষণ সম্মান করতেই হবে। সুতরাং এ জায়গায় কোন বিভেদ থাকতেই পারে না। আর এ চেয়ারটা আমার পৈত্রিক সম্পদ না। আমাকে যেকোন মুহূর্তে এ চেয়ারটা ছেড়ে চলে যেতে হতে পারে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতুহল আছে কারণ আমি ও পুলিশ সুপার এক সঙ্গে বসেছি। বরফ গলানো শুরু করে থাকবে। বরফই থাকবে না গলবে কোথায় থেকে।

নারায়ণগঞ্জবাসী ও সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সেলিম ওসমান বলেন, সাংবাদিক ভাইয়েরা আপন মনে করে কথাগুলো বললাম খোঁচা মাইরেন না। আপনারা নারায়ণগঞ্জে শান্তির ব্যবস্থা করেন। যদি কথা বলার থাকে আমি, এসপি সহ অন্যান্য সাংসদ যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কথা না বলে কলম চালিয়েন না। যতক্ষণ না ঘটে ততক্ষন ঘটিয়ে দিবেন না। যতখানি রটে ততখানি ঘটে না। যত গর্জে তত বর্ষে না। আপনার দেখবেন, এ ঈদে বরফ আর জমে থাকবে না। আপনারা যত কথাই বলেন এ ঈদে বরফ জমে থাকবে না। বরফ জমার কোন পরিস্থিতি থাকবে না। এখানে কোন আগুন বাসা নেই কিন্তু বরফ গলে যাবে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তর্কবির্তক অনেক কিছুই হতে পারে। এমনও হতে পারে এখন এ মুহূর্তে পাশাপাশি বসে কথা বলছি ওনি আমার একজন রাজনৈতিক দলের নেতাকে ধরে নিয়ে গেল এ নিয়ে অবশ্যই কথা কাটাকাটি হতে পারে। হতে পারে আমার এলাকার একজনকে মিথ্যা ভুল তথ্যে ধরে ফেলেন তাহলে ঝগড়া হতেই পারে। এটা আমাদের কাজ। জনস্বার্থে আমরা কাজ করবো। জনস্বার্থে যদি জেলা প্রশাসন ভুল করেন তার সঙ্গে ঝগড়া হতে পারে কিন্তু পাবলিকলি হবে না। এসপি সাহেবের যদি ভুল হয় তার সঙ্গে আমার ঝগড়া হবে সেটা। পরিবারে যেমন ঝগড়া হয় তেমন ঝগড়া হবে। এতে যেন নারায়ণগঞ্জকে ক্ষতিগ্রস্ত না করা হয়।

সেলিম ওসমান বলেন, আমার ছোট ভাই (এমপি শামীম ওসমান) আওয়ামীলীগ আর আমি জাতীয় পার্টি। তা নিয়ে তর্কবিতর্ক হতেই পারে। আমি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। ওনি বলার সময় অনেক বলে থাকেন। শুনেন কম বলেন বেশি। এটা আমি উপভোগ করি। আমার কাছে ভালো লাগে। ওনি আমাকে একটা কারণেই পছন্দ করেন কারণ, যত সমস্যাই আসুক না কেন আমরা দুইজন এক টেবিলে বসলে সব সমস্যাই সমাধান করা সম্ভব। এটা সারা পৃথিবীতেই চলে। এতো বড় একটা রোহিঙ্গা সমস্যা প্রধানমন্ত্রী সমাধান করেছেন।

আরো উপস্থিত ছিলেন স্নান উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহা, এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজিত সাহা, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পরিতোষ কান্তি সাহা, স্নান উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি বাসুদেব চক্রবর্তী, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার প্রমুখ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও