পরিস্থিতি ইউটার্নে : আলোচনায় ভুল খেলা আর ধাক্কাধাক্কি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৩ পিএম, ৯ এপ্রিল ২০১৯ মঙ্গলবার

পরিস্থিতি ইউটার্নে : আলোচনায় ভুল খেলা আর ধাক্কাধাক্কি

নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় পরিস্থিতিতে ইউটার্ন এসেছে। শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটুকে মেরি এন্ডারসনের মদ বিয়ার উদ্ধারে জড়ানো, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডির রেশ যখন পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত তখন এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের জরুরী কর্মী সভায় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে শামীম ওসমান নিজেও পুলিশ প্রশাসনকে কড়া ভাষায় হুর্শিয়ারী দেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার ৯ এপ্রিল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আসেন শামীম ওসমানের বড় ভাই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান।

আর সেখানে বক্তব্যে উঠে আসে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কে কোন বরফ আছে কী না। তবে এমপি সেলিম ওসমান ও পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ সাফ জানান কোন বরফই নেই।

এর আগে ৬ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিশেষ কর্মী সভা হলেও সেখানে উঠে আসে বহুল আলোচিত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের ইস্যু। এছাড়া নেতাকর্মীরা বার বার আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমানের উপস্থিতিতে এসপি হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। ওই সময়ে শামীম ওসমানকেও এসব স্লোগান থামাতে বেশ বেগ পেতে হয়।

শামীম ওসমান বেশ জোর দিয়ে বলেন, আপনারা যা দেখছেন সেটা আসল না। পর্দার আড়ালে কিছু খেলা হয়। কেউ কেউ ভুলে সে খেলায় পা দেয়। হয়তো নারায়ণগঞ্জের মেহমানরা সেই খেলায় পা দিয়েছেন। আমি কারো নাম বলবো না। আমি তাদের গোনায় ধরি না। বাইরের লোকজনদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। আমার ঘরের লোকজনদের দোষ। আমাদের ভেতরেই খন্দকার মোশতাকদের অবস্থান। বাইরের মানুষের কোন দোষ নাই।

এক পর্যায়ে শামীম ওসমান বলেন, আপনাদের এত টেনশন করার কারণ নাই। উত্তেজিত হবেন না। শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি নষ্ট করা যাবে না। আমার লোকজন খারাপ হলে ছাড় দিব না। কিন্তু যদি অহেতুক কাউকে হয়রানি করা হয় তাহলে নারায়ণগঞ্জ এর মাটিতে চাড়া নাচায়া দিব। এক সেকেন্ড সময় দিব না। এর পরেও যদি খেলা হয়। আগামীতে ২৪ ঘণ্টা না মাত্র ৬ ঘণ্টার সময় দিব। আশা করি আর খেলা হবে না। খেলার আগেই খেলা শেষ হয়ে যাবে।

ক ৯ এপ্রিল পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘গণমাধ্যমেই খবর এসেছে যে দুইজন ব্যবসায়ীকে আমরা পুলিশ ধরে মামলা দিয়েছি। অথচ এ ধরনের কোন ঘটনাই ঘটে নাই। এ ঘটনার কারণেই ব্যবসায়ীরা আসবেন বলা হয়েছিল। কিন্তু এমপি সাহেব (সেলিম ওসমান) নিজেই বলেছেন কোন মামলাও হয়নি। এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিল। সমাজে কিছু মানুষ আছে যাদের ধাক্কাধাক্কি খোঁচাখুচি করা হয়।

একই অনুষ্ঠানে সেলিম ওসমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতুহল আছে কারণ আমি ও পুলিশ সুপার এক সঙ্গে বসেছি। বরফ গলানো শুরু করে থাকবে। বরফই থাকবে না গলবে কোথায় থেকে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে কৌতুহল আছে কারণ আমি ও পুলিশ সুপার এক সঙ্গে বসেছি। বরফ গলানো শুরু করে থাকবে। বরফই থাকবে না গলবে কোথায় থেকে।

নারায়ণগঞ্জবাসী ও সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সেলিম ওসমান বলেন, সাংবাদিক ভাইয়েরা আপন মনে করে কথাগুলো বললাম খোঁচা মাইরেন না। আপনারা নারায়ণগঞ্জে শান্তির ব্যবস্থা করেন।  যদি কথা বলার থাকে আমি, এসপি সহ অন্যান্য সাংসদ যারা আছেন তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কথা না বলে কলম চালিয়েন না। যতক্ষণ না ঘটে ততক্ষন ঘটিয়ে দিবেন না। যতখানি রটে ততখানি ঘটে না। যত গর্জে তত বর্ষে না। আপনার দেখবেন, এ ঈদে বরফ আর জমে থাকবে না। আপনারা যত কথাই বলেন এ ঈদে বরফ জমে থাকবে না। বরফ জমার কোন পরিস্থিতি থাকবে না। এখানে কোন আগুন বাসা নেই কিন্তু বরফ গলে যাবে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তর্কবির্তক অনেক কিছুই হতে পারে। এমনও হতে পারে এখন এ মুহূর্তে পাশাপাশি বসে কথা বলছি ওনি আমার একজন রাজনৈতিক দলের নেতাকে ধরে নিয়ে গেল এ নিয়ে অবশ্যই কথা কাটাকাটি হতে পারে। হতে পারে আমার এলাকার একজনকে মিথ্যা ভুল তথ্যে ধরে ফেলেন তাহলে ঝগড়া হতেই পারে। এটা আমাদের কাজ। জনস্বার্থে আমরা কাজ করবো। জনস্বার্থে যদি জেলা প্রশাসন ভুল করেন তার সঙ্গে ঝগড়া হতে পারে কিন্তু পাবলিকলি হবে না। এসপি সাহেবের যদি ভুল হয় তার সঙ্গে আমার ঝগড়া হবে সেটা। পরিবারে যেমন ঝগড়া হয় তেমন ঝগড়া হবে। এতে যেন নারায়ণগঞ্জকে ক্ষতিগ্রস্ত না করা হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও