সবকিছুতেই হস্তক্ষেপ সাখাওয়াতের

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫১ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার

সবকিছুতেই হস্তক্ষেপ সাখাওয়াতের

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী প্রাঙ্গন থেকে উঠে আসা বিএনপির নেতা হলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে এসেছেন। সিনিয়র পর্যায়ের অনেক নেতাকে ডিঙ্গিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতির পদ। সেই সুযোগে তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করতে চান। সময়ে অসময়ে সবকিছুতেই যেন তার হস্তক্ষেপ করা চিরাচরিত অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেমন একটা লোকবল না থাকা সত্ত্বেও সবসময় তিনি নিজ স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির মাধ্যমেই অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনে বিএনপির রাজনীতি শুরু। তিনি বিএনপির সমর্থনে কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সুবাধে তিনি বিএনপির রাজনীতিবিদ হিসেবেই নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত হতে থাকেন। ২০১৭ সালের এপ্রিল সারাদেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী সাত খুনের ঘটনায় আসামীদের বিপক্ষে আইনজীবী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। প্রায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেয়ায় আলোচিত মুখ হয়ে যান তিনি।

এর পরপরই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ঘনিয়ে আসে। ওই নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন নেতা অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক না থাকায় সহজেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হয়ে যান অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। নিজের পক্ষে কোন জনসমর্থন না থাকা সত্ত্বেও বিনা বিরোধীতায় প্রার্থী হয়ে যান। ফলে নির্বাচন শেষে আওয়ামীলীগের সমর্থিত প্রার্থীর সাথে তার বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজয় ঘটে। যদিও তার দাবি নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কিন্তু তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোথাও কোন অভিযোগ করিনি।

এরপরই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আর এতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতাকে ডিঙ্গিয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সহজেই নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি হয়ে যান। আর এতে ক্ষোভ থেকে যায় অনেকেরই। তারপরেও তাকে মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা মানিয়ে নিতে চাচ্ছিলেন।

কিন্তু অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পদে আসার পর থেকেই তার দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোন নেতাকেই তিনি আর পাত্তা দিতে রাজী না। নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি হওয়ার পর কখনই তিনি মহানগরের একত্রিত ব্যানারে কোন কর্মসূচিতে আসেন নি। সবসময় সাখাওয়াত হোসেন খান আলাদা ব্যানারে দলীয় কর্মসূচি পালন করে থাকেন।

সর্বশেষ বিএনপির পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১৮ মার্চ রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বাদানুবাদের কারণে। যেখানে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালামের সাথে তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হন। আবুল কালাম বলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি হওয়ার পর ৫ মাস আমাদের মধ্যে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়নি। যখনই সাখাওয়াত হোসেন আলাদা হয়ে যান তখনই মহানগর বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। দলের মনোনয়ন যে কেউ চাইতেই পারে। তবে এজন্য আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে হবে, সেটা তো কোন নিয়ম হতে পারে না।

এরপর নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নিজের স্বার্থে লাগায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এতে হস্তক্ষেপ করেন। যার ফলশ্রুতিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়।

এদিকে যুবদলের কমিটিতেও হস্তক্ষেপ করেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। চেষ্টা করেন তার সমর্থিত নেতাকর্মীদেরকে পদে ঢুকানোর জন্য। ফলে নারায়ণগঞ্জ যুবদলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বেগ পোহাতে হচ্ছে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কারণে। তবে সাখাওয়াতের এই হস্তক্ষেপ মেনে নিতে পারছেন না বিএনপির নেতাকর্মীরা। দলের বদনামের কথা চিন্তা করে প্রকাশ্য কেউ কিছু না বললেও আড়ালে সাখাওয়াতের প্রতি নেতাকর্মীরা অতিমাত্রায় বিরক্ত।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও