নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে যুব বিষয়ক পদে তেলেসমাতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩০ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রবার

নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে যুব বিষয়ক পদে তেলেসমাতি

অনেক বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২০৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে আংশিক কমিটি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে এবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি হলেও এই কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা এই কমিটিকে সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের পকেট কমিটি হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। সেই সাথে জেলা বিএনপির কমিটিতে স্বজনপ্রীতির প্রমাণও পাওয়া গেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে জেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরুন্নাহার বেগম, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মশিউর রহমান রনি, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আনোয়ার সাদাত সায়েম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে জেলা ওলামা দলের সভাপতি বেনু, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে শরিফুল ইসলাম মোল্লা, তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মো: মজিবর রহমান ও মৎসজীবী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আলী আহম্মদ লালা জায়গা পেয়েছেন।

এরা সকলেই সংশ্লিষ্ট অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই পদাধিকার বলে তারা এই পদগুলো পেয়েছেন। কিন্তু যুব বিষয়ক সম্পাদক পদে পদাধিকার বলে বর্তমান সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুকে জেলা বিএনপিতে জায়গা দেয়া হয়নি। এই পদে জায়গা পেয়েছেন আশরাফুল হক রিপন যিনি জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত। সেই সাথে তিনি অনেক আগেই জেলা যুবদলের সেক্রেটারীর দায়িত্ব দায়িত্ব থেকে বিদায় হয়েছেন।

জানা যায়, আশরাফুল হক রিপন ২০০৭ সালের গঠিত কমিটিতে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। যে কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। যিনি বর্তমানে জেলা বিএনপির সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারের জেলা যুবদলের কমিটিতে আশরাফুল হক রিপন জেলা যুবদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু যুবক থেকে বার্ধক্যে পরিণত হওয়ায় তাকে জেলা যুবদলের কমিটিতে স্থান দেয়া হয়নি। কিন্তু জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামানের ঘনিষ্টজন হওয়ায় এবার আশরাফুল হক রিপনকে জেলা বিএনপিতে স্থান দিয়ে দিয়েছেন।

তবে এই বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছে না বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তারা জেলা বিএনপির ২০৫ সদস্য বিশিষ্ট জাম্বু কমিটিকে পকেট কমিটি হিসেবেই ধরে নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ হচ্ছে, জেলা বিএনপির কমিটি করার ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ কারও সাথে কোন আলোচনা করে নাই। তাদের একক সিদ্ধান্তেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমনকি জেলা বিএনপির আংশিক কমিটিতে যারা পদ পেয়েছিলেন তাদের সাথেও কমিটি নিয়ে কোন আলাপ আলোচনা করা হয় নাই।

দলীয় সূত্র বলছে, ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় সম্মেলন করে। সেখানে অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার সভাপতি, কাজী মনিরুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক ও মুহাম্মদ শাহআলম হন সহ সভাপতি। এরপর প্রায় ৮ বছরে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। সেবারের বিএনপি দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে জোড়ালো ভূমিকা ছিল না সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা কাজী মনির ও সহ সভাপতি পদে শাহআলমের। বরং তারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেই চলেছেন।

এরপর ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ জনের আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ করে জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে তারা আংশিক কমিটিতে থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনি।

ওই কমিটি ঘোষণার পর প্রায় ২ বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২০৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কিমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এই কমিটি গঠন করা হয় আংশিক কমিটির পদে থাকা নেতাদের সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে। বাদ দেয়া হয়েছে জেলার অনেক সিনিয়র নেতাকে। কোন কোন নেতা কমিটিতে জায়গা পেলেও তাদেরকে সম্মানজনক পদে রাখা হয়নি। সেই সাথে ত্যাগী নেতাদেরকেও মূল্যায়ণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও