নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটি নিয়ে রুহুলের ক্ষোভ আক্ষেপ হুশিয়ারী!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৪ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার

নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কমিটি নিয়ে রুহুলের ক্ষোভ আক্ষেপ হুশিয়ারী!

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

এতে তিনি লিখেছেন, ‘নারায়ণগঞ্জের জনপ্রিয় অনলাইনে মাননীয় মহাসচিবের সাক্ষরিত ম্যারাথন কমিটি যদি সত্যিকারের জেলা কমিটি হয় তা হলে আমি বলব মন্দের ভাল কমিটি হয়েছে। কারণ ২০০২ সালের পর দীর্ঘদিন পর নারায়ণগঞ্জ জেলার মনোনীত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলো।’

তিনি বলেন, ‘এই কমিটিতে অনেক রাজপথের সাহসী ত্যাগী সাবেক ছাত্রনেতাদের স্থান হয়েছে। অনেক সিনিয়র ও জুনিয়র আইনজীবীদের স্থান দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে শহীদ জিয়ার হাত ধরে যারা বিএনপিতে এসেছে তারা রয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় যারা আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের সাথে ছিল তাদের অনেকে বাদ পড়েছে। তার জন্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। আমি বিশ্বাস করি জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে সঠিক মূল্যায়ন দরকার ছিল।’

আক্ষেপ করে রুহুল বলেন, ‘সবচেয়ে হৃদয়বিদারক হয়েছে জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এই ম্যারাথন কমিটিতে রাখা হয়নি। আমি ইনশাল্লাহ প্রথম সভায় ভুলত্রুটিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবো।’

‘পরিশেষে বলবো দীর্ঘ ১৭ বছর পর আমরা একটি ম্যারাথন কমিটি দিতে পেরেছি, জেলার সব ত্যাগীদের স্থান দেওয়া এক কমিটিতে সম্ভব পর হয়ে ওঠেনা। অনেককে তাদের ত্যাগের যোগ্য স্থানে বসার সম্ভব হয়নি। তার সবচেয়ে বড় ব্যার্থতা পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া করার সময় একটি ছোট পরিসরে আলোচনা করলে ভালো হতো। পরিশেষে যারা যোগ্য ছিলেন কিন্তু পদ বঞ্চিত হয়েছেন তারা ক্ষমা দৃষ্টিতে নিবেন এবং মনে রাখবেন এই কমিটি শেষ কমিটি না, আজ যারা ক্ষমতা পেয়ে ক্ষমতা অপব্যবহার করছে আগামী দিন কিন্তু তারা আস্তুাকুড়ে নিক্ষেপ হবে। নারায়ণগঞ্জ জেলার ইতিহাসে কিন্তু তাই বলে। দেশনায়ক তারেক রহমান দলের এই দুঃসময় সবাইকে ঐক্যবদ্ব থাকতে বলেছে তাই ভুলগুলো ক্ষমাদৃষ্টিতে নিয়ে আগামী আন্দোলন সংগ্রামে কাধে কাধ মিলিয়ে রাজপথে শরিক হয়ে এই তাবেদার সরকারের কারাগার থেকে আমাদের মা গনতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং মামলা হামলা বাজ রাতের ভোটে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসে থাকা জুলুমবাজ সরকারকে বিদায় করতে হবে। পরিশেষে বলবে কিছুু ভূল ছাড়া মন্দের ভাল হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা মনোনীত নবগঠিত কমিটি।’

প্রসঙ্গত আংশিক কমিটির দুই বছর পর পূর্ণাঙ্গ হলো নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি। সভাপতি সেক্রেটারী সহ ২০৫ জনের ওই কমিটির তালিকায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষর করেন গত ২৩ মার্চ। তবে গত ১৫ দিনেও এই কমিটিকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি দলটি। পদত্যাগ এবং মৃত্যু হওয়ায় কয়েক জনের নাম বাদ দিয়ে বাকিদের নিয়ে এই কমিটি করা হয় যেখানে ৮৫ জনকে সাংগঠনিক পদ এবং নির্বাহী সদস্য করা হয় ১২০ জন নেতাকে। সভাপতি এবং সেক্রেটারীসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ করা ছাড়া তেমন কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। এই কমিটিতে সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং সেক্রেটারী করা হয়েছে অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে।

স্বাক্ষরিত এই কমিটিতে সহ-সভাপতি ১৫ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ৫জন, সাংগঠনিক সম্পাদক ৩ জনসহ বিভিন্ন সম্পাদক পদ ৩৯ জনকে দেয়া হয়েছে। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ৩জন, সহ-দপ্তর সম্পাদক ২ জন, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক ৩জনসহ মোট ৩০ জন সহ-সম্পাদক করা হয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও