আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে নির্বাচন করা নেতা পেল জেলা বিএনপির পদ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৯ পিএম, ১৩ এপ্রিল ২০১৯ শনিবার

আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে নির্বাচন করা নেতা পেল জেলা বিএনপির পদ

গত ২৩ মার্চ গঠন করা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২০৫ সদস্য বিশিষ্ট জাম্বু কমিটি নিয়ে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে নানা আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই কমিটি নিয়ে রয়েছে চরম ক্ষোভ। তারা চরম মাত্রায় বিরক্তি প্রকাশ করছেন জেলা বিএনপির শীর্ষ পদে থাকা নেতাদের নিয়ে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে ভালভাবে যাছাই বাছাই করা হয়নি।

জেলা বিএনপির এবারের কমিটিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের কোন কোন নেতা কিংবা তাদের সমর্থিতরাও জায়গা করে নিয়েছেন। যার প্রমাণ হচ্ছে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে জায়গা পাওয়া মোশারফ হোসেন। যার বিরুদ্ধে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতাদের পক্ষ নিয়ে নির্বাচন করার অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া সোনারগাঁ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রাথী ছিলেন মোশারফ হোসেন। সেবারের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী হয়েও মোশারফ হোসেন জয়লাভ করতে পারেনি।

এদিকে বিএনপি অনেক দিন ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। বিএনপির খারাপ অতিবাহিত হওয়ায় অনেকেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে ভিড়তে থাকেন। আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। যার ধারাবাহিকতায় সোনারগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রাথী মোশারফ হোসেনও আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। যার সূত্র তাদের সাথে নির্বাচনও করেছেন। সেই সাথে প্রকাশ্য বিভিন্ন সভা সমাবেশে হাজির হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়ে যায় সোনারাগাঁ উপজেলার নির্বাচন। এই নির্বাচনের আওয়ামীলীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহফুজুর রহমান কালাম। তার পক্ষে বিভিন্ন সভা সমাবেশে মোশারফ হোসেনকে দেখা গেছে। ফলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধরে নিয়েছিলেন বিএনপি থেকে বেশি সুবিধা আদায় করতে না পারায় মোশারফ হোসেন হয়তো আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন। সেই সূত্র ধরে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালামের নির্বাচনও করেছেন।

কিন্তু সেই বিতর্কিত নেতা মোশারফ হোসেনকেই এবার জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঠাঁই দেয়া হয়েছে। সেই সাথে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে তাকে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। তবে তাকে মেনে নিতে পারছে না বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতা থাকতে মোশারফ হোসেনের মতো বিতর্কিত নেতাকে কেন জেলা বিএনপিতে স্থান দেয়া হল। তারা কমিটি নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২৬ জনের আংশিক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে সভাপতি ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে সাধারণ করে জেলা  বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে তারা আংশিক কমিটিতে থাকাবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেনি।

ওই কমিটি ঘোষণার পর প্রায় ২ বছর পর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ২০৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কিমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এই কমিটি গঠন করা হয় আংশিক কমিটির পদে থাকা নেতাদের সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে। বাদ দেয়া হয়েছে জেলার অনেক সিনিয়র নেতাকে। কোন কোন নেতা কমিটিতে জায়গা পেলেও তাদেরকে সম্মানজনক পদে রাখা হয়নি। সেই সাথে ত্যাগী নেতাদেরকেও মূল্যায়ণ করা হয়নি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও