ঝগড়ায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৩:৪৮ পিএম, ১৪ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার

ঝগড়ায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ

নারায়ণগঞ্জ সব সময়ে নেগেটিভ বিষয়েই আলোচিত হয়ে উঠে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই নারায়ণগঞ্জ আলোচিত হয়ে উঠেছেন পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ ইস্যুতে। গত মাসে আলোচনায় ছিল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে জামায়াত ও বিএনপি কানেকশন সম্পৃক্ততার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি। পরবর্তীতে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডির পর পাল্টাতে থাকে দৃশ্যপট। সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ঘোষণা দেন তিনি মামলা করবেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদেরের বিরুদ্ধে। ঘোষণার দুইদিন পরেই মঞ্জুর কাদেরকে বদলী করা হয়। আর পুরো উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দেয় মেরি এন্ডারসনে ডিবির অভিযানের পর মদ বিয়ার উদ্ধারে শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটুর নাম আসাকে কেন্দ্র করে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের সভা, আলটিমেটাম, আওয়ামী লীগের বিশেষ জরুরী সভার পর পরিস্থিতি ছিল উত্তাপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিরোধের কারণেই নারায়ণগঞ্জে থমকে আছে অনেক উন্নয়ন কাজ। শহরের ফুটপাত উচ্ছেদের ধীরগতি নেমে এসেছে পুলিশ প্রশাসনের কাছ হতে। আগের মত যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে শহরে যানজট সৃষ্টি করা হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের সাথে সাংসদদের সম্পর্ক তেমন একটা ভালো যাচ্ছে না। একের পর এক ঘটনায় তারা দিন দিন বিপরীতমুখী অবস্থানের দিকে ধাবিত হয়। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাংসদদের সাথে পুলিশ প্রশাসনের বিপরীতমুখী সম্পর্ক আরও বেশি ঘনীভূত হয়। সাংসদরা বিভিন্ন সভা সমাবেশে পুলিশ প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে বিরোধীতামূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনও নমনীয় না হয়ে আরও বেশি কঠোরতার দিকে ধাবিত হচ্ছেন। ফলে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আসনের সাংসদদের সাথে পুলিশ প্রশাসনের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে।

নগরবাসীর অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে একজন আরেকজনের পেছনে লেগে থাকে সেটা যদি এক টেবিলে বসা হতো তাহলে বদলে যেতে পুরো পরিস্থিতি। কারণ ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সভায় এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, আমাদের মধ্যে কিছু তর্কবির্তক হয়। অনেক সময় হতে পারে। এটা একেক জনের একেক আইন, জেলা প্রশাসনের এক আইন, পুলিশ প্রশাসনের এক আইন ও সংসদ সদস্যের এক আইন। আইন কিন্তু তিনটা। আবার সিটি করপোরেশনের আলাদা আইন। যদি লিখিত ভাবে সিটি করপোরেশন আমাকে বলেন, আমি আপনার সহযোগিতা চাই। বাস স্ট্যান্ড, ট্রাক স্ট্যান্ড নিয়ে অনেকগুলো কথা বলেছিল কিন্তু কথাগুলো শেষ হওয়ার পরে তাদের যে চাহিদা ছিল সেই চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারি নাই।

অপরদিকে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেছেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলতে পারি। নারায়ণগঞ্জের কোন এমপির সঙ্গে আমার কোন বিরোধ নাই। তাদের সঙ্গে কোন বিষয় নিয়ে আমার দ্বিমত নাই। আমরা আমাদের কাজ করছি। আপনাদের সাথে তো আমাদের কোন বিভেদ ঝগড়া নাই। আমরা আমাদের মত কাজ করে নারায়ণগঞ্জকে শান্তির সুন্দর করতে চাই।

নাগরিক সমস্যা
নগরবাসীর অভিযোগ রাজধানী ঢাকাকে টপকে গেছে নারায়ণগঞ্জ। শুধু কী ঢাকা, দেশের সবগুলো বড় শহরকে ছাড়িয়েছে নারায়ণগঞ্জ। এই অর্জন ভালো কিছুতে নয়, বায়ু দূষণে নারায়ণগঞ্জের সর্বোচ্চ অবস্থান। কিন্তু এসব নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের নেই কোন মাথাব্যাথা।

শহর ও শহরতলীর কোন কোন এলাকায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস থাকেনা। এরপর সন্ধ্যার পর থেকে গ্যাস থাকলেও এর পরিমাণ খুবই কম থাকে। আবারো রাতের সময়ে গ্যাসের পরিমাণ অনেকটা কমে আসে। তবে অধিকাংশ এলাকায় দুপুর ব্যতিত সকাল বিকেল দু বেলা গ্যাস থাকেনা। এরপর সন্ধ্যা থেকে গ্যাস আবার ফিলে এলেও তার পরিমাণ অনেকটা কম থাকে। আবার রাত হতেই গ্যাস চলে যায়। এভাবে গ্যাস নিয়ে তীব্র বিড়ম্বনার শিকার হতে হয় জনসাধারণকে। তবে রাতের বেলা গ্যাস থাকে বলে অনেক গৃহিনী রাত জেগে রান্না করে থাকে। এতে জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকাতে ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া পানিতে আসছে কালচে হয়েও। পানিতে থাকছে বিদঘুটে গন্ধ। পান করা তো দূরের কথা ব্যবহার করাটাই হয়ে উঠছে দুস্কর। গত কয়েকদিন ধরেই ওয়াসার এ পানির চিত্র। ভুক্তভোগীরা জানান, নারায়ণগঞ্জ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা, নোংরা, কীটযুক্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহকৃত পানি পান করা তো দূরের কথা রান্নাবান্না, গোসল ও অজু করা সহ দৈনন্দিন কাজ করা যাচ্ছে না। সরবরাহ কৃত পানি ব্যবহারের কারণে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় জ্বর, বমি, চর্মরোগ সহ বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ অবস্থা আর কিছুদিন চললে নারায়ণগঞ্জে মহামারী আকার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিবে।

শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী চলাচল করে। এই শহরে মধ্যেই কয়েকটি কলেজ রয়েছে। এসব পথচারী নুন্যতম ৫টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঝুকিপূর্ণ মোড় পাড়ি দিয়ে চলাচল করেন। এ সকল মোড়ে প্রতিদিন কোন না কোন দুর্ঘটনা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ পথচারীরা। অথচ পাশেই ঢাকায় অনেক ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে যা অব্যবহৃত রয়ে গেছে। শহরের চাষাঢ়াতে ব্রিজ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। পুরো বঙ্গবন্ধু সড়ক এখন যানজট থাকে। কয়েকটি স্থানে জেব্রা ক্রসিং দিলেও নাই ফুটওভার ব্রীজ।

নারায়ণগঞ্জে এমন একটি শহর যেখানে কোন মেডিকেল কলেজ নাই। বিশ্ববিদ্যালয় নাই। অথচ ঢাকার পাশে গাজিপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে ঢাকার অতিনিকটে নারায়ণগঞ্জ হওয়ার পরও উচ্চ শিক্ষার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই। অনেক জনপ্রতিনিধি এর অভাব মনে করে গড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও মেয়াদের শেষে এসে এর কোন প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। এতে হতাশ ছাত্র ছাত্রীরা।

একটু ভারী বর্ষণ হলেই পুরো শহরে পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভারী বর্ষণে নারায়ণগঞ্জ শহরেও দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। বৃষ্টিতে শহরের প্রায় সবগুলো এলাকার সড়কগুলো পানির নিচে রয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কেও বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতা দেখা দেয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও