পিটুনীতে পুলিশ হাসপাতালে, উল্লাস করে ছাড়া পেল হামলাকারী ছাত্রলীগ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২১ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০১৯ বুধবার

পিটুনীতে পুলিশ হাসপাতালে, উল্লাস করে ছাড়া পেল হামলাকারী ছাত্রলীগ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় আটক একজনকে ছাড়াতে গিয়ে পুলিশের উপর হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা ও আটককৃতকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর ওই ঘটনায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে নিজ বক্তব্য থেকেও সরে আসেন আড়াইহাজার থানার ওসি আকতার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, সেখানকার স্থানীয় এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে আলোচনা করেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

১৭ এপ্রিল বুধবার দুপুরে উপজেলার গোপালদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে দুপুরে ওসি জানালেও বিকেলে জানান সেখানে হামলা হয়নি। হামলা হয়েছে নজরুল ইসলাম বাবু কলেজের সামনে।

দুপুরে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, বুধবার সকাল ১১টায় মাদক সেবন ও ইভটিজারের অপরাধে উপজেলার রামচন্দ্রদী গ্রামের জামালউদ্দিনের ছেলে দিদার ইসলামকে গোপালদী বাজার থেকে আটক করা হয়। তার  আটকের খবর জানতে পেরে গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সুজয় সাহা সহ আরো কয়েকজন দিদারকে ছাড়িয়ে আনতে তদন্ত কেন্দ্রে যান।

এই সময় পুলিশ তাকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে সুজয় পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এটিএসআই মামুন তার প্রতিবাদ করলে সুজয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। সুজয় মোবাইলে তার সহযোগীদের তদন্ত কেন্দ্রে এনে পুলিশের উপর হমলা চালাতে থাকে।

এ খবর আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসনে জানতে পেরে নিজেই অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে সুজয় ও দিদারকে আটক করে থানায় নিয়া আসেন।

আহত এটিএসআই মামুন, কনস্টেবল আবুল বাশার ও ইমরানকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার শিকার এটিএসআই মামুন বলেন, গোপালদী এলাকার আশপাশ থেকে ইভটিজিং এর অভিযোগ আসছিলো অনেক দিন থেকেই। আমরা বুধবার সকালে দিদারকে আটক করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে এসে তাকে তার অভিভাবকদের ফোন দিতে বলি। সে ছাত্রলীগ নেতা সুজয়কে ফোন করে তদন্ত কেন্দ্রে আসতে বলে। সুজয় এসেই ক্ষিপ্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে দিদারকে গ্রেফতার করেছে। আমি আটক করেছি বললে সে আমাকে তুইতোকারি করে বলে, তর এত বড় সাহস তুই তারে নিয়ে আসছোস। তুই হেরে চিনোস। আমি কাছে যাওয়ার পরপরই আমাকে ঘুষি দিয়ে ফেলে দেয়। ফাঁড়ি উড়িয়ে দিবে, গুলি করে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এরপর ২কনস্টেবল এগিয়ে আসলে সুজয় ও তার সাথে লোকজন আমাদের বেকধড়ক পিটিয়ে আহত করে।


আটককৃত ২জনকে ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে মামুন বলেন, পুলিশের উপর হামলার পর কেন তাদের ছেড়ে দেয়া হল এটা আমার মাথায় আসছেনা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই ভালো বলতে পারবেন। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা করার ইচ্ছা থাকলেও এখন কিছুই বলতে পারছিনা। আমি একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি। 

তবে বিকেলে ওসি জানান, একটা একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল। সে কারণেই দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি এমপি সাহেবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও