পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় আকরামের বাস বন্ধ করলো আইউব আলী

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০৭ পিএম, ৮ মে ২০১৯ বুধবার

পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় আকরামের বাস বন্ধ করলো আইউব আলী

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা বন্ধন পরিবহনের মালিক আকরাম প্রধানের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ পরিবহনের নিয়ন্ত্রক আইউব আলীর নির্দেশে ওই বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।

গত ৩০ এপ্রিল আকরাম প্রধানকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠে আইউব আলীর নেতৃত্বে। আকরাম এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলেও কোন প্রতিকার হয়নি।

৮ মে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করা বন্ধন পরিবহনের অফিস সেক্রেটারী তাজুল ইসলাম প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে নারায়ণগঞ্জে পরিবহন ব্যবসাকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিশেষ একটি মহলের প্ররোচনায় আকরাম প্রধান যিনি “২০ দলীয় জামাত জোট বিএনপি’র একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী” তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা ও ফতুল্লা মডেল থানায় নারী অনেক মামলা আছে।

অফিসের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বিভিন্ন মালিকদের প্রাণনাশের হুমকী দেয় এবং নিজেকে বাঁচাতে সিটি বন্ধন পরিবহন লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আইয়ুব আলী, গাড়ীর মালিক মোঃ মিলন ও গাড়ীর মালিক দেলোয়ার হোসেন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার সহ নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মিথ্যা অভিযোগ এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে আকরাম প্রধান। যার প্রেক্ষিতে গত ৬ মে উক্ত পরিবহনের জরুরী সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ৪১ জন মালিকের মধ্যে ৪০ জন মালিক উপস্থিত ছিলেন। মালিকেরা আকরাম প্রধানের উপর অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। সিটি বন্ধন পরিবহন লিঃ এর নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাহার ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৩৫২৪ নং বাসটি সর্ব সম্মতিক্রমে সিটি বন্ধন পরিবহন লিঃ এর সিরিয়ালে বা ব্যানারে আর চলাচল করতে দেওয়া হবে না। যদি আকরাম প্রধান জোর করে তার গাড়ীটি চালাতে চাঁন তবে সকল সিটি বন্ধন পরিবহন লিঃ এর সকল গাড়ী বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তবে আকরাম প্রধান জানিয়েছেন, আইউব আলীর নির্দেশেই তার বাসটি বন্ধ করা হয়েছে। সে জোর করে মালিকদের ভয় ভীতি দেখিয়ে সভায় ডেকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জানতে আইউব আলীকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি।

৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় আকরাম অভিযোগে লিখেন, আইউব আলী সংসদ সদস্যের এবং কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাছের মানুষ পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি মালিকদের জিম্মি করে রাখে। যে সব মালিক তাদের লুটপাটে অতিষ্ঠ হয়ে বাস নিয়ে বের হয়ে যেতে চায় তাদের কোন ভাবেই বের হতে দেয় না। যদি তারা বিক্রি করতে চায় তাহলে তা তারা নিজেরাই কম দামে কিনে নেয়। পরে তা বেশি দামে বিক্রি করে অন্যদের কাছে। এমনি করে মালিকদের জিম্মি করে রাখে। যারা একটু তাদের বাইরে কথা বলতে চায় তখনি তাদের উপর নেমে আসে অপমান-অপদস্থ। তার পরও কথা বলতে চাইলে তাদের হুমকী-ধমকী, ভয়-ভীতি দেখানো হয়। কোন কোন সময় মালিকদের গায়ে হাত তুলে এই চক্রটি। তাদের হাত থেকে বাঁচতে থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হয় অসহায় এই মালিকরা।

বন্ধন পরিবহনে প্রকৃত অর্থে কতটাকা আয় হয়েছে বাস মালিকেরা জানে না। এ সরকার আসার পর বাস মালিকেরা কোনদিন হিসেবের খাতা পত্র দেখতে পায়নি।

প্রসঙ্গত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে নিউ বন্ধন পরিবহনের কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালে। ওই সময়ে কমিটির সভাপতি করা হয় সালাউদ্দিন আহমেদকে। সেক্রেটারী হন মিলন হাওলাদার। কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন আইউব আলী। ২০০৯ সালের জানুয়ারীতে এ আইউব আলীর নেতৃত্বে একদল পরিবহন নিয়ন্ত্রকেরা বন্ধন পরিবহন দখল করে নেয়।

এদিকে গত কয়েক বছর ধরেই বন্ধন পরিবহনে ব্যাপক চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী সিটি বন্ধন পরিবহনের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে থানায় অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না। হরিলুটের অভিযোগ করায় উল্টো ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী একজন ব্যবসায়ী জানান, ৬ মে আইউব আলী উল্টো বাস মালিকদের হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলছেন পুলিশ সুপার তথা এসপি সাহেব নাকি বেশীদিন টিকবে না। তখন আন্দোলনকরাদের দেখিয়ে দিব।

প্রতিদিন এই বন্ধন পরিবহনের আয়ের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে অদৃশ্য কারো হাতে। এই অদৃশ্যকে খাতায় কলমে দেখানো হচ্ছে ম্যানেজমেন্ট এবং অন্যান্য ব্যায় হিসেবে। প্রতিদিন এই খাতে পরিবহন সংস্থাটি দিয়ে থাকে ৭১ হাজার টাকা। যা অনেক সময় আয়ের তারতম্যে বেড়ে যায়।

জানা যায়, প্রতিদিন কাউন্টার থেকে আয় হয় ৪৬ হাজার টাকা। অফিস বাবদ খরচ হয় সাড়ে ১১ হাজার টাকা। ম্যানেজমেন্ট ব্যয় হয় ৪১ হাজার টাকা, এনাদার ব্যায় দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। সব কিছু শেষে গাড়ির মালিক পায় ট্রিপ প্রতি ৭৭০ টাকা। দিনে ১০ ট্রিপ দিতে পারলে সেই গাড়ির মালিক পায় ৭ হাজার ৭ শত টাকা। এই হিসেবে বাস মালিকদের থেকে কয়েক গুণ বেশি আয় করে অদৃশ্যরা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও