ধানের শীষ পাওয়া ঐক্যফ্রন্ট, জোট নেই বিএনপির পাশে

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩২ পিএম, ১১ মে ২০১৯ শনিবার

ধানের শীষ পাওয়া ঐক্যফ্রন্ট, জোট নেই বিএনপির পাশে

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীরা একেবারেই ঝিমিয়ে পড়েছেন। মামলা গ্রেফতারে জর্জরিত নেতাকর্মীদের পাশে পাচ্ছেন না দলের অভিভাবক খ্যাত সাবেক সংসদ সদস্য, বর্তমান জেলা কিংবা মহানগরের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদের।

জানা যায়, দলের বেহাল অবস্থায় থাকা নেতাকর্মীরা একের পর এক মামলায় প্রায় প্রতিদিনই হাজিরা দিচ্ছেন আদালতে। জামিন নিতে যাওয়া, হাজিরা দেওয়া নেতাকর্মীদের এখন প্রতিদিনের কর্মতালিকার অংশ হয়ে পড়েছে। দলের নেতাকর্মীদের পাশে এই দুঃসময়ে কেউ এসে দাঁড়াচ্ছেন না বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

সর্বশেষ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়া নারায়ণগঞ্জের দুই প্রার্থীর তো একেবারেই খবর নেই। নির্বাচনের আগে যেমন ঢাক ঢোল বাজিয়ে দলে উড়ে এসে জুড়ে বসেছিলেন, নির্বাচন শেষে ঠিক তেমনি চলে গেছেন নীরবেই।

নির্বাচনের আগেই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে ধানের শীষ দেয়া হয় ঐক্যজোট মনোনীত ও নাগরিক ঐক্যের এসএম আকরামকে। এসএম আকরাম ছিলেন এখানকার সাবেক এমপি। ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর জেলা আওয়ামীলীগের আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করে সাবেক এমপি এসএম আকরাম যোগ দেন নাগরিক ঐক্যে। আকরামকে মনোনয়ন দেয়ায় অনেক বিএনপি নেতার নাখোশ হয়েছিলেন তবে কাজ করেছেন ধানের শীষের পক্ষে। সেই আকরামই নির্বাচনের আগে দলীয় নেতাকর্মীদের কিছুটা খোঁজ খবর নিলেও নির্বাচনের পরে নেই ধানের শীষের সাথে।

এর চেয়ে খারাপ অবস্থা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। এখানে ২০ দলীয় জোটের জমিয়তের মহানগরের সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে দেয়া হয় ধানের শীষের প্রার্থী। কাসেমী নির্বাচনের আগে থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের থেকে থেকেছেন দূরে। হেফাজতে ইসলামের কিছু নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি চলাফেরা করেছেন। নির্বাচনের আগে গ্রেফতারের ভয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে নির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট পর্যন্ত তিনি দিতে পারেননি বলে নেতাকর্মীদের অভিযোগ।

আরো অভিযোগ আছে তিনি সরকারের সাথে আতাত করে নির্বাচনের আগেই মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন। এমন নেতাদের মনোনয়ন দিতে ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে দলের অবস্থান শূন্য করেছেন বলে নেতাকর্মীরা জানান।

নেতাকর্মীদের মতে, এসব নেতারা নির্বাচনের আগেও যোগাযোগ করেনি, পরেও কোন যোগাযোগ করেনি। নির্বাচনের পর তো মাঠ থেকেই উধাও। দুইজন প্রার্থীর একজনও নারায়ণগঞ্জে থাকেন না। নারায়ণগঞ্জে বিএনপির কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে তাদের কোন যোগাযোগও নেই। এমনকি নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনের কাজ করতে গিয়ে যেসব নেতাকর্মীরা হামলা মামলার শিকার হয়েছে নির্বাচনের পরেও তাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি তারা।

আগামীতে দলীয় নির্বাচন কিংবা কোন কাজে এ ধরনের কোন ভূইফোড়, উড়ে এসে জুড়ে বসা নেতাদের আর কর্মীরা মেনে নেবেনা বলে হুশিয়ারি দিয়ে জানান, শুধু তাই নয়, জেলা ও মহানগরের যেসব নেতাদের শীর্ষ পদে রাখা হয়েছে তারাও ব্যর্থ। রাজপথের কর্মসূচী পালন কিংবা নেতাকর্মীদের সাথে এসব শীর্ষ নেতাদের কোন যোগাযোগ নেই। দলীয় কার্যক্রমও জেলা ও মহানগরের শীর্ষ নেতারা সঠিকভাবে করছেন না। তাই এসব নেতাদের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা উচিত।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও