কারাগারে নূর হোসেন : ৫ বছর ধরে পলাতক শাহজাহান ও সানা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৩৬ পিএম, ১১ মে ২০১৯ শনিবার

কারাগারে নূর হোসেন : ৫ বছর ধরে পলাতক শাহজাহান ও সানা

ভিন্ন এক রাজ্যের রাজা নূর হোসেনের ৯ সহযোগীরই নি¤œ আদালতে ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে তাদেরকে যাবজ্জীবন দন্ডে দন্ডিত করেছেন হাইকোর্ট। কিলিং মিশনে উপস্থিত থাকা নূরের ৯ সহযোগীর প্রত্যেকেই ছিল দুর্ধর্ষ। তাদের বেশীরভাগের নামেই অস্ত্রের লাইসেন্সও নিয়েছিল নূর হোসেন। তবে আলোচিত ৭ খুনের ৫ বছর ধরেই পলাতক রয়েছে দুর্ধর্ষ কিলার বরিশাইল্যা শাহজাহান ও সানাউল্লাহ সানা। তারা বর্তমানে কোথায় আছে তা জানে না কেউই। তবে নূর হোসেনের সঙ্গে বর্তমানে কারাবন্দী রয়েছেন কিলিং মিশনে থাকা ৭ সহযোগী।

জানা গেছে, একসময়ের ট্রাক ড্রাইভার থেকে ভিন্ন এক রাজ্যের রাজা বনে যাওয়া ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামী নাসিকের ৪ নং ওয়ার্ডের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের বহিস্কৃত সহ সভাপতি নূর হোসেনের চলাফেরাও ছিল অনেকটা রাজকীয় স্টাইলে। নূর হোসেন যেখানেই যেতো সঙ্গে থাকতো তার বিশাল গাড়িবহর। যাতে থাকতো অন্তত ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি। সঙ্গে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের বিশাল ভান্ডার। নিজের অনুগত ক্যাডার বাহিনীর সঙ্গে প্রশিক্ষিত গানম্যানতো থাকতোই। তার রাজত্বে অভিযান চালানোতো দূরের কথা বরং প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সবকিছু চলতো।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারী সকাল ১০টা ৪মিনিট থেকে ১০টা ৯ মিনিট পর্যন্ত তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন আলোচিত ৭ খুন মামলার রায় ঘোষণা করেন। নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নাসিকের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকুরীচ্যুত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, উপ অধিনায়ক মেজর (অব:) আরিফ হোসেন ও ক্যাম্প ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (অব:) এম এম রানাসহ ২৬ জনের ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। বাকি ৯ জনের মধ্যে অপহরণ ও লাশ গুমের সঙ্গে জড়িত থাকায় এক আসামীকে ১৭ বছর, অপহরণের সঙ্গে জড়িত থাকায় ৬ জনকে ১০ বছর এবং লাশ গুমে জড়িত থাকায় ২ জনকে ৭ বছরের কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

পরে মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের জন্য বিষয়টি হাইকোর্টে পাঠানো ছাড়াও রায়ের বিরুদ্ধে ২৮ আসামি হাইকোর্টে আপিল করেন। আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদন্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৭ সালের ২২ আগস্ট ৭ খুনের মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদন্ড বহাল রেখে রায় দেন। হাইকোর্ট বিচারিক আদালতে মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া ১১ আসামির দন্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। গত বছরের ১৯ নভেম্বর দুই মামলায় মোট ১৫৬৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। পরে আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান। নূর হোসেনের ৯ সহযোগীর মধ্যে এখনো পলাতক রয়েছে ২ সহযোগী শাহজাহান ও সানাউল্লাহ সানা।

এদিকে নূর হোসেন বাহিনীর অন্যতম শাহজাহান ওরফে বরিশাইল্যা শাহজাহান ছিল সিদ্ধিরগঞ্জের মূর্তিমান আতঙ্ক। মাদকব্যবসা, চাঁদাবাজি, মারপিট, খুন, গুম, অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল আলোচিত ৭ খুনের ৬ বছর আগেও সিদ্ধিরগঞ্জের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বিভিন্ন অপরাধ করতো শাহজাহান। শরিয়তপুর জেলার বরপা ইউনিয়নের সুতারকান্দি গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর পুত্র শাহজাহান থাকতো সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআঁটির লিটনের বাড়ীতে। মাসে ৯ হাজার টাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করা শাহজাহানের নিজস্ব কোনো বাড়ি ছিলনা। ছিলনা ব্যবসাও। যদিও স্বনামধন্য ব্যবসায়ী হিসেবে শর্টগানের লাইসেন্স (নং ৫১৭/১৩) পেয়েছিলেন তিনি। অথচ শাহজাহানের মা আলেয়া বেগম ৭খুনের ঘটনার ৬ বছর আগেও সিদ্ধিরগঞ্জের জেএমএস গ্লাস ফ্যাক্টরিতে মাত্র ৩ হাজার টাকা বেতনে শ্রমিকের চাকুরি করে মানবেতর জীবিকা নির্বাহ করেছেন। শাহজাহানের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সিএনজি চালক আখতার উদ্দিন আস্তু হত্যা মামলা (নং ৩৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১১) বিচারাধীন রয়েছে। ৭ খুনের পর থেকে এখনো পলাতক রয়েছে শাহজাহান।

৭ খুনের ঘটনার কয়েক বছর আগেও সিদ্ধিরগঞ্জে পানি বিক্রি করতো সোনারগাঁও উপজেলার আলসাদি গ্রামের জয়নাল পুত্র সানাউল্লাহ ওরফে সানা। খুন, গুম, অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধে দক্ষ সানাউল্লাহ পেয়েছেন শর্টগানের লাইসেন্স (নং ৫৩৩/১৩)। যদিও ৭ খুনের কিছুদিন আগেও সানাউল্লাহ সানার পিতা জয়নাল আবেদিন জেএমএস গ্লাস ফ্যাক্টরিতে ৭ হাজার টাকা মাসিক বেতনে শ্রমিকের চাকুরি করে সংসার চালিয়েছেন। ওই গ্লাস ফ্যাক্টরিতে তখনো সানার ভাই নবী হোসেন চাকুরি করে খুব কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করতো। ৭ খুনের ঘটনার আগে সানা শিমরাইল টেকপাড়ার আক্কেল আলীর বাড়িতে ৮ হাজার টাকায় ভাড়া থাকতো। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে পাঁচ-ছয়টি মামলা হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও