আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব সৃষ্টিতে এগিয়ে শামীম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৪৩ পিএম, ১১ মে ২০১৯ শনিবার

আওয়ামী লীগে নেতৃত্ব সৃষ্টিতে এগিয়ে শামীম ওসমান

নানা সমালোচনা হলেও নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগি সংগঠনে নেতৃত্ব সৃষ্টিতে এগিয়ে আছেন প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান যিনি এক সময়ে নিজেও ছাত্রলীগ থেকে বেড়ে উঠেছেন। এরই মধ্যে তিনি নারায়ণগঞ্জ আদালত পাড়াতেও তুখোড় সাংগঠনিক নেতাদের দিয়েও আইনাঙ্গনেও নেতৃত্ব সৃষ্টি করে চমক দেখিয়েছেন্

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, শামীম ওসমানের যারা পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ বিরোধীতা করে আসছেন তারা নিজেরাই এখন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে আসীন হয়েছেন। কিন্তু সহযোগি সংগঠন বিশেষ করে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগে বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিপরীতে এসব সংগঠনে শামীম ওসমানের অনুগামীদের প্রজন্ম কেন্দ্রীক নেতৃত্ব গড়ে উঠায় নতুন নেতৃত্বও থাকছে তাঁর কব্জাতেই।

আইনজীবী সমিতি
আদালত পাড়া সূত্র মতে, নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতপাড়ার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব সব সময়েই ছিল দুইজনের হাতে। তাঁরা হলেন দলের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিসুর রহমান দিপু ও মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা। তবে দুই বছর ধরে নির্বাচনে হঠাৎ করেই সেটা মিইয়ে যেতে শুরু করে। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারী আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে দিপু ও খোকন সাহার পছন্দের অনেক প্রার্থীকেই প্যানেলভুক্ত করা হয়নি। তখন এমপি শামীম ওসমান তার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী হাসান ফেরদৌস জুয়েলকে সভাপতি ও মোহসীন মিয়াকে সেক্রেটারী করেই প্যানেল গঠন করা হয়। অনেক কাঠখোড় শেষে ২০১৮-২০১৯ সালের সমিতির নির্বাচনে এ দুইজন সহ ৬ জনের জয় আসলেও সমিতিতে ১৭ পদের মধ্যে ১১টিতে জিতে যায় বিএনপি।

২০১৯-২০ নির্বাচনে আবারও বিপুল ভোটে পুরো প্যানেলের দাপুটে জয় পায় জুয়েল মোহসিন ও প্যানেল। নির্বাচন শুরুর আগ থেকেই জুয়েল মোহসিন প্যানেল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জয়লাভ করবেন এমনটা ধারণা ছিল আগে থেকেই। কিন্তু ১৭টি আসনের ভেতর ১৬টি আসনে জয় পেয়ে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা অবাক হয়েছেন নিজেরাও।

ছাত্রলীগ
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছেন আজিজুর রহমান আজিজ ও সেক্রেটারী হয়েছেন আশরাফুল ইসমাইল রাফেল। তাঁদের মধ্যে আজিজ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাফেল জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদে ছিলেন। অপরদিকে মহানগর ছাত্রলীগের মহানগরের সভাপতি করা হয়েছে আহবায়ক পদে থাকা হাবিবুর রহমান রিয়াদকে। আর সেক্রেটারী হয়েছেন যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে থাকা হাসনাত রহমান বিন্দুকে। এ চারজনই শামীম ওসমানের অনুগামী। এর আগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন সাফায়েত আলম সানি আর সেক্রেটারী মিজানুর রহমান সুজন। তাছাড়া মহানগরের আহবায়ক ছিলেন হাবিবুর রহমান রিয়াদ। তাঁরা সকলেই শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে সানি ও সুজনকে দিয়ে কমিটি করার আগে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এহসান হাসান নিপু যিনি শামীম ওসমানের চাচাতো শ্যালক।

যুবলীগ
জেলা যুবলীগের কমিটি হয়েছে ২০০৫ সালে। ওই সময়ে আবদুল কাদির হন সভাপতি ও সেক্রেটারী হয়েছিলেন আবু হাসনাত শহীদ বাদল। তাদের মধ্যে বাদলকে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী করা হয়েছে শামীম ওসমানের সুপারিশে। আবদুল কাদির জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হলেও তিনি যুবলীগের যখন সভাপতি হন তখন শামীম ওসমানের অনুকম্পা নিয়েছিলেন।

শহর যুবলীগের সভাপতি আছেন শাহাদাত হোসেন ভূইয়া সাজুন যিনি শামীম ওসমানের পক্ষের। আর সেক্রেটারী আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জল হলেন মেয়র আইভীর ছোট ভাই।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ
জুয়েল হোসেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। সেক্রেটারী সাইফউদ্দিন আহমেদ দুলালও শামীম ওসমানের অনুগামী। জুয়েল মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল ও শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজুনর ‘ভাগ্নে’। রাজনৈতিক অঙ্গনে জুয়েল ‘ভাগ্নে জুয়েল’ হিসেবেই পরিচিত।

কৃষকলীগ
জেলা ও মহানগর কৃষকলীগের কমিটিও শামীম ওসমানের পক্ষে। এ কমিটির জেলার সভাপতি হলেন নাজিমউদ্দিন যিনি আবার সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান। আর সেক্রেটারী ইব্রাহিম চেঙ্গিস সম্পর্কে শামীম ওসমানের বন্ধু।

মহানগরে সভাপতি মহানগরের সভাপতি আরমান হোসেন জুয়েল এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন যুবলীগের নেতা জিল্লুর রহমান লিটন। দুইজনই শামীম ওসমানের লোক।

যুব মহিলা লীগ
জেলা ও মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় কমিটি। ওই কমিটিতে জেলা যুব মহিলালীগের আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য সাদিয়া আফরিন, মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুইটি ইয়াসমীন।

আওয়ামী লীগ
মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা মূলত শামীম ওসমানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। শামীম ওসমানকে দিয়েই রাজনীতিতে বেড়ে উঠেন খোকন সাহা। যদিও বছরখানেক ধরে নানা কারণে তাদের মধ্যে বাহ্যিক কিছুটা দূরত্ব দেখা যায়। শামীম ওসমান ৭১ সদস্যের মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটির প্রথম সদস্য।

মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে সহ সভাপতি হিসেবে থাকা চন্দন শীল, মাসুদুর রহমান খসরু, রবিউল হোসেন, কমান্ডার গোপীনাথ শামীম ওসমানের পক্ষের লোক। এছাড়া যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, কার্যকরী সদস্য পদে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সেক্রেটারী হাজী ইয়াছিন, সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, জিএম পারভেজ সরাসরি শামীম ওসমানের রাজনীতি করেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও