নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার বিএনপির রাজনীতি : কখনো ঐক্য কখনো বিভেদ

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫০ পিএম, ১২ মে ২০১৯ রবিবার

নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার বিএনপির রাজনীতি : কখনো ঐক্য কখনো বিভেদ

নারায়ণগঞ্জ আদালতের রাজনীতিতে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দুর্দিন চললেও নিজেদের সাংগঠনিক ত্রুটি থেকে সরে আসতে পারেনি তারা। একাধিকবার বিবাদমান দুটি গ্রুপকে একত্রিত করার সুযোগ আসলেও ঘুরে ফিরে আবারও ভেঙ্গে যাচ্ছে ঐক্য। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কিংবা ছোট খাটো কর্মসূচীকে ঘিরে তৈরী হয়ে ফাটল। আর অতি উৎসাহী নেতাদের অযাচিত মন্তব্যে বিচ্ছেদ ঘটে পারস্পরিক সম্পর্কে।

মূলত নারায়ণগঞ্জ বারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মাঝে বিভেদের সূচনা ঘটে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। ২০১৭ সালের ৭জুন ২৮৩ সদস্যের ৩ বছর মেয়াদী জেলা কমিটি গঠন করা হয়। বলা হয় পুরো কমিটিতে একচ্ছত্র প্রভাব ছিল ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের। তার একচ্ছত্র প্রভাব ও মনঃপুত কমিটি না হওয়ার প্রতিবাদে সেই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন ১৪৪ জন আইনজীবী।

ফোরাম গঠনের ১০ দিনের মাথায় সাংবাদিক সম্মেলন করে ফোরাম থেকে বেরিয়ে আসেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলয়ের আইনজীবীরা। সেসময় আইনজীবী ফোরাম গঠনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেন সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে। একই বছরের নভেম্বরে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আদালতের রাজনীতিতে বিভাজন জিইয়ে রাখেন আইনজীবীরা।

২০১৮-১৯ বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষনিক সময়ের জন্য একত্রিত হলেও তা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। এমনকি বারের নির্বাচনী প্রচারনাকে কেন্দ্র করেও ছড়াতে থাকে উস্কানী মূলক বক্তব্য। তবে ডিজিটাল বার ভবন নির্মানকে কেন্দ্র করে প্রথম দফায় বার ভবন ভাঙ্গার বিরুদ্ধে একত্রিত হয় উভয় কমিটির নেতৃবৃন্দরা। সেখানেও সমন্বয়হীনতার অভাবে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমেই মিইয়ে গেছেন তারা।

সবশেষ ২০১৯-২০ বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একত্রিত হন বিবাদমান দুই কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ। তৈমূর আলম খন্দকার ও সাখাওয়াত হোসেন খান একসাথে চালিয়েছেন প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা। স্বস্তি বয়ে আসে আইনজীবীদের মাঝে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা অবশেষে ভেঙ্গে যাচ্ছে এমনটাই প্রত্যাশা করছিলেন সকলে। তবে নির্বাচন পরবর্তী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে অনশন কর্মসূচীতে দেখা যায়নি সাখাওয়াত বলয়ের আইনজীবীদের। যার ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজানে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে আবারও মাথাচাড়া দেয় বিদ্ধেষ।

ক্ষুদে বার্তায় ১৩ মে আয়োজন করা ওই ইফতার মাহফিল বর্জনের ডাক দিয়ে বিদ্রোহী কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদ খান ভাষানী বলেন, বিতর্কিত জাতীয়বাদী আইনজাবী ফোরামের ব্যক্তিরা ইফতার পার্টি আহবান করেছে। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও অ্যাডভোকেট সরকার হুমায়ুন কবির এই ইফতার পার্টির আয়োজন করেছে। তারা আওয়ামীলীগের দালাল, পেইড এজেন্ট। বিগত দিনে তারা ২ কোটি ২ লাখ হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। যা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। সকলেই জানে তারা একটি পরিবার থেকে টাকা নিয়ে নির্বাচন করছে। এই দালালদের কারণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ধ্বংস হয়ে যাবে।

তার এমন বক্তব্যের পর স্পষ্টভাবেই বিভাজন আবারও পরিষ্কার হয়ে উঠে। সংশি¬ষ্টরা বলছেন, নেতৃবৃন্দদের সঠিক দিক নির্দেশনার অভাব, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অযাচিত মন্তব্যের কারণেই টিকে থাকছেনা আইনজীবীদের ঐক্য। আর এতে করে দলীয় ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দল এবং ভুল পথে ধাবিত হচ্ছে নবীন আইনজীবীরা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও