তৈমূরপন্থীদের বাধার পরেও সাখাওয়াত পন্থীদের ইফতারে আইনজীবীদের ঢল

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২১ পিএম, ১৩ মে ২০১৯ সোমবার

তৈমূরপন্থীদের বাধার পরেও সাখাওয়াত পন্থীদের ইফতারে আইনজীবীদের ঢল

নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও একাংশের ডাকা ইফতারে যোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সেখানে এসেছিলেন জয়নাল আবেদীন ও মাহাবুবউদ্দিন খোকন। দুইজনের উপস্থিতি ভিন্ন মাত্রা যোগ করে ইফতারকে।

১৩ মে সোমবার হিমালয় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ওই ইফতারের মূল আয়োজক ছিলেন মূলত সাখাওয়াত হোসেন খান। বর্তমানে ফোরামের একটি বড় অংশ সাখাওয়াত পন্থী। এ ফোরামের যারা বয়কট ও বর্জন করেছেন তারা মূলত অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার পন্থী।

ইফতারে যোগ না দিতে গত কয়েকদিন ধরেই আদালতপাড়ায় চলছিল নানা ধরনের রাজনীতি। সাখাওয়াতদের ঠেকাতে একের পর এক মোবাইলের ম্যাসেজ যাচ্ছিল বিএনপির আইনজীবীদের কাছে।

তবে সোমবারের ইফতারে এর তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। বরং অন্তত তিন শতাধিক আইনজীবীর সরব উপস্থিতি ছিল ইফতারে।

মূলত নারায়ণগঞ্জ বারে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মাঝে বিভেদের সূচনা ঘটে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে। ২০১৭ সালের ৭জুন ২৮৩ সদস্যের ৩ বছর মেয়াদী জেলা কমিটি গঠন করা হয়। বলা হয় পুরো কমিটিতে একচ্ছত্র প্রভাব ছিল ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খানের। তার একচ্ছত্র প্রভাব ও মনঃপুত কমিটি না হওয়ার প্রতিবাদে সেই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন ১৪৪ জন আইনজীবী।

ফোরাম গঠনের ১০ দিনের মাথায় সাংবাদিক সম্মেলন করে ফোরাম থেকে বেরিয়ে আসেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলয়ের আইনজীবীরা। সেসময় আইনজীবী ফোরাম গঠনে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেন সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে। একই বছরের নভেম্বরে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আদালতের রাজনীতিতে বিভাজন জিইয়ে রাখেন আইনজীবীরা।

২০১৮-১৯ বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষনিক সময়ের জন্য একত্রিত হলেও তা বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। এমনকি বারের নির্বাচনী প্রচারনাকে কেন্দ্র করেও ছড়াতে থাকে উস্কানী মূলক বক্তব্য। তবে ডিজিটাল বার ভবন নির্মানকে কেন্দ্র করে প্রথম দফায় বার ভবন ভাঙ্গার বিরুদ্ধে একত্রিত হয় উভয় কমিটির নেতৃবৃন্দরা। সেখানেও সমন্বয়হীনতার অভাবে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমেই মিইয়ে গেছেন তারা।

সবশেষ ২০১৯-২০ বারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একত্রিত হন বিবাদমান দুই কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ। তৈমূর আলম খন্দকার ও সাখাওয়াত হোসেন খান একসাথে চালিয়েছেন প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা। স্বস্তি বয়ে আসে আইনজীবীদের মাঝে। দীর্ঘদিনের বৈরিতা অবশেষে ভেঙ্গে যাচ্ছে এমনটাই প্রত্যাশা করছিলেন সকলে। তবে নির্বাচন পরবর্তী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে অনশন কর্মসূচীতে দেখা যায়নি সাখাওয়াত বলয়ের আইনজীবীদের। যার ধারাবাহিকতায় পবিত্র রমজানে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে আবারও মাথাচাড়া দেয় বিদ্ধেষ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও