সাংবাদিকদের সমালোচনায় সেই মতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১১:০৬ পিএম, ১৩ মে ২০১৯ সোমবার

সাংবাদিকদের সমালোচনায় সেই মতি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আইনশৃংখলার মাসিক সভায় সাংবাদিকদের নিয়ে কঠোর সমলোচনা করলেন আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি যার বিরুদ্ধে আছে নানা অভিযোগ।

১৩ মে সোমবার সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ সমালোচনা করেন মতি।

সভায় মতিউর রহমান মতি বলেন, নারায়ণগঞ্জে ব্যাঙের ছাতার মত পত্রিকা রয়েছে। অনেক পত্রিকায় না বুঝে অনেক কিছু লিখে দেয়। আমরা কোন বিচার করলে কারো পক্ষে বিপক্ষে গেলে হুট করে সাংবাদিকরা না বুঝেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে লিখে দেয়। সম্প্রতি আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিচার শালিস করা হয়েছে। এ শালিসকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকরা হুট করে পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে লিখে দিলো একপক্ষের কথা শুনে বিচার করা হয়েছে। বিচারে কলেজ ছাত্রকে বেত্রাঘাত করা হয়নি লিখে দিলো তাকে বেত্রাঘাত করা হয়েছে। এই হলো সাংবাদিকদের চরিত্র।

মতির এমন বক্তব্যে ঘটনার সময়ের বিচার শালিসে ভুক্তভোগি আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডিগ্রিরচরের নোয়াব মিয়ার ছেলেরা ঝামেলা করেছে। পরে সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। ওই সময় চেয়ারম্যান মতি আমাদের বাড়িতে গিয়ে বলেছিল তোমরা খবুর বিরুদ্ধে মামলা করো। মতির কথামত খবুর বিরুদ্ধে মামলা না করায় উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে তারই খালাতো ভাই নোয়াবকে দিয়ে মামলা করিয়ে দেয়। তার পর মতি চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে বিচার শালিসের আয়োজন করেন। বিচারে উভয় পক্ষের কথা না শুনে মতির নিজের লোক দিয়ে নোয়াবের ছেলের পক্ষ নিয়ে আমাদের দোষ চালিয়ে দেয়। মতির নির্দেশ মোতাবেক আমাদেরকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ও আমার ছোট ভাই কলেজ ছাত্রকে বেত্রাঘাত করা হয়।

আইনশৃংখলা সভায় মতি আরও বলেন, গত কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম আমরা কয়েকজন চেয়ারম্যানরা বিশেষ নজরদারীতে রয়েছে। তারা হুট করে পত্রিকায় লিখে দেয়। আসলে পত্রিকায় লিখলে প্রশাসন কতটুকু গুরুত্ব দেয় তা জানতে চাই। আর প্রশাসন আমাদের কি ধরনের বিশেষ নজরদারীতে রাখছে তাও জানতে চায় সভায় উপস্থিত নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলামের কাছে।

সভায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদা বারিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা আক্তার, ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সাইফউল্লাহ বাদল, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী শওকত আলী, সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান, কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী প্রমুখ।

জানা গেছে, গত সংসদ নির্বাচনে বহুমুখী চরিত্র প্রকাশ পায় মতির। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আলীরটেক মোহাম্মদীয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় নৌকার পক্ষে গণসংযোগ করেন আব্দুল কাদির। ওই সময় উপস্থিত ছিলেন আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা আতাউল হক সরকার, স্থানীয় মাতাব্বর কামাল বেপারী, শাহজাহান মাদবর, নবী হোসেনসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা দাবী করলেও তিনি এ দলের কোন কর্মকান্ডে নেই। বরং তার স্বজন ও আত্মীয়রা মতির নাম ভাঙিয়ে দুর্গম এলাকা আলীরটেকে জামায়াত ও শিবিরের শক্ত ঘাঁটি করে তুলেছে। ইতোমধ্যে মতির আত্মীয় জামায়াত ও শিবিরের দুর্ধর্ষ কয়েকজন ক্যাডার গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ পুলিশের তালিকাভুক্ত আলীরটেক ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী  মোকতার হোসেন ও ইউনিয়ন ছাত্র শিবিরের সভাপতি ও কুড়েরপাড় হাই স্কুলের শিক্ষক রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে মোকতার হোসেন ডিক্রিরচর গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে ও রাজু একই এলাকার আতাউর মুন্সির ছেলে। এ দুইজনের মধ্যে মোকতার আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির খালাতো ভাই।

জানা গেছে, নব্বইর দশকের মাঝামাঝিতে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আলীরটেকে মতি নির্বাচন করেছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের পক্ষে। ওই নির্বাচনে কমান্ডার সিরাজুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এমপি শামীম ওসমান। তৎকালে আলীরটেক ইউনিয়ন ছিল নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওতাধীন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে মতির বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছিল মেম্বাররা। পরে একজন প্রভাবশালীকে দিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনকে ম্যানেজ করে আবারো বিএনপি সমর্থক বনে যান মতি।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলে জাতীয় পার্টির এমপি নাসিম ওসমানকে ম্যানেজ করেন মতি। তবে ম্যানেজ পটু মতিকে আওয়ামীলীগ কিংবা বিএনপির রাজনীতিতে কখনোই সক্রিয় দেখা যায়নি। যেকারণে ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটে মতিউর রহমান মতির। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাকির হোসেন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও