হতাশায় আইভী সুফিয়ান শিবির, উচ্ছ্বসিত ওসমান বলয়

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৫:২৫ পিএম, ২০ মে ২০১৯ সোমবার

হতাশায় আইভী সুফিয়ান শিবির, উচ্ছ্বসিত ওসমান বলয়

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন পাল্টে দিয়েছে স্থানীয় রাজনীতি। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থীতা নিয়ে গভীর হতাশা নেমে এসেছে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনুসারীদের মধ্যে। বিশেষ করে নৌকা মার্কার মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু সুফিয়ানের কাছের নেতাকর্মীদের গত কয়েক মাসের উচ্ছ্বাস রূপ নিয়েছে বিষাদে।

অপরদিকে উচ্ছ্বাস বইছে প্রভাবশালী ওসমান ভ্রাতৃদ্বয় অনুগামীদের মধ্যে। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে আবারো শামীম ওসমানের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের আস্থার বিজয় হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা।

জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় আওয়ামীলীগে দলীয় প্রতিকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে প্রভাবশালী ওসমান বলয়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদকে।

তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে সর্বকনিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন বলে তাকে স্নেহ করতেন বঙ্গবন্ধু। এতে করে ওসমান বলয়ের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আইভী বলয়ের অনুগামী হিসেবে পরিচিত ও খোদ মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ানের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানান, গত কয়েক মাস ধরেই উপজেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে ছিল অন্তর্গত উত্তেজনা। আবু সুফিয়ান দলের প্রার্থী হওয়ার জন্য কেন্দ্রে প্রচুর লবিং করেছেন।

সূত্র জানায়, আইভী গ্রুপের পক্ষ থেকেও দলের একাধিক মন্ত্রী ও এমপিদের ছাড়াও দলের সের্বাচ্চ পর্যায়ে সুফিয়ানের পক্ষে লবিং করা হয়। কিন্তু শেষতক সুফিয়ান মনোনয়ন পায়নি। বিপরীতে একেবারেই চুপচাপ ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশিদ যিনি বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতিকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপজেলা নির্বাচন। তারই ধারাবাহিকতায় বন্দর উপজেলার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহিদ মোহাম্মদ বাদল, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবেদ হোসেন মিলে বন্দর উপজেলা থেকে তিনজনের নাম পাঠান।

তাঁরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ান, বন্দর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ রশিদ ও মদনপুর ইউপি চেয়ারম্যান বন্দর থানা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আব্দুস সালাম।

জানা গেছে, এম এ রশিদ ওসমান পরিবারের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তিনি সব সময় ওসমান পরিবারের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। যেকারণে এই জেলায় দুই মেরুর দ্বন্দ্বের রাজনীতিতে এই নেতা সব সময় প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছেন। তবে নানা করণে এই নেতা দীর্ঘদিন আলোচনায় না থাকলেও এবার বেশ চমক দেখিয়েছেন। তাছাড়া এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রত্যেকটি ধাপে যারাই নৌকার প্রতিক পেয়েছেন তারা জয়ী হয়েছেন।

অপরদিকে হঠাৎ করেই রাজনীতিতে শীর্ষ পদ পেয়ে যাওয়া সুফিয়ান একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, বিলুপ্ত পৌরসভা আমলে বন্দরের একটি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ছিলেন সুফিয়ান। পরে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। জেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, জেলা কমিটি নিয়ে অনেকেরই আপত্তি ছিল। এমন অনেককে পদ দেয়া হয়েছে যারা এইপদের যোগ্য না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নিরবতা পালন করা ছাড়া কিছুই করার নেই।

দলের তৃনমূল নেতাকর্মীরা জানান, দলের রাজনীতিকে ধ্বংস করতে যারা মাঠে ছিল তাদেরকে কেন্দ্র ভালো করেই চিনে। গত রোজায় জেলা আওয়ামী লীগের ইফতার বর্জন করেছিল মেয়র আইভীসহ অনুগামীরা। পরে বন্দরে সুফিয়ানের উদ্যোগে রাজকীয় ইফতারে আইভী যোগ দেন। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে দলের সাংগঠনিক অবস্থা ধংস করছে কারা।

এরই মধ্যে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে আবু সুফিয়ান ভোট নিয়েও প্রশ্নবিদ্ধ মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন রাতের আধারে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে চান না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও