লিংক রোড নিয়ে শামীম ওসমানের হুংকারেও ড্যামকেয়ার

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০৭ পিএম, ২০ মে ২০১৯ সোমবার

লিংক রোড নিয়ে শামীম ওসমানের হুংকারেও ড্যামকেয়ার

‘পিচ ঢালা পথে কোথাও খোয়া উঠে গেছে আবার কোথাও টিউমারের মতো ফুলে আছে। কোথাও আবার সরু ড্রেনের মতো  হয়ে গেছে। এর উপর দিয়ে ছোট যান চলাচল করলেই ঝাঁকুনিতে কোমর ব্যথা হয়ে যায়। আমার গরীব মানুষ রিকশা বা টেম্পু দিয়ে চলাচল করি তাই ঝাঁকুনি যে কি পরিমাণ কষ্ট তা শুধু আমরাই বুঝি। কিন্তু আমাদের এমপি সাহেবরা তো দামী গাড়ি দিয়ে চলেন ওনার ঝাঁকুনি লাগে না। আর আমাদের কষ্টও বুঝে না।’

২০ মে সোমবার দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে চাষাঢ়া আজগর সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব রমজান আলী।

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে ডাক্তার দেখানোর জন্য ভূঁইগড় থেকে আসছি এখন রাস্তার যে অবস্থা তাতে বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আরো অসুস্থ হয়ে যাবো। এমপি সাহেব কি রাস্তা করলো এক বছরও হয়নি এর মধ্যে রাস্তার এ অবস্থা।

সরেজমিনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের চাষাঢ়া থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তা ৮ কিলোমিটার হলেও এর মধ্যে চাঁদমারি, সস্তাপুর, শিবু মার্কেট, স্টেডিয়াম, কাজীপাড়া, ভূঁইগড় পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম পাশের রাস্তার বিভিন্ন অংশে প্রায় গর্ত হয়ে গেছে। পিচ উঠে পাথরের খোয়া বের হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় টিউমারের মতো ফুলে রয়েছে। আর এসব কারণে রাস্তায় নদীর মতো ঢেউ ঢেউ হয়ে আছে। যে কোন ছোট বড় যানবাহন গলেই ঝাকুনি খায়। তবে এর মধ্যে সব থকে বিপদজনক হলো মোটরসাইকের আরোহীদের। তবে এর মধ্যে সোমবার থেকে সংস্কার কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপদের ঠিকাদারের কর্মীরা। নিম্ন মানের সংস্কার করায় মুহূর্তে পিচ উঠে গিয়ে ফুলে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় দুপুরে করে গেলেও বিকেলেই আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

জানা গেছে, মাত্র ১০ মাস আগে ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যায়ে লিংকরোড সংস্কার করা হয়। সড়ক ও জনপথের অধীনে সংস্কার কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় মাসুদ হাইটেক ইঞ্জিনিয়ারিং নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে। কাজের শুরুতেই কাদাপানিতে পিচ ঢালাই ফেলে নিজেদের অনিয়মের কার্যক্রম তুলে ধরে। সেসময় গণমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে সংস্কার কাজের টেন্ডার পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি। তারপরেও দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ করে মন্থর গতিতে সম্পন্ন করে ৮ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ।

কাজ শেষ হতে না হতেই সেপ্টেম্বরে পিচ ফুলে ফেপে উঠে সাইনবোর্ডগামী সড়কের আর্মি মার্কেটের সামনের অংশ। সড়কের বেহাল অবস্থা দেখে নতুন করে সেখানে ঢালাই মেরামত করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু তবুও সড়কের শেষ রক্ষা হয়নি। সড়কের উভয় পাশে বেশ কয়েকস্থানে ফুলে উঠে সড়কের পিচ। দিনের বেলা সেই পিচ পাশ কাটিয়ে চলতে পারলেও রাতের অন্ধকারে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে।

তবে এর আগে সংস্কার কাজ চলমানের সময় স্থানীয় এমপি ও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা একেএম শামীম ওসমান ঠিকাদারদের হুশিয়ারী দিয়েছিলেন, ‘লিংক রোডের সংস্কার কাজে কোন গাফিলতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’ তবে শামীম ওসমানের ওই ঘোষণা বা হুশিয়ারীতেও কোন কাজ হয়নি।  নিম্ন মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ফের রাস্তা সংস্কার করতে হচ্ছে।’

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক সিএনজি চালক বলেন, এমপিরা কখনো বুঝবে না এ রাস্তা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তারা যে গাড়িতে চলাচল করে সেটা এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, যেখানে ঝাঁকুনি হবে সেখানে গাড়ি জাম্প দিবে ফলে ঝাঁকুনি হবে না। তাই এমপিরা দামী গাড়ি চলার কারণে সাধারণ মানুষের দুঃখ বুঝেনা। ওনার শুধু মুখেই বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু এখন ঠিকদারদের ধরে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, শামীম ওসমানের হুংকার ঠিকাদাররা কোন কর্ণপাতও করেননি। শামীম ওসমানের এ ধরনের হুশিয়ারী যে শুধু মাত্র লোক দেখানো সেটা রাস্তার কাজ দেখেই বুঝা যায়। কারণ কয়েক মাস না যেতেই যখন রাস্তার এ বেহাল দশা হয়েছে সেক্ষেত্রে শামীম ওসমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ওনি বরং ঠিকাদারদের ডেকে জনসম্মুখে এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উচিত ছিল। কিন্তু তিনি সেটা করেননি।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে তাকে মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ এবং পুনরায় যোগাযোগ করা হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও