ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ইয়াবা সহ ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ!

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:৫০ পিএম, ২২ মে ২০১৯ বুধবার

ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ইয়াবা সহ ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ!

ইয়াবা বড়িসহ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি কাজী জোবায়ের রহমান আশিককে (২২) গ্রেফতার করা হয়েছে পুলিশ এমন দাবী করলেও ফেডারেশনের নেতারা ভিন্ন মত পোষণ করেছন। পুলিশের এও দাবী গ্রেপ্তারের পুলিশের সাথে তার সহযোগীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশের কাছ থেকে কাজী আশিককে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সদস্য আহত হন।

২১ মে মঙ্গলবার রাত ১১টায় সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর আজিবপুর রেললাইন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জে স্পেশাল ডিউটি করাকালীন উত্তর আজীবপুর কোনাবাড়ীর সামনে কাজী জোবায়ের রহমনা আশিক ও কাউছার একটি রিক্সাযোগে যাওয়ার সময় পুলিশ আটক করে।

এসময় আশিকের দেহ তল্লাশী করে ১০পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। পরে আসামীদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় আজিবপুর রেললাইন এলাকায় পৌছালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি কাজী জোবায়ের রহমান আশিকের সহযোগী মোতাহের হোসেন, কাজী বাবুল, কাজী মনির, কাজী বাপ্পি, শাওন ডাক্তার, মহর, মীর সাহেব সহ অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশের গাড়ির গতিরোধ করে পুলিশের উপর চড়াও হয়।

এসময় আসামীর পক্ষের লোকজনের সাথে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আসামীদের ছিনিয়ে নেয়। খবর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহীন শাহ পারভেজের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে কাজী জোবায়ের রহমান আশিক, কাজী মোতাহার হোসেন ও কাজী বাবুলকে গ্রেফতার করে।

ইয়াবা উদ্ধার ও পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আসামী পক্ষের লোকজনের সাথে ধস্তাধস্তি ঘটনায় পুলিশ সদস্য দ্বীপক কুমার, জাহাঙ্গীর ও জমসের আলম আহত হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহীন শাহ পারভেজ বলেন, পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করে আসামী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহীদুল ইসলাম শিশির প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী জোবায়ের রহমান আশিক রিক্সায় করে তার কর্মস্থলে যাবার সময় আজীবপুর রেললাইন এলাকায় পুলিশ গতিরোধ করে দেহ তল্লাশি করে। এসময় কাজী আশিকের কাছে কোন প্রকার মাদক দ্রব্য পাওয়া যায়নি। কিন্ত পুলিশ মাদক দ্রব্য পাওয়া গেছে এই অভিযোগে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে চায়। ঘটনাটি সজানো ও বানোয়াট হওয়ায় এলাকাবাসী পুলিশের এই অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং গাড়ি গতিরোধ করে। এসময় পুলিশের সাধে এলাকাবাসীর ধস্তাধস্তি হয়।

ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় এবং তারা ফোর্স নিয়ে থানায় চলে যায়। তারপরে তারা অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে আবার এলাকায় এসে আশিকের বাড়িতে হানা দেয়। এবং বাড়ির গেটে ধাক্কাধাক্কি করে, ডাকাডাকি করে। আিশকের পরিবার ভয়ে গেট না খুললে পুলিশ তখন তাদের নিকট আত্মীয় আব্দুর রশিদকে দিয়ে আশিকের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। তার আশ^াসে আশিকের বাবা কাজী মোতাহার বাসা থেকে বের হয়ে আসে এবং কোনাপাড়া রেল লাইনের চৌরাস্তায় আপোষের আশ^াসে আশিককে আসতে বলে। এবং আশিক সেখানে আসে। সেখানে ওসি শাহেন শাহ পারভেজ সহ তদন্ত ওসি সেলিম রহমান আশিকের সাথে উত্তেজিত হয় এবং ঘটনাটির সমাধান থানায় হবে বলে আশিককে থানায় নিয়ে আসে।

থানায় এনে আশিককে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদক গ্রহণের স্বীকারোক্তি আদায় করে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও