মহানগর ছাত্রদলের বিতর্কিত ইফতারে প্রতারণার শিকার সাবেক নেতারা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১০ পিএম, ২৩ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

মহানগর ছাত্রদলের বিতর্কিত ইফতারে প্রতারণার শিকার সাবেক নেতারা

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই তাদের মূল সংগঠনসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো আন্দোলন সংগ্রামে নিস্ক্রিয়তা দেখিয়ে আসছে। এমনকি বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রদলও দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয়তা দেখাতে পারছে না। কিন্তু ব্যতিক্রম ছিল নারায়ণগঞ্জ মহানগর। ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে আলোচনায় চলে এসেছে বিতর্ক ছাড়া। কয়েকটি পদে বিতর্কিত লোকজন থাকলেও আন্দোলনে সর্বদা এগিয়ে থাকেন সভাপতি শাহেদ আহমেদের নেতৃত্বাধীন নেতারা। তবে এবার নতুন করে যোগ হয়েছে অন্ত কোন্দল। আর এর পিছনে ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করছেন কয়েকজন বিএনপির নেতা। তাদের ইন্ধনে মহানগর ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না।

সূত্র বলছে, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হচ্ছিল না। শুধুমাত্র আহবায়ক কমিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হত তাদেরকে। তবে এবার অতিতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২৩৫ জনের এ জাম্বু কমিটির অনুমোদন করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম উল হাসান মিন্টু।

এর আগে গত ৫ জুন শাহেদ আহমেদকে সভাপতি ও মমিনুর রহমান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। এতে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছিল মারুউফুল ইসলাম পাপনকে। ওই আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ৪ মাসের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যা অতিতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ২৩৫ জনের এই কমিটিতে সহ সভাপতি পদে ৩৪ জন যুগ্ম সম্পাদক পদে ২৮ জন সহ সাধারণ সম্পাদক পদে ১৮ জন এবং অন্যান্য সম্পাদকীয় পদে রয়েছেন ৫০ জন। বাকীরা সবাই কার্যকরি সদস্য হিসেবে রয়েছে।

জানা যায়, গত ২১ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে দোয়া ও ইফতারের আয়োজন করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের গুটি কয়েক নেতা। কিন্তু তারা ব্যবহার করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের ব্যানার। মহানগর ছাত্রদলের ব্যানার ব্যবহার করলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মহানগরের সভাপতি শাহেদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু। সেই সাথে আয়োজকরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতিও নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। ফলে সাংগঠনিক নিয়মের বাইরে গিয়ে ইফতার মাহফিল করেছেন।

আর এখানে উপস্থিত হয়ে মহানগর ছাত্রদলের নেতাদের ইফতার মাহফিল আয়োজনকারীদেরকে উৎসাহিত করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এম এইচ আনোয়ার প্রধান ও জেলা যুবদলের সহ সভাপতি পারভেজ মল্লিক।

এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, ওই দিনের ইফতার মাহফিলে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা মহানগর ছাত্রদলের কোন্দল সৃষ্টিকারীদের উৎসাহিত করেছেন। ছাত্রদলের মহানগর নেতাদের অনুপস্থিতে এই ইফতারর মাহফিলে উপস্থিত থাকাটা কখনও উচিত হয়নি তাদের জন্য। ওই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত না হলে দলের কোন ক্ষতি হয়ে যেত না। তারা দলের ক্ষতি করে হাজির নিজ স্বার্থ আদায়ের জন্যই ইফতার মাহফিলে হাজির হয়েছিলেন অন্যথায় হাজির হতেন না।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সাহেদ আহমেদ বলেন, মহানগর ছাত্রদলের কোন ইফতার এখনো হয়নি। কেউ ব্যক্তিগত ইফতারকে দলের নাম ব্যবহার করতে পারে না। তাছাড়া অনেক সিনিয়র নেতারা ব্যক্তিগত কারো অনুষ্ঠানে গিয়ে সেখানে দেখতে পেয়েছে মহানগর ছাত্রদলের ব্যানার। কিন্তু অনেকেই এ নিয়ে পরে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমাকে দাওয়াত করা হয়েছিল সাবেক ছাত্র নেতাদের সম্মানে ইফতার হবে। আমি সেখানে গিয়ে দেখি মহানগর ছাত্রদলের ব্যানার। অথচ সভাপতি ও সেক্রেটারী ছিল না। এটা আমাদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। পরে খবর পেয়েছি নব্য একজন বিএনপি নেতা এ কাজটি পর্দার অন্তরালে করেছে।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ছোট ভাইদের আমন্ত্রনে একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দেই। ব্যক্তিগত আয়োজন ভেবেই আসলে যাওয়া ওইখানে। পরবর্তীতে সেখানে মহানগর ছাএদলের ব্যানার দেখে আমার বন্ধু মহানগর বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সজল বলে ব্যানারটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এটা না রাখাই ভাল। ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত বলে আমি বিষয়টিকে এত গুরুত্ব দেইনি এই ভেবে যে আমি বিশ্বাস করি মহানগর ছাত্রদল একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী ইউনিট। এখানে বিভাজনের কোন সুযোগ নাই এবং এটা কারো কাম্য নয় সাথে এটাও প্রত্যাশা করি সংগঠনের ব্যানার ব্যবহার করলে সেটা নিয়ম মেনে সবার সাথে আলোচনা করে করাটাই উত্তম এবং শোভনীয় ও বটে। মনে রাখতে হবে দল, দেশ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এ থেকে মুক্তি পেতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে ছাত্রদলকে আর সেটা হতে হবে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ ছাত্রদল। আশা করি সব ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে এবং আগামীতে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ সভাপতি, সহ সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক সহ সবাই একত্রে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই অপশাসনের বিরুদ্ধে নতুন উদ্যমে মাঠে নামবে।’


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও