শামীম ওসমানের আসনে ফের আসছেন কাশেমী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২০ পিএম, ২৩ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার

শামীম ওসমানের আসনে ফের আসছেন কাশেমী

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে সক্রিয় হয়েছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা কমিটির সভাপতি মুফতী মনির হোসেন কাসেমী। প্রায় অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসেছিলেন বিএনপির ঘাড়ে। বিএনপির নেতাকর্মীদের চোখে ধুলো দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন। যার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ‘জঙ্গি’ কানেকশনের অভিযোগ করেছিলেন।

যদিও মনির হোসাইন কাসেমী শেষ পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় পেরে উঠতে পারেন নি। সংসদ নির্বাচনে হেরে গিয়ে এলাকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। তবে এতদিন সংসদীয় এলাকা ছাড়া থাকলেও এবার মাহে রমজানের ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে ফের সক্রিয় হয়ে উঠছেন তিনি। সেই সাথে তার সহযোগীরাও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ফলে আবার নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি শাহ আলম ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার প্রত্যাশায় তারা প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় নেতাদের চোখে ধুলো দিয়ে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের হতাশ করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মনোনয়ন বাগিয়ে নেন। ফলে বিএনপির নেতাকর্মীরা কেউই তার পক্ষে মাঠে নামেনি।

এদিকে মনির হোসাইন কাসেমীকে প্রার্থী করা নিয়ে নানা শঙ্কায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। বিভিন্ন সভা সমাবেশে তার বক্তব্যে সেই শঙ্কার কথাই প্রকাশ পেয়েছে।

নির্বাচন চলাকালিন সময় গত ১৪ ডিসেম্বর বন্দর উপজেলার সমরক্ষেত্রে সেলিম ওসমানের জনসভায় বক্তব্য রাখতে দিয়ে শামীম ওসমান বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে ও বন্দরে জঙ্গীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এই কথা বলবোনা এখানে সবাই ভাল মানুষ। আওয়ামীলীগের সবাই ভালো, বিএনপিতে সবাই খারাপ। আমি এই কথা বিশ্বাস করিনা। ঠিক তেমনি বিএনপিতে ভাল লোকও আছে।

এর আগেও শামীম ওসমান বলেছিলেন, ‘নির্বাচনকে বানচাল করতে বিএনপি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জঙ্গি মতবাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে ইতোমধ্যে রাজধানী থেকে জামাত শিবিরের অর্ধশত জঙ্গি নারায়ণগঞ্জে এসে ঘাঁটি করছে। নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে তারা অবস্থান নিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে এ জঙ্গি কানেকশনে কাজ করছে। আর এ উদ্দেশ্যেই বিএনপি নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিবাদি প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। শামীম ওসমানের করা এই অভিযোগ এবং ১৪ ডিসেম্বরের ১৫১ জনের আটকের বিষয়টি জঙ্গি কানেকশনের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে।

এরপর ২২ ডিসেম্বর ফতুল্লার পঞ্চবটির এবি ভেজিটেবল ওয়েল মাঠে বিএনপির সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর আহবানে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেন, আমার আসনে ধানের শীষ প্রতীকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে খারাপ কোন উদ্দেশ্য রয়েছে। বাহির থেকে কেউ এসে কোন অঘটন ঘটিয়ে চলে যাবে। আমি চাই না নারায়ণগঞ্জের বিএনপির কেউ বিপদে থাকুক। বাহিরের লোক এসে যদি কোন অঘটন ঘটিয়ে থাকে তাহলে নিয়ম অনুযায়ী বিএনপির লোকজন দোষী হবেন। তাই বিএনপির ভাল লোকদের বলছি আপনারা আপনাদের চোখ কান খোলা রাখেন। নতুবা কোন অঘটন ঘটলে বিএনপির কেউ বিপদে পড়লে আমার কিছু বলার থাকবে না। আমি বলতে চাই ১৬ জুনের মত যেন নারায়ণগঞ্জে কোন স্থানে যাতে কিছু করতে না পারে সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেছিলেন, তাদের কর্মকান্ডই প্রমাণ করে কতটা জঙ্গি কানেকশন রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতিতে। তাই রাজনৈতিক দল সহ পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। জনগনের জানমাল রক্ষা করার দায়িত্ব পুলিশের। এ দায় তারা এড়াতে পারবে না। তাদের তৎপরতায় যেমন ১৪ ডিসেম্বর জেলাবাসী রক্ষা পেয়েছে ঠিক তেমনি আগামী দিন গুলোতেও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

শেষ পর্যন্ত শামীম ওসমানের সেই শঙ্কা কাটিয়ে সুষ্ঠুভাবেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই সাথে সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়গুলোতেও নারায়ণগঞ্জে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সংসদীয় এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান শামীম ওসমানের শঙ্কার প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। তার কোন আলাপ আলোচনা শুনা যায়নি।

তবে সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়টুকু ভাল কাটলেও এবার রমজানকে ঘিরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছেন শামীম ওসমানের শঙ্কায় থাকা মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীর ওই চক্রটি। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বিভিন্ন জায়গায় তারা গোপন মিটিংও করেছেন। ইফতার মাহফিলের আয়োজনকে কেন্দ্র করে যে কোন দিন তারা বিশাল আকারে প্রকাশ হতে পারেন। ফলে তাদের এই আত্মপ্রকাশকে কেন্দ্র করে শঙ্কায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমানের শঙ্কার প্রতিফলন না ঘটলেও এবার রমজানকে ঘিরে সেই শঙ্কার প্রতিফলন ঘটে কিনা সেটা লক্ষ্যণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে মনির হোসাইন মূলত নিজ যোগ্যতায় এসব করছেন না। নারায়ণগঞ্জ জমিয়তের একাধিক নেতা ফের কাশেমীমে নারায়ণগঞ্জ আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তাদের আবার কয়েকজনকে সম্প্রতি এমপি শামীম ওসমানের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া পালন করতেও দেখা গেছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও