রশিদের পথ পরিস্কার হলেও আটকে রয়েছেন সানু

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৭ পিএম, ২৪ মে ২০১৯ শুক্রবার

রশিদের পথ পরিস্কার হলেও আটকে রয়েছেন সানু

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ১৮ জুন ৫ম ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাচন। সে হিসেবে দিন যাওয়ার সাথে সাথে ঘনিয়ে আসছে বন্দর উপজেলার নির্বাচন। এবারের বন্দর উপজেলা নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ।

ইতোমধ্যে বন্দর উপজেলা নির্বাচনে এম রশিদের জয়ের পথ পরিস্কার হয়ে গেছে। তবে তাঁর পথ পরিস্কার হয়ে গেলেও জয়ের পথে এখনও আটকে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু। তিনিও শামীম ওসমানের বলয়ের লোক হিসেবেই পরিচিত। যদিও তিনি জাতীয় পার্টির নেতা। তবে জাতীয় পার্টির সাথে পরোক্ষ সমাঝোতার মাধ্যমেই চেয়ারম্যান পদে ছাড় দিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সানাউল্লাহ সানুকে সুযোগ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, এবারের বন্দর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরিক দল জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগকে ছাড় দিবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারণ এই উপজেলায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টিরও প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার মতো ভোট রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আসনের সংসদ সদস্য হচ্ছেন জাতীয় পার্টির টিকেটে নির্বাচিত এমপি। যার ধারাবাহিকতায় গত ১৪ মার্চ একটি সভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান আওয়ামীলীগের উদ্দেশ্য বলেছিলেন, আপনারা আসেন আলোচনায় বসেন উপজেলা নির্বাচনে কাকে আপনারা মনোনীত করবেন। আপনারা চেয়ারম্যান প্রার্থী দিলে আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান দিতে হবে। অন্যথায় কোন সমঝোতা হবে না। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান দুই পদেই জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিবে।

তার এই ঘোষণার পর গত ২০ মার্চ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দলটির মহাসিচব ও বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বন্দর উপজেলা নির্বাচনে সবকটি পদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

যার সূত্র ধরে বন্দর উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অনেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী ও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা শামীম ওসমান বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত এম রশিদকে চেয়ারম্যান পদে ছাড় দেয়া হয়। সেই সাথে ভাইস চেয়ারম্যান পদে শামীম ওসমান বলয়ের মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানুকে দাঁড় করানো হয়। এদের মধ্যে রশিদের জয়ের পথ পরিস্কার হয়ে গেছে।

চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এম এ রশিদ চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন। সর্বশেষ ২৩ মে নির্বাচন কমিশনের যাছাই বাছাইয়েও রশিদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে চেয়ারম্যান পদে রশিদের জন্য আর কোন বাধা থাকল না। তবে এখনও আটকে রয়েছেন শামীম ওসমান বলয়ের মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এখনও মাঠে রয়ে গেছে ৪জন প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা হলেন শাহিদুল ইসলাম জুয়েল, আক্তার হোসেন, হাফেজ পারভেজ ও মোহাম্মদ নুরুজ্জামান। এরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। তাদেরকে মোকাবেলা করেই ভাইস চেয়ারম্যান পদটি দখল করতে হবে সানাউল্লাহ সানুকে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও