মনোনয়নে পাল্টে গেছে আওয়ামীলীগের রাজনীতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:১৪ পিএম, ২৪ মে ২০১৯ শুক্রবার

মনোনয়নে পাল্টে গেছে আওয়ামীলীগের রাজনীতি

একটি মাত্র মনোনয়নে পাল্টে গেছে বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের স্থানীয় রাজনীতির দৃশ্যপট। দীর্ঘ দেড় যুগ পরে নৌকা প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

এর আগে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর এই আসনে জোটবদ্ধ রাজনীতির কারণে নৌকা প্রতীকে কোন নির্বাচন হয়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বন্দর উপজেলার কিছু অংশে নৌকার নির্বাচন হলেও আওয়ামীলীগের একক নির্বাচন নিয়ে বেশ মুখিয়ে ছিলেন নেতাকর্মীরা। উপরন্তু গত ৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য থাকায় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে টানা পোড়নের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এবার বন্দরে আওয়ামীলীগের রাজনীতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন পর উপজেলা নির্বাচন ইস্যুতে নৌকা শ্লোগানের নজির দেখা গেছে।

তাই বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পেয়ে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দলের নেতারা।

জানা গেছে, আসন্ন বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশীদ। এই মনোনয়নকে ঘিরে অনেকটা ঝিমিয়ে পরা বন্দর উপজেলা আওয়ামীলীগের মাঝে আবারো ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্য। বিশেষ করে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন গত মঙ্গলবার বন্দরে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা নৌকার শ্লোগানে শ্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। এসময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমান, জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা সহ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকার প্রার্থী এম এ রশিদের পক্ষে নৌকার স্লোগান ধরে।

প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল জানান, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ত্যাগী নেতাকে মূল্যায়ন করেছেন নেত্রী। দীর্ঘদিন পরে বন্দরের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা নিজ দলের জনপ্রতিনিধি পেতে যাচ্ছে। ফলে দলের সাংগঠনিক অবস্থায় যে স্থবিরতা ছিল সেটি কেটে যাবে।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক খোকন সাহা জানান, একদেিক জোটবদ্ধ রাজনীতির কারণে প্রায় দেড় যুগ বন্দরে জাতীয় পার্টির এমপি নির্বাচিত হওয়ার ফলে ক্ষমতায় থাকলেও দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। অপরদিকে বিতর্কিত ব্যক্তিরা দলের পদপদবী পেয়ে বন্দরের আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যে বিভেদ সৃষ্টির পায়তারা করেছিল তার অবসান হয়েছে। আমরা দলের সভানেত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ যে, তিনি একজন যোগ্য ব্যক্তিকে উপজেলা পরিষদে দলের মনোনয়ন দিয়েছেন।

জানা গেছে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জাতীয় পার্টির  প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমান মহাজোটের প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন। ২০১৪ সালে ফের নাসিম ওসমান মহাজোটের প্রার্থী হয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এমপি হন। তাঁর মৃত্যুর পর এই আসনে ওই বছরই উপ নির্বাচনে তার ছোট ভাই সেলিম ওসমান স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরামের সাথে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ওই বছরই উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আতাউর রহমান মুকুল চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। তৎকালীন সময়ে উপজেলা নির্বাচনেও দলীয় প্রতিকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যেকারণে নৌকার স্লোগান তোলার কোন সুযোগ হয়নি। তবে এবার এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও