তাঁদের প্রকাশ্য ফেরা হলো না!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:০৭ পিএম, ৫ জুন ২০১৯ বুধবার

তাঁদের প্রকাশ্য ফেরা হলো না!

বিএনপির জাকির খান আর আওয়ামী লীগে এস এম সায়েম মিঠু। দুই দল যখন ক্ষমতায় তখন ছিল তাদের দোর্দান্ড দাপট। তবে আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় থাকলেও দেখা যাচ্ছে না মিঠুকে। আর বিগত বিএনপি সরকারের আমলেই দেশ ছাড়তে হয়েছিল জাকির খানকে। দুই দলের ক্ষমতাধর দুই নেতা এখন পরবাসী। এ দুইজনের যাতায়াত রয়েছে বাংলাদেশে। কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ঢু মারেন নারায়ণগঞ্জেও। ঢাকাতে প্রায়শই আসেন তারা। কথা বলেন স্থানীয়দের সঙ্গে। তবে ইতোমধ্যে বিদেশের মাটিতেও ব্যবসা করছেন তারা।

জাকির খানের পৈতৃক বাড়ি শহরের দেওভোগে। তার ভাই ও অনুগামীরা এখনো রাজনীতিকে সক্রিয়। জাকির খানের পক্ষে শহরে হচ্ছে রাজনৈতিক কর্মসূচী। অপরদিকে মিঠুর সহযোগিরা এখন বিচ্ছিন্ন। রাজনীতিতে মিঠুর কোন অস্তিত্ব নেই। নিজের গড়া বাহিনীও ছিন্নবিচ্ছিন্ন। শহরের চাষাঢ়া রেল স্টেশনের পাশে একটি ক্লাবে আড্ডা দিতেন তিনি। চাষাঢ়াতেই তার বাড়ি। সদ্য বদলী হওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফতউল্লাহ ছিলেন তার ভগ্নিপতি। দিন যত যাচ্ছে ততই জাকির খান ও মিঠু নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে অতীত ইতিহাস হয়ে থাকছেন।

১৯৯৬ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সময়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল অনেক বিএনপি নেতা। তারা ফিরেও এসেছে। অপরদিকে ২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পলাতক ছিল আওয়ামী লীগের অনেক নেতা যাদের অনেকেই ফিরেছেন।

জাকির খান

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছেন জেলার সবচেয়ে আলোচিত নেতা ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি জাকির খান। দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে থাকার ফলে এক সময়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী জাকির এখন মানুষের কাছে শুধু স্মৃতি। নারায়ণগঞ্জের স্মরনকালের ইতিহাসে সবচাইতে বড় গণ সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল জাকির খানকে। কিন্তু ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতিতে বিশাল বাহিনী গঠন, সন্ত্রাস এবং মাদক ব্যবসার কারণে নিজ দল বিএনপি থেকে শুরু করে বিরোধীদলীয় নেতা কর্মী ও ব্যবসায়ীদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ে পালিয়ে যান জাকির খান।

১৯৮৯ সালে নাসিম ওসমানের হাতে ধরে জাতীয় পার্টির ছাত্র সমাজে যোগদানের মাধ্যমেই জাকির খানের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ। তার পিতা দৌলত খান ছিলেন তৎকালীন টানবাজার পতিতালয়ের গডফাদার। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাকির খানের সাথে নাসিম ওসমানের বিরোধ বাধলে কামালউদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে সে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেয়। এক পর্যায়ে দেওভোগ এলাকার অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের পেছনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্ধর্ষ হিসেবে শহরে পরিচিত হয়ে উঠে জাকির খান। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে জাকির খান শহরের খাজা সুপার মার্কেটে হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত হয়ে জেলে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার ৭ মাসের মাথায় কাশীপুর বাংলা বাজার এলাকায় এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় দফায় জাকির খানের ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয় এবং জেলে যায়। ১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে বের হয়ে জাকির খান জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদটি পেয়ে যান। আওয়ামীলীগের শাসনামলের শেষ দিকে ২০০০ সালে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ থেকে টানবাজার ও নিমতলী পতিতালয় উচ্ছেদ করে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও প্রায় ৫ মাস জেলে থাকে জাকির খান। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আততায়ির গুলিতে নিহত হয়। এ ব্যাপারে জাকির খানকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন তৈমুর আলম খন্দকার। এর পর সে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে যায়। পাড়ি জমায় থাইল্যান্ডে।

আওয়ামী লীগে অনেকে ফিরেছেন, ফিরেনি মিঠু

৮৬ সালে এরশাদ জমানায় আওয়ামী লীগের নাজমা রহমানকে হারিয়ে এমপি হন জাতীয় পার্টির নাসিম ওসমান। জানা গেছে, এ সময়ে জাতীয় পার্টির আশ্রয়ে ঘটে একদল বাহিনীর উত্থান। সেটা ১৯৯১ সাল। তখন ক্ষমতায় বিএনপি। কিছুদিন পর পরই প্রভাব বিস্তার নিয়ে চাষাঢ়ার সঙ্গে মিশনপাড়া আর দেওভোগের মধ্যে সংঘর্ষ। ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির কারণে ওই সময়ে যারা এক্সেল মটরসাইকেল চালাতে পারদর্শী কিংবা ক্যাডারগিরি করা সম্ভব তাদের তখন দোর্দন্ড দাপট। তখনই আলোচনায় চলে আসে নুরুল আমিন মাকসুদ, নজরুল ইসলাম সুইট, মিঠু, সেলিম ওরফে টাওয়ার সেলিমদের নাম। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এলো আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের আগে অসহযোগ আন্দোলনের সময়ে নারায়ণগঞ্জ প্রায় দিনই রক্তাক্ত। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশ ছাড়ে অনেক আওয়ামী লীগ। আবার অনেকেই দেশে থেকে যান। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের পর অনেকেই আবার দেশে চলে আসেন।কিন্তু আসেনি মিঠু।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও