তৈমূরের সেই ডেট লাইন ৬ জুন!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:১৫ পিএম, ৫ জুন ২০১৯ বুধবার

তৈমূরের সেই ডেট লাইন ৬ জুন!

২০১১ সালের ৬জুন। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে আন্দোলন সংগ্রামের সব ঘটনা ভুলে গেলেও হয়তো সেই দিনের ঘটনাটি ভুলতে পারবেন না অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। ওই ঘটনার ৮ বছর পূর্তি হয়ে গেল। তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই আতিয়ার রহমানের লাঠির আঘাতটি হয়তো তৈমূর আলম খন্দকারের পিঠ থেকে মুছে গেছে। কিন্তু মন থেকেও কি মুছে গেছে? হয়তো পিঠেও সেই ক্ষত রয়ে গেছে। পিঠ তো আর তৈমূর দেখতে পায়না। মানুষটিও তিনি এমন সামনের মানুষজনকেই দেখেন বেশি পিছনের মানুষকে দেখতেও পাননা তারা যত কাছের লোকই হোক। যাইহোক শুধু পিঠে নয় লাঠির আঘাত লেগেছিল তৈমূরের হাতেও।

ঘটনা সূত্রে, সেই ২০১১ সালের ৫জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল ঘোষণার প্রতিবাদে বিএনপির ডাকা হরতালে জেলা যুবদলের তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে তিনি আহ্বায়ক কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রানা মুজিব, রিটন দে, শাহিন, সাইদুর, আল আমিন খান সহ ৯জন বিএনপি নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়। এর প্রতিবাদে ৬জুন বিকেলে ডিআইটি বানিজ্যিক এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে চার দলীয় জোট আয়োজিত প্রতিবাদ সভা শেষে শহরের ২নং রেলগেট এলাকায় মিছিল করতে গিয়ে বেধম মারধরের শিকার হয়েছিলেন তৈমূর সহ বেশকজন নেতাকর্মী। ওই দিনের ঘটনায় এ প্রতিবেদনের প্রতিবেদক নিজেও দৃশ্যের প্রত্যক্ষদর্শী।

ওইদিন বিকেল ৫টায় তৎকালীন চার দলীয় জোট এক প্রতিবাদ সভাও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার যিনি বর্তমানে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, জেলা বিএনপির তৎকালনি সহ-সভাপতি বদরুজ্জামান খান খসরু, তৎকালীন শহর জামায়াত আমির ইঞ্জিনিয়ার মানোয়ার হোসেন, শহর বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, ব্যারিস্টার পারভেজ আহমেদ সহ শীর্ষ পর্যায়ের অগনিত নেতাকর্মী। ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন শহর বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম সম্পাদক বিল্লাল হোসেন যিনি বর্তমানে ক্যান্সারের মত মরণব্যাধিতে আক্রান্ত।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, হরতাল জনগনের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রামের পরে এই হরতাল, এই দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে দেশের আইন দেশের বিচার বিভাগ এর স্বীকৃতি দিয়েেেছ।

ওই দিন তৈমূর আলম খন্দকার একটি স্থানীয় পত্রিকা ও পত্রিকার একটি নিউজের শিরোনাম তুলে ধরে বলেন, আমি আমার বক্তব্য শেষ করার পূর্বে আমি নারায়ণগঞ্জের একটি পত্রিকায় একটি নিউজের দিকে আপনাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাই। সেখানে লিখেছে“ শশুর ক্ষমতাশীন এমপি তাই ওসি আক্তার বেপরোয়া”। এই ওসি সাহেবকে বলতে চাই আপনার বাড়ি হয় গোপালগঞ্জে না হয় সুনামগঞ্জে। কোথাও না কোথাও আপনার পাওয়ার রয়েছে যার জন্য আপনি এত ক্ষমতা দেখান। আপনার চেয়ে অনেক বড় ক্ষমতাশালীরা এদেশ থেকে চলে গেছে। এ পত্রিকায় বলেছে যে, আপনি আমাদের এক নেতার উপর চওড়া হয়েছেন। তার গায়ে হাত তুলেছেন। যদি এর সত্যতা পাই তাহলে আপনার এ বিষয়ে কথা হবে আলোচনা হবে এসপি অথবা আইজির টেবিলে। আপনার হাত কত লম্বা। একজন ওসির হাত কত লম্বা হতে পারে তাই দেখব ইনশাহআল্ল¬াহ।” অন্যদিকে সদর থানা পুলিশের ওসি আক্তার হোসেন বিপুল সংখ্যক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অবস্থান করছেন ২নং রেলগেটে পুলিশ বক্সের সামনে।

তৈমূর বক্তব্য শেষে বলেছিলেন, আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করলাম। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে মিছিল করব। কেউ সিনিয়র নেতাদের অতিক্রম করবেন না। তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন বক্তব্য রাখবেন সভাপতি জাহাঙ্গীর কমিশনার।” সভাপতি সমাপ্তি বক্তব্য শেষ করেই একটি মিছিল নিয়ে মাত্র ৫০ গজ দুরে আসলেই পুলিশ বেপোরোয়া হামলা করে নেতাকর্মীদের উপর লাঠি চার্জ শুরু করে। ঘটনার সময় একজন কনেস্টেবল বদরুজ্জামান খসরুকে পায়ের নিচে মার দেয়। সাথে সাথে আড়াইহাজারের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে কোলে তুলে সরিয়ে নেয়। লাঠিচার্জের মার থেকে বাচতে নেতাকর্মীরা এদিকে সেদিক ছুটতে সুযোগ পেলেও তৈমূর পালাতে পারেনি। তাৎক্ষনিক তৈমূরকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ তৈমূরকে ঘিরে ফেলে।

তবে পুলিশের অবস্থান দেখে মনে হয়েছে যে তৈমূরই ছিল তাদের টার্গেট। কারণ এর পূর্বে যে ওসিকে বিষোদগার করেছেন তিনি। এ সময় তাৎক্ষনিক একজন কনেস্টবল পায়ের নিচে লাঠি দিয়ে মার দেয়। এরপর সদর থানা সেকেন্ড অফিসার আতিয়ার রহমান মাথা বরাবর তৈমূরকে একটি লাঠি দিয়ে দুহাতে মার দেয় কিন্তু তৈমূর সেই মারটি নিজের হাত দিয়ে রক্ষা করে। মনে হলো তৈমূরের হাতটি ভেঙ্গে গেছে। এরপরেই আবার আতিয়ার রহমান তৈমূরের পিঠে একটি জোরালো মার দেয়। তার মারের স্টাইল দেখে মনে হয়েছিন তিনি হয়তো তুলেধুনো করছে। এরি মধ্যে আক্তার হোসেন খোকন শাহ তৈমূরকে জড়িয়ে ধরে। ততক্ষনে সকল কর্মীরা পালিয়ে গেছে। খোকন শাহ তৈমূরকে বাঁচাতে নিজের পিঠে মার নেয়। তাদের দুজনকে কোথায় যে মার দেয়া হলো এই প্রতিবেদকও খেয়ার করতে পারেনি। অন্যদিকে একজন কনেস্টেবল ব্যারিস্টার পারভেজে কলার ধরে আছেন। কলার ছেড়ে দিলে পারভেজ দৌড় দেয়। তখনো চলে চুনকা পাঠাগারের সামনে পুলিশ ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ। ডায়মন্ড সিনেমা হলের সামনে দিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। দলের দায়িত্ব পালন ও আন্দোলন করতে গিয়ে তৈমূর আলম পুলিশের মার পিঠে নিলেও তিনি নারায়ণগঞ্জ থেকে নেতৃত্ব হারিয়েছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও