শেষ সময়ে মূল্যায়িত

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৩৫ পিএম, ৭ জুন ২০১৯ শুক্রবার

শেষ সময়ে মূল্যায়িত

বলা হয়ে থাকে ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।’ রাজনীতির বিভিন্ন সমীকরণে কেউ জীবনের প্রথম বেলায় হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যান, আবার কেউ জীবনের শেষ বেলায় এসে নিজেকে হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় শেষ সময়ে এসে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হেসেন ও বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ। এক সময়ে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন গুরুত্ব পদে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের প্রাপ্তির ঝুড়ি ছিল শূণ্য। কিন্তু জীবনের শেষ বেলায় এসে ঠিকই তাদের প্রাপ্তির ঝুড়ি পূর্ণ করেছেন।

জানা যায়, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই নারারণগঞ্জের রাজনীতিতে একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে আসছেন। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে যুবলীগ সহ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সাথে অনেক সময় একাই আওয়ামীলীগের হালও ধরেছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ে। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করলেও তার প্রাপ্তির খাতা ছিল শূণ্য। আওয়ামীলীগের দূর্দিন অবস্থায় দলের হাল ধরলেও তাকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হচ্ছিল না। তবে অনেকটা শেষ বেলায় এসে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তাকে আবার নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের অভিভাবকের আসনে বসানো হয়ে তাকে। বর্তমানে তিনি এই পদেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

একইভাবে আনোয়ার হোসেন ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি দিয়ে রাজনীতিতে পদার্পন শুরু করেন। ওই সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৩ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হলে নারায়ণগঞ্জে প্রথম প্রতিবাদ মিছিল করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। নিয়মিত বঙ্গবন্ধুর বিচার দাবি তরান্বিত করতে গোপন বৈঠক করেছিলেন তিনি। তিনি ১/১১ এর মত কঠিন সময়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের হাল ধরেছিলেন।

আনোয়ার হোসেন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের বর্ষিয়ান নেতা হয়েও সংসদ সদস্য কিংবা মেয়র পদে মনোনয়ন পাচ্ছিলেন না। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছিলেন আনোয়ার হোসেন। কিন্তু তাকে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দেন। যা তিনি কখনই আশা করছিলেন না। সেই সাথে তিনি মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে বন্দর থানা আওয়ামীলীগের একজন ত্যাগী নেতা হচ্ছেন থানা সভাপতি এম এ রশিদ। আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে হাল ধরলেও তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছিল না। গতবারের উপজেলা নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয়নি। যার ধারাবাহিকতায় এবারও বন্দর উপজেলা নির্বাচনে তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সরব হয়ে আসছিলেন। কিন্তু নিজ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কারণে তার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পথে শঙ্কা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ ঠিকই এম এ রশিদকে মূল্যায়ন করেছে। তাকে দেয়া হয়েছে নৌকা প্রতিকের টিকেট। সেই সাথে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া অন্যান্য উপজেলা নির্বাচনের হিসেব নিকেশে তার বিজয় অর্জনও নিশ্চিতের পথে রয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও