সামনে কন্টকাকীর্ণ পথ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:৪২ পিএম, ৭ জুন ২০১৯ শুক্রবার

সামনে কন্টকাকীর্ণ পথ

এক সময়ে নেতৃত্ব দিয়েই রাজনীতি পরিচালিত করেছিল। ছিল বিশাল কর্মী বাহিনী। কদাচিৎ ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেটায় ছেদ পড়তে শুরু করেছে। ক্ষমতা খর্ব হয়ে উঠছে। হারাচ্ছেন নেতৃত্বও। আগের মত নেই হাকডাক। ক্রমশ মিইয়ে যেতে করেছে এক সময়ে ক্ষমতার দাপট। নারায়ণগঞ্জে স্ব স্ব এলাকা নিয়ন্ত্রনে করতেন তারা। দলের প্রধানদেরও গুডবুকে ছিলেন এক সময়ে। তবে এখন তার পুরো উল্টো চিত্র। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে তাদের ফিরে আসার পথ বেশ কঠিন হয়ে উঠবে। আর ফিরলেও স্থায়ীত্ব নিয়েও থাকবে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ সময়ের পরিক্রমায় রাজনীতিতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে।

নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাবেক এমপি কে এম শফিউল্লাহ। ছিলেন সাবেক সেনা প্রধান। এক সময়ে রূপগঞ্জে ছিল একচ্ছত্র দাপট। কিন্তু ক্রমশ সেটা খর্ব হয়ে উঠতে শুরু করেছে। তাঁর দুর্গে আঘাত হেনেছেন গোলাম দস্তগীর গাজী। টানা তিনবারের এমপি হয়ে এবার তিনি মন্ত্রী। এখানে ভবিষ্যৎ এমপির জন্য মুখিয়ে আছেন কায়েতপাড়ার চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। তাছাড়া বয়সের ভারেও ন্যুব্জ হয়ে উঠছেন শফিউল্লাহ। এসব কারণে ভবিষ্যতে ফিরে এসে অবস্থান তৈরি বেশ কঠিন হবে শফিউল্লাহর জন্য। এ আসনে বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান জেলারও সভাপতি। গত নির্বাচনে তিনি এমপি প্রার্থী ছিলেন। তবে ভবিষ্যতেও তাঁর রাজনীতি বেশ প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারণ এখনই দলের শীর্ষ নেতারা তার প্রতি বিরাগভাজন। তরুণ নেতারাও দূরে সরে যাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে আওয়ামীলীগের এক সময়ের প্রভাবশালী সাবেক এমপি এমদাদুল হক ভূঁইয়া ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ হোসেন। বয়সের কারণে এখন আর আগের মত জোর নেই। এখানে আওয়ামী লীগের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। এখনো বয়সে তরুণ। এখানে রেসে আছেন কেন্দ্রীয় নেতা ইকবাল পারভেজ। বাবু ও পারভেজের কারণে মমতাজ ও এমদাদের রাজনীতিও ভবিষ্যতে থাকছে না।

এ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরও সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত। নেই আগের মত সক্রিয়তা। নারায়ণগঞ্জ-৩ তথা সোনারগাঁও আসনের বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও এমপি রেজাউল করিমও রাজনীতি থেকে অনেকটাই বিদায় নিয়েছেন। এ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফরও বয়সে নুয়ে পড়ছেন। ফলে এ দুইজনের ভবিষ্যৎ রাজনীতিও হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে এখানে আলোচনায় আছেন উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারী আজহারুল ইসলাম মান্নান। আওয়ামী লীগে এখনো দাপট রেখে চলেছেন সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার। হারিয়ে যান নাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী মাহফুজুর রহমান কালাম।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ক্রমশ রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বিএনপির পদ থেকে সরে গেছেন শাহআলম। দুইজনের সামনে এখন কঠিন পথ। সেটা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে গত সংসদ নির্বাচন। এ দুইজনকে বাদ দিয়েই মনোনয়ন দেওয়া হয় জমিয়তের নেতা মুফতি মনির হোসাইন কাশেমীকে।

এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি শামীম ওসমান ঘোষণা দিয়েছেন আগামীতে নির্বাচন করবেন না। ফলে এখানে কে আসছেন সেটা নিয়েও প্রশ্ন। সাবেক এমপি সারাহ বেগম কবরীও সম্ভাবনা কম।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি আবুল কালামেরও বয়স বাড়ছে। আগের মত পরিশ্রম করতে পারছেন না। বিএনপির রাজনীতিতেও তার অবস্থান দোদুল্যমান। ভবিষ্যতে রাজনীতিতে তাঁর শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা কঠিন হয়ে উঠবে। এ আসনে সবশেষ নির্বাচন করা নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরামও নারায়ণগঞ্জে তেমন আসছেন না। ফলে আগামীতে তাকেও পোহতে হবে কঠিন পথ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও