অনিশ্চয়তার কালো আঁধার বিএনপিতে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:০৯ পিএম, ৮ জুন ২০১৯ শনিবার

অনিশ্চয়তার কালো আঁধার বিএনপিতে

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকা- ও কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের দলের উদাসীনতায় দলটি অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোন এক রহস্যজনক কারণে দলটি বার বার মুখ থুবড়ে পড়ছে। আর তাতে করে অনিশ্চয়তার কালো আধাঁর আকাশ ঢেকে যাচ্ছে।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির চিত্র দেখা যায়। নারায়ণগঞ্জ জেলাতেও এর ব্যাতিক্রম ছিলনা। এ জেলার সবগুলো আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। এই নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতে উপজেলা নির্বাচনের দামামা বাঁজতে শুরু করে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি দলটি উপজেলা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ ও ৫ম ধাপে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসব নির্বাচনের ধানের শীষের প্রতীকে কেউ প্রার্থী হতে পারেনি।

গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ ধাপে উপজেলা নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের তিনটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রূপগঞ্জ উপজেলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী শাহজাহান ভূইয়া, আড়াইহাজারে মুজাহিদুর রহমান হেলু সরকার, সোনারগাঁয়ে মোশারফ হোসেন জয় লাভ করেন। তবে বিএনপি নির্বাচনের অংশগ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করেছেন। এক্ষেত্রে অনেকটা একমুখি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর সেই সুযোগে আওয়ামীলীগ উপজেলা নির্বাচনেও জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে। অপরদিকে বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও অংশ নেয়নি বিএনপির কোন প্রার্থী।

এদিকে সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টে থাকা বিএনপির শরীক দল গণফোরমের দুই নির্বাচিত প্রার্থী সংসদে শপথ গ্রহণ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির ৪ জন নির্বাচিত প্রার্থী সংসদে শপথ গ্রহণ করেন। তবে দলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণ করেনি। যেকারণে তার আসনে ফের নির্বাচন হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীও বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা শপথ গ্রহণ করেছে বলে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান। এর তিনি দলটির নেতারা এও জানান, সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এতে করে বিএনপির বিগত দিনের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি।

এদিকে দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি দলটিতে ঐক্যর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে ঐক্যের গোজামিলে অনৈক্য দেখা যাচ্ছে। কখনো মহানগর বিএনপিতে দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা যাচ্ছে। আবার কখনো আদালতপাড়ার গণ্ডি পেরিয়ে জেলার অঙ্গ সংগঠনগুলোতে দ্বন্দ্বে হাওয়া বইতে দেখা যাচ্ছে। জেলা বিএনপি থেকে শুরু করে যুবদল, ছাত্রদল, সেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিকদল এমনকি মৎস্যজীবী দল নিয়েও মতানৈক্য চরম পর্যায়ে পৌছেছে।

জানা যায়, আদালতপাড়ায় বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ইস্যুতে দৃশ্যমান হয়। এবার সাখাওয়াত পন্থী আইনজীবীদের আয়োজিত ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে সেই দ্বন্দ্ব ফের দৃশ্যমান হয়েছে। অন্যদিকে তৈমূর পন্থী আইনজীবীরা এই ইফতার বর্জন করলেও তাতে আইনজীবীদের ঢল নামে।

বিগত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়া বিএনপির রাজনীতিতে কর্তৃত্ব নেয়া চেষ্টা করে আসছেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। সেই লক্ষ্যে নিজের সমর্থিত বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কমিটিও করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার এই কমিটিকে বিএনপিপন্থী অন্যান্য আইনজীবীরা মেনে নিতে পারেনি। ফলে এই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ আদালতপাড়ার বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

এদিকে সম্প্রতি বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে আদালত পাড়ায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আইনজীবী তৈমূর আলম খন্দকার অনশন কর্মসূচি পালন করে আসলেও সেখানে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে সেখানে দেখা যায়নি। এ নিয়ে বেশ সমালোচনার ঝড় উঠে। অন্যদিকে আইনজীবীদের একটি অংশ ইফতার পার্টি করলে সেখানে তৈমূরকে দেখা যায়নি। এমনি তার বলয়ের কোন আইনজীবীকে সেখানে দেখা যায়নি।

১৬ মে নারায়ণগঞ্জ জেলার অধীনস্থ ৫টি থানা ছাত্রদলের নেতাদের জেলা ছাত্রদলকে আল্টিমেটাম দেয়ার সিদ্ধান্ত এবার চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দপ্তরে ওই চিঠি পৌঁছে দেন নেতারা।

এর আগে ১৫ মে ৫টি থানার শীর্ষ নেতারা রুপগঞ্জের গাউছিয়া এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে ছাত্রদলের একটি ইফতার মিলনীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলকে দুইটি বিষয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছে জেলা ছাত্রদলের অধীনস্থ ৫টি থানা কমিটির শীর্ষ নেতারা। দুটি বিষয়ে দৃষ্টিপাত না করা হলে কিংবা নেতৃবৃন্দের বাইরে গিয়ে সংগঠন বিরোধী নিজস্ব স্বার্থ হাসিলে কোন সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থাসহ আলাদাভাবে কর্মসুচী পালনের সিদ্ধান্ত নেন নেতারা। এদিকে জেলা মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক কমিটিতে আইনজীবীদের হানা নিয়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে চারদিকে। পদত্যাগের ঘটনাও ঘটে মৎস্যজীবী দলের কমিটি নিয়ে।

এছাড়া সর্বশেষ জেলা ও মহানগর বিএনপির কর্মসূচী পালনের ক্ষেত্রেও দ্বিধাবিভক্তি দেখা গেছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কর্মসূচী পালনের ক্ষেত্রেও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির সামনে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া কোন পথ খোলা নেই। তবে দলের ত্রাহিদশার মধ্যে নানা দ্বন্দ্ব কোন্দলের চিত্র দেখা যাচ্ছে। যদিও আলোর পথ দেখানো কয়েকজন নেতা দলের হাত শক্ত করতে তৎপর হয়ে উঠলেও রহস্যজনক কারণে দলটি বার বার মুখ থুবড়ে পড়ছে। আর তাতে করে দলের রাজনীতি ক্রমশ অনিশ্চয়তার দিকে চলে যাচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও