ছাত্রদলে তালগোল পাকানো জটলা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:১০ পিএম, ৮ জুন ২০১৯ শনিবার

ছাত্রদলে তালগোল পাকানো জটলা

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদল ও মহানগর ছাত্রদলের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিচ্ছে যা ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দলটির আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ভ্যানগার্ড খ্যাত ছাত্রদল সংগঠনটি তালগোল পাকানো কোন্দলের ফলে বেশ ত্রাহিদশা দেখা যাচ্ছে। এতে করে বিএনপি আগামীতে আন্দোলনের জন্য ছাত্রদল সংগঠনটির উপর থেকে আস্থা ধীরে ধীরে কমে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপির ছাত্রদল সংগঠনটি বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে বেশ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে এই সংগঠনের মধ্যে তালগোল পাকানো জটলা দেখা যাচ্ছে। যেকারণে সংগঠনগুলো আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। যেকারণে দলের দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের উচিত এই ত্রাহিদশা থেকে উত্থানের জন্য বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করা।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলে বড় ধরনের বিদ্রোহের দেখা দিয়েছে। যার প্রকাশ পেয়েছে ইফতার মহফিলে কমিটিতে থাকা ১২ জনের মাত্র দুইজন উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বিদ্রোহীদের পক্ষে একজন তাদের দাবি তুলে ধরতে এসেছিলেন। এ ছাড়া সভাপতি মশিউর রহমান রনির পাশে ফতুল্লা থানার কিছু নেতাকর্মী ছাড়া আর কেউই ছিলেন না।

৭ মে শহরের বাংলা ভবন কমিউনিটি সেন্টারে এ ইফতারের আয়োজন করে জেলা ছাত্রদল। এর আগে দুপুরে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক ব্যতিত কমিটির বাকি নেতারা ইফতার অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ও ইফতার বর্জন করেন। যদিও দলের সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজীবও এতে উপস্থিত হননি। এছাড়াও ইফতার মহফিলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় তেমন কোন নেতাই উপস্থিত ছিলেন না।

জানাগেছে, সম্প্রতি জেলা ছাত্রদলের অধীনস্থ থানা ছাত্রদলের কমিটিতে জেলার পদে থাকা কয়েকজন নেতাকে থানা কমিটিতেও পদায়ীত করা হয়। এ নিয়ে থানা কমিটিগুলোর নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। এর এক পর্যায়ে ৫টি থানার ছাত্রদলের নেতারা জেলা কমিটিকেআল্টিমেটাম দেয়ার সিদ্ধান্ত এবার চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে। ১৬ মে বৃহস্পতিবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দপ্তরে ওই চিঠি পৌঁছে দেন নেতারা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৮ থেকে ১৯ বছরের থানা কমিটির বন্ধ্যাত্ব না শেষ না করে জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের একাধিক পদের উচ্চ লালসা ও থানা কমিটি গঠনে চরম অনীহা আমরা পাঁচটি থানা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মোটেও ভালো চোখে দেখছি না। থানা ও ইউনিট কমিটিগুলো গঠন না করে জেলা ছাত্রদলের পদধারী নেতারা আবার নেতা হওয়ার চরম লজ্জাজনক ও ঘৃণিত গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। জেলার শীর্ষ দুই নেতা ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ যথাক্রমে জেলা ছাত্রদলের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও সহ ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক পদ দুটি তাদের দখলে নিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা। এই লক্ষ্যে দেশ বিদেশে জোরালো লবিংও করছেন তারা। তৃণমূলকে সাংগঠনিকভাবে পরিচয়হীন রেখে তাদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার উচ্চবিলাসী মনোভাব ও চরম স্বেচ্ছাচারিতা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। এমন অদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা নিম্ন স্বাক্ষরিত নারায়ণগঞ্জ জেলার অধীনস্থ ৫ টি থানা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উল্লেখিত সিদ্ধান্তসমূহ ঐক্যমতে পৌঁছেছি।

অন্যদিকে মহানগর ছাত্রদল কমিটি সমালোচনা এড়িয়ে অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু এর মধ্যে দলের ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্বের নানা দৃশ্যপট তৈরি হয়। যেকারণে এই সংগঠনেরও এখন নানা নাটকীয়তা ও দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা যাচ্ছে।

জানা যায়, গত ২১ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে দোয়া ও ইফতারের আয়োজন করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের গুটি কয়েক নেতা। কিন্তু তারা ব্যবহার করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের ব্যানার। মহানগর ছাত্রদলের ব্যানার ব্যবহার করলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মহানগরের সভাপতি শাহেদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু। সেই সাথে আয়োজকরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতিও নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। ফলে সাংগঠনিক নিয়মের বাইরে গিয়ে ইফতার মাহফিল করেছেন।

আর এখানে উপস্থিত হয়ে মহানগর ছাত্রদলের নেতাদের ইফতার মাহফিল আয়োজনকারীদেরকে উৎসাহিত করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এম এইচ আনোয়ার প্রধান ও জেলা যুবদলের সহ সভাপতি পারভেজ মল্লিক।

এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, ওই দিনের ইফতার মাহফিলে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা মহানগর ছাত্রদলের কোন্দল সৃষ্টিকারীদের উৎসাহিত করেছেন। ছাত্রদলের মহানগর নেতাদের অনুপস্থিতে এই ইফতারর মাহফিলে উপস্থিত থাকাটা কখনও উচিত হয়নি তাদের জন্য। ওই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত না হলে দলের কোন ক্ষতি হয়ে যেত না। তারা দলের ক্ষতি করে হাজির নিজ স্বার্থ আদায়ের জন্যই ইফতার মাহফিলে হাজির হয়েছিলেন অন্যথায় হাজির হতেন না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও