সদরে নির্বাচন চায় না আওয়ামী লীগ!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:১৯ পিএম, ৮ জুন ২০১৯ শনিবার

সদরে নির্বাচন চায় না আওয়ামী লীগ!

একে একে নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। ১৮ জুন হবে বন্দরের নির্বাচন। বন্দরে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী এম এ রশিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। বাকি তিন উপজেলাতে অবশ্য নির্বাচন হয়েছিল।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণ হিসেবে পরিচিত সদর উপজেলার নির্বাচন আপাতত হচ্ছে না। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিব নারায়ণগঞ্জ এসেও জানিয়েছেন মামলার কারণে আপাতত ভোট হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালীদের অনেকেই নারায়ণগঞ্জ সদরে ভোট চাচ্ছেন না। এখানে প্রার্থী নিয়ে আছে নানা জটিলতা। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা চাইলেই যে নির্বাচন সম্ভব সেটাও মনে করছেন দলটির অনেকেই। তারা বলছেন, বর্তমানে মূলত সদরের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের অনুগামীরাই ওই মামলাটি আদালতে ঠুকেছেন। এখানে আওয়ামী লীগের নেতারা চাইলেই আজাদ বিশ্বাস মামলাটি তুলে নিবে স্পষ্ট মনে করছেন দলের অনেকেই। কিন্তু কি কারণে এ মামলা উহ্য করা হচ্ছে না সেটা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কিছু এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠন হওয়ায় ওই সব এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ (২০০৯ সনের ৩০ জুন সংশোধিত) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সদর উপজেলা পুনর্গঠন করে। ২০১৪ সালের ৪ মার্চ এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়। এদিকে কয়েকটি এলাকা বাদ দিয়ে উপজেলা গঠন হওয়ায় গত বছর ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে একটি রিট করা হয়। যার পিটিশন নং- ৩০৮৯। এ রিট করেন ফতুল্লা চৌধুরী বাড়ির মৃত সুলতান বক্স চৌধুরীর ছেলে মো. আসাদউদ্দিন চৌধুরী, পশ্চিম মাসদাইরের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে বজলুর রহমান ও কাশিপুর উত্তর গোয়ালবন্দের হেলালউদ্দিন মুন্সীর ছেলে মো. হামিম মুন্সী। রিট আবেদনকারী ৩ জনই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।

আসাদ চৌধুরী সম্পর্কে জানা গেছে, তিনি লেখাপড়া তেমন জানেন না। ফতুল্লা ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও আজাদ বিশ্বাসের ভায়রা মোস্তাফিজুর রহমান রুমী চৌধুরীর ফুট ফরমাশ খাটে সে। ২নং আবেদনকারী বজলু তৈমূর আলমের ভাগ্নে ও ছাত্রদল নেতা রুশোর ভাই। অপরজন হামিম মুন্সী কাশিপুর গোয়ালবন্দ এলাকার যুবদল নেতা ও আজাদ বিশ্বাসের কর্মী বলে পরিচিত। তিনজন অপরিচিত মুখ দিয়ে আদালতে রিট করার পেছনের কারিগর বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এ কথা আড়ালে আবঢালে স্বীকার করেছেন অনেক বিএনপি নেতা।

স্থানীয়রা বলছেন, এভাবে দিনের পর দিন সদর উপজেলাকে ঝুলিয়ে না রেখে পুরোটাই সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নিয়ে নেয়া হোক। অযথা সরকারি ফাইল পত্রের মাঝে আটকে থেকে একূল ওকূল উভয় সুবিধা থেকে বাসিন্দাদের বঞ্চিত করা অনুচিত। জনগনের সুবিধা ও বিপুল জনগোষ্ঠীকে সিটি কর্পোরেশনের সুবিধা দেয়ার জন্য হলেও এ সমস্যার নিরসন হওয়া প্রয়োজন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও