তিন নেতার কারণে টিকে আছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:২২ পিএম, ৮ জুন ২০১৯ শনিবার

তিন নেতার কারণে টিকে আছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি

টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। আর এই ক্ষমতার বাইরে থাকাবস্থায় সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতেও অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় ঘোষিত কর্মসূচিতে এখানকার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তেমন একটা সরবতা লক্ষ্য করা যায় না। তবে এই অচলাবস্থার মধ্যেও নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। এই তিন নেতা তাদের নিজস্ব বলয়ে থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে জাগ্রত রেখে যাচ্ছেন। প্রায় প্রত্যেক কর্মসূচিতেই তারা সরব ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।

সূত্র বলছে, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে বিএনপি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম দফা এরপর ২০১৪ সালের দশম জতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফায় এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতার বাইরে থেকে যাচ্ছে বিএনপি। আর এই দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় বাইরে থাকায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি একটি নিস্ক্রিয় সংগঠনে পরিণত হয়। দলীয় কোন আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে কর্মসূচি পালন করা তো দূরের কথা এমনকি রাজপথের ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারেননি তারা।

এরই মধ্যে ২০১৮ সালের গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে আটক রয়েছেন। প্রথমে একটি মামলার রায়ে কারাগারে গেলেও পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দাঁড় করানো হয়। কিন্তু এতে দলীয় ঘোষিত কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি। তাদের দলীয় প্রধান মাসের পর মাস কারাভোগ করলেও আন্দোলন সংগ্রামে নিস্ক্রিয় থেকে যান নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির এই দুর্দিনেও যার যার জায়গা থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের জাগ্রত রেখে আসছেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও এটিএম কামাল।

জানা যায়, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে শুরু থেকেই আন্দোলন সংগ্রামে তৎপর ছিলেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। দলীয় কর্মসূচী সহ বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবীতে সোচ্চার ছিলেন তিনি। ক্ষমতানসীনদের রক্তচক্ষু ও পুলিশ প্রশাসনের একের পর এক ‘গায়েবী’ মামলাও তৈমূর আলম খন্দকারকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। যখন নারায়ণগঞ্জের রাজপথে কোন বিএনপি নেতাকে পাওয়া যেত না তখনও অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার রাজপথে থাকতেন। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নিজ দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েও ক্ষমতাসীনদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে একাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সেই সাথে নির্বাচন পরবর্তী সময়েও দলীয় কর্মসূচিতে জোড়ালো ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন জাতীয় দিবসে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বিশাল শোডাউন করেছেন। সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জের আদালতপাড়ায় বেগম জিয়ার মুক্তির দাবী নিয়ে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের ব্যনারে প্রতিকী অনশন করেছেন। সেই সাথে গত ১৮ মে রূপগঞ্জের নিজ বাড়িতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবী নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল করেছেন। যা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের ক্ষেত্রে এই তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।

এদিকে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানও নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপি দলীয় ঘোষিত বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে সরবতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির অন্য কোন নেতা কর্মসূচি পালন না করলেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত খান ঠিকই কর্মসূচি পালন করতেন। ফলে ক্ষমতাসীনদলের রোষানলে পড়ে তাকে বেশ কয়েকবার কারাবারণ করতে হচ্ছে। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু করে ১ জানুয়ারী পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কারাবরণ করতে হচ্ছে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াতকে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়টুকু কারাগারে কাটালেও পরবর্তীতে জামিনে বেড়িয়ে বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথে বিশাল শোডাউন করেছেন।

সর্বশেষ গত ১৩ মে হিমালয় চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে ইফতার মাহফিল করেছেন। যেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে অন্যতম আলোচিত ব্যক্তি হলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ রাজপথের অন্যতম সৈনিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এটিএম কামাল। তৎকালীয় সময় তিনি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় দলীয় প্রত্যেক কর্মসূচিতেই নেতাকর্মীদের নিয়ে তার সরব উপস্থিতি থাকতো। পুলিশের হামলা মামলাও রুখতে পারেন নি তাকে। একের পর এক মামলায় জেল খেটেছেন বহুবার। তারপরেও তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।

এরপর ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটিতেও এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই কমিটির পদে থেকেও এটিএম কামাল দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়ে দলীয় কর্মসূচি সফল করার চেষ্টা অব্যাহত রেখে চলছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও