রশিদকে ছাড় দিয়ে কি পেলেন মুকুল নুরুদ্দিন!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৬:২৩ পিএম, ৮ জুন ২০১৯ শনিবার

রশিদকে ছাড় দিয়ে কি পেলেন মুকুল নুরুদ্দিন!

পাঁচ বছর আগে অনুষ্ঠিত বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দুই প্রার্থীর পাশাপাশি বিএনপিরও দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী আতাউর রহমান মুকুল বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তৎকালীন নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুলেছিলেন জাতীয় পার্টির সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন প্রধান। তৃতীয় হয়েছিলেন বিএনপির বহিস্কৃত নেতা হাজী নুরুদ্দিন। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দুই প্রার্থীর কেউই প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তুলতে পারেনি। অথচ এবার বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী হননি বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল ও হাজী নুরুদ্দিন। মহাজোট ইস্যুতে জাতীয় পার্টি আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে ছাড় দিতে পারে সেটা ছিল অনুমেয়। তবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী না হলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে তোলা সম্ভব ছিল বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল ও হাজী নুরুদ্দিন যে কারোরই। কিন্তু রশিদকে ছাড় দিয়ে তার কি পেয়েছেন এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত বন্দর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপির সাইনবোর্ডে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আতাউর রহমান মুকুল। ২০১৪ সালের ৯ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী নুরুদ্দিন, আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে আব্দুর রশিদ, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আব্দুস সালাম, জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন প্রধান, আবুল জাহের, ইসলামী আন্দোলন নেতা হাজী মোহাম্মদ আলী, ময়মনসিংহের ত্রিশাল থেকে ছিনিয়ে নেয়া জঙ্গী সালাউদ্দিন ওরফে সালেহীনের মামা আওয়ামী লীগ কর্মী জহিরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর কোন ধরনের প্রচারণায় অংশ নেননি আবুল জাহের।

এদিকে ওই নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুল ১৯ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কাপ পিরিচ প্রতীকে জাতীয় পার্টি নেতা ও কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান পেয়েছিলেন ১১ হাজার ১৩২ ভোট। বিএনপির বহিস্কৃত প্রার্থী হাজী নূরউদ্দিন পেয়েছিলেন ৭ হাজার ৬২৩ ভোট। এখানে উল্লেখ্য নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে মুকুলকে সমর্থন দিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি মনোনীত প্রার্থী হাজী নুরুদ্দিনকে বহিস্কার করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি।

এদিকে গত ৯ মে ৫ম ধাপে বন্দর উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সেই তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২১ মে, যাচাই-বাছাই ২৩ মে, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩০ মে এবং প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ৩১ মে। ওই দিন থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। এই উপজেলা নির্বাচনে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক প্রধান দল বিএনপি নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। তবে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা ক্ষেত্রে একেবারে ভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে যা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃশ্যমান হয়েছে।

১৯ মে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড বন্দর উপজেলায় এম এ রশিদকে মনোনয়ন প্রদান করেন। এর পরেই পাল্টে যায় পুরো হিসেব নিকেশ। ঘোষণার পরেই স্থানীয় জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমান বার্তা পাঠিয়ে এম এ রশিদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। রশিদ মূলত নারায়ণগঞ্জের বলয় কেন্দ্রীক রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই পরিচিত। সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেশ সরব দেখা যায় রশিদকে।

এদিকে মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু জাহেরের আহবানে এক ইফতার মাহফিলে এসে নৌকার প্রার্থী এম এ রশিদকে নৌকার পক্ষে সমর্থন দিয়ে মিষ্টিমুখ করেছেন। এতে করে নৌকার প্রার্থীর প্রতি জাপা ও বিএনপি সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে বলা চলে। বন্দরের বাসিন্দা হাজী নুরুদ্দিন যিনি মহানগর বিএনপির সহসভাপতি তাকে অদ্যাবধি কোন ধরনের কার্যক্রমে দেখা না গেলেও তিনি প্রার্থী হননি। যে কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান হওয়ার পথে রয়েছে এম এ রশিদ।

এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও ইতিমধ্যে শপথ নিয়ে সংসদে যেমন গিয়েছে তেমনি সংসদের উপ নির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে। বন্দর উপজেলায় বিএনপির ফিল্ড অনেক ভাল ছিল। বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল আগে থেকে প্রভাবশালী ওসমান পরিবারের ঘেষা রাজনীতি করছেন। তবে হাজী নুরুদ্দিনের ক্ষেত্রে তেমনটি দেখা না গেলেও রহস্যজনক কারণে তাকেও এবার নিস্ক্রিয় দেখা গেছে। এর আগে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টু। শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা তিনিই পরেছিলেন। কিন্তুবিএনপির মুকুল কিংবা হাজী নুরুদ্দিন যে কোন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও রশিদের সঙ্গে তাদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতো। কিন্তু প্রার্থী হওয়ার মতো রিস্ক নেননি মুকুল কিংবা হাজী নুরুদ্দিন কেউই। যে কারণে অনেকেই বলছেন রশিদকে ছাড় দিয়ে কি পেলেন মুকুল ও হাজী নুরুদ্দিন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও