নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আদর্শ আওয়ামীলীগ ঘেঁষা বিতর্কিত নেতা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৫ পিএম, ১২ জুন ২০১৯ বুধবার

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আদর্শ আওয়ামীলীগ ঘেঁষা বিতর্কিত নেতা

কমিটি ঘোষণার শুরু থেকেই নানা কর্মকান্ডে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার এক আওয়ামীলীগ ঘেঁষা বিএনপি নেতার পক্ষে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু। সেই নেতার বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কোন পদ নেই। সেই সাথে দল থেকে কয়েকবার বহিস্কারও হয়েছেন তিনি। আর তার পক্ষ থেকেই এবারের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শহীদুল ইসলাম টিটু। তবে টিটুর এই শুভেচ্ছাকে মেনে নিতে পারছেন না নারায়ণগঞ্জ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক যুগ পর নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর ফতুল্লা থানা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুকে সভাপতি ও রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি গোলাম ফারুককে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর ৫ মাস পরই জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়েছে। যা এর আগে কখনও এত অল্প সময়ের মধ্যে কমিটির ঘোষণা হয়নি।

তবে এই কমিটি ঘোষণার শুরুতেই বিতর্ক দেখা দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলে। জেলা যুবদলের সভাপতি পদে শহীদুল ইসলাম টিটুর বিরুদ্ধে পদ বিক্রির অভিযোগ উঠে। এতদিন পর জেলা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা হলেও নেতাকর্মীদের মধ্যে এর প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়নি। আর এর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সভাপতি পদে শহীদুল ইসলাম টিটুর বিরুদ্ধে কমিটি নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। পদ দেয়ার বিনিময়ে নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। ফলে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি স্থান পেয়ে যায় দীর্ঘদিন ধরে নিস্ক্রীয় থাকা নেতাকর্মীরাও।

সেই আলোচিত ঘটনার পর এবার জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মনিরুল আলম সেন্টুর পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। যে মনিরুল আলম সেন্টুর বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে কোন পদ নেই। সে একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর তার পক্ষ থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি হয়ে শহীদুল ইসলাম ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেই সাথে মো. মনিরুল আলম সেন্টু বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে কয়েকবার দল থেকে বহিস্কারও হয়েছেন। নিজের চেয়ারম্যান পদ টিকিয়ে রাখার জন্য বিএনপি নেতা হয়েও ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের ‘পীর’ মানেন তিনি। সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়ার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সাংসদদের পক্ষে কাজ করেছেন তিনি।

২০১৫ সালের ২জুন সদর উপজেলা ফতুল্লার কুতুবপুর ইউয়িনের পাগলা বাজার থেকে গোদনাইল ইউনিয়ন পরিষদ অফিস ভায়া কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি শামীম ওসমান সম্পর্কে বক্তব্যে মনিরুল আলম সেন্টু বলেছিলেন, শামীম ওসমান যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাতে করে তিনি রীতিমনে মানুষের মনে ‘পীর’ হয়ে উঠেছেন। তিনি জনগনের নেতা। আগামীতে তাকে বিজয়ী করে জনগনের নেতাই বানিয়ে রাখবেন। কোন দলের নেতা বানাবেন না।

শামীম ওসমানের একটি বক্তব্যের উত্তরে উত্তরে মনিরুল আলম সেন্টু বলেছিলেন, আমি বিএনপি করি এটি ঠিক কিন্তু শামীম ওসমান আমার বড় ভাই। উনার সাথে আত্মার সম্পর্ক। দীর্ঘ এক যুগ ধরে উনার সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। আমি শামীম ভাইয়ের বাসায়ও গিয়েছি। শামীম ভাই আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এসব কিছু প্রকাশ পায় নি। শামীম ওসমান হলেন জনগনের নেতা। উনি যেভাবে কাজ করে চলেছেন এবং অতীতে করেছেন রীতিমত উনি সবার অন্তরে প্রবেশ করেছেন। উনার আগে অনেকই এই এলাকার এমপি ছিলেন কিন্তু উনারা তেমন কোন কাজ এই এলাকায় করেননি। শামীম ভাই নিজে ফোন করে আমার এলাকায় কাজ দিয়েছেন।

যার ধারাবাহিকতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনিরুল আলম সেন্টু নিজ দলীয় প্রার্থী রেখে ক্ষমতানসীন দলের মনোনীত প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পক্ষে বিভিন্ন সভা সমাবেশে হাজির হয়েছেন। নির্বাচন শেষেও তিনি তার পূর্বের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন।

এদিকে মনিরুল আলম সেন্টুর এসকল কর্মকান্ডে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার তৎকালীন ফতুল্লা থানা বিএনপির ১নং সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম সেন্টুকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। যদিও পরবর্তীতে তিনি দাবী করেছিলেন তার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগেও ২০১৬ সালে ধানের শীষের প্রতীক না নেওয়ায় সেন্টুকে সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে আবার তাকে দলে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

সেই মনিরুল আলম সেন্টুর পক্ষ থেকে জেলা যুবদলের সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটুর ঈদ শুভেচ্ছা বিএনপির তৃণমূলের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তাদের মতে, মনিরুল আলম সেন্টু একজন বিতর্কিত নেতা। তার পক্ষ থেকে একজন সিনিয়র পর্যায়ের নেতার ঈদ শুভেচ্ছা মেনে নেয়ার মত নয়। তাহলে আমরা কি একজন বিতর্কিত নেতাকে আদর্শ মানবো।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও