ভাগাভাগির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাপা বিএনপি

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ১৩ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ভাগাভাগির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাপা বিএনপি

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা নির্বাচনে অনেকটা সমঝোতার মধ্য দিয়ে ভাগাভাগির নির্বাচন হতে যাচ্ছে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান এই তিনটি পদে আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি দলের স্থানীয় রাজনীতিবিদরা বসে সমঝোতার মধ্য দিয়ে পদ ভাগ করে নিয়েছে। এতে করে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে ভোটের লড়াই দেখা যাবেনা।

১৮ জুন বন্দর উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সে নির্বাচনের প্রথম দিকে দলীয় নৌকা প্রতীকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়ে যান। পরে জাপা ও বিএনপি নেতাদের সাঝে মিষ্টি খাওয়ানো মধ্য দিয়ে এম এ রশিদের সাথে চেয়ারম্যান প্রার্থীতা নিশ্চিত হয়ে যায়।

জানা গেছে, মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আবু জাহেরের আহবানে এক ইফতার মাহফিলে এসে নৌকার প্রার্থী এম এ রশিদকে নৌকার পক্ষে সমর্থন দিয়ে মিষ্টিমুখ করেছেন। এতে করে নৌকার প্রার্থীর প্রতি জাপা ও বিএনপি সমর্থন নিশ্চিত হয়েছে বলা চলে। এতে করে অনেক বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় এই নেতা বিজয়ী হতে যাচ্ছেন।

এদিকে ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টি নেতা সানাউল্লাহ সানুকে ছাড় দিচ্ছেন অপর প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে এ নিয়ে সমঝোতাও হয়েছে। সে কারণে রাজনৈতিক মাঠ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন চার প্রার্থী।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে জাতীয় পার্টি নেতা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু উড়োজাহাজ, আকতার হোসেন বই,  নুরুজ্জামান তালা, হাফেজ পারভেজ হাসান চশমা ও শহীদুল ইসলাম জুয়েল টিউবওয়েল প্রতীক পেয়েছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী জানান, তাকে নানাভাবে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। জাতীয় পার্টির নেতা সানাউল্লাহ সানুর জয়ের পথ সুগম করে দিতেই এ চাপ দেওয়া হচ্ছে। বন্দরের কয়েকজন প্রভাবশালী এ চাপ দিচ্ছে। নতুবা নির্বাচনের পর মামলা সহ নানা ইস্যুতে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে তারা অনেকেই এখন বেশ ভয়ে আছেন। প্রভাবশালীরা চাচ্ছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে সানু ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালিমা হোসেন শান্তা যেন অনায়াসে জয়ের বৈতরণী পার হন।

অন্যদিকে তিন নারী ভাইস চেয়ারম্যানকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসেছিল উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা। তবে এতে তিন নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীই নির্বাচন করতে অনড় রয়েছেন।

নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও বর্তমান নারী ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার কলস, সালিমা হোসেন শান্তা ফুটবল ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী নুরুন্নাহার সন্ধ্যা হাঁস প্রতীক পেয়েছেন।

এ ঘটনায় প্রার্থী নুরুন্নাহার সন্ধ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। শামীম ওসমান ভাইয়ের রাজনীতি করে বেড়ে উঠেছি। কিন্তু আমাকে এখন বিএনপির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল সাহেবের বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। আমি করি আওয়ামী লীগ আর সমঝোতা হয় বিএনপি নেতার বাসায়। মুকুল সাহেবের বাসায় বন্দরের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা ছিলেন। আমাদের প্রস্তুাব দিয়েছেন নির্বাচন থেকে সরে যেতে। বলা হয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান নিয়ে রফাদফা হয়েছে। এখন নারী ভাইস চেয়ারম্যান ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু আমরা বলছি নির্বাচন করবো। এ কারণে কোন সমঝোতা হয়নি।’

বর্তমান নারী ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেত্রী মাহমুদা আক্তার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, ‘মুকুল সাহেবের বাসায় সমঝোতা বৈঠক ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ সহ চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মুকুল সাহেব প্রস্তাব করেন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের, ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির সানাউল্লাহ সানু হয়েছেন। তাই বিএনপির মাহমুদাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু শান্তা এতে আপত্তি করেছেন। এ কারণে সমঝোতা হয়নি। আশা করছি ঈদের পরেই হয়ে যাবে। সবাই নির্বাচন করতে অনড়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখনকার স্থানীয় রাজনীতিবিদরা ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে তাদের নিজ নিজ অবস্থান ঠিক রেখে বেশ কৌশলে রাজনীতি করছেন। আর একে অপরের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক ও অবস্থান বর্জায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলে ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে উপজেলা নির্বাচনে তিনটি বড় রাজনীতিক দলের নেতারা তাদের মধ্যে সমঝোতা করে নিজেদের মধ্যে কোন ধরনের বিরোধ থেকে দূরে সরে থাকছেন। এতে করে উপজেলা নির্বাচনে ভাগাভাগীর রাজনীতি দৃশ্যমান হচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও