দুর্ধর্ষ পলাশের অনুষ্ঠানে অতিথি মেয়র আইভী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৫ পিএম, ১৪ জুন ২০১৯ শুক্রবার

দুর্ধর্ষ পলাশের অনুষ্ঠানে অতিথি মেয়র আইভী

নারায়ণগঞ্জের বহুল বিতর্কিত শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ এবার পাশে পাচ্ছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীকে।

আলীগঞ্জে খেলার মাঠ নিয়ে যখন জটিলতা তখনই ওই মাঠে আইভীকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। ১৫ জুন সোনালী অতীত ক্লাবের ওই প্রীতি ফুটবল খেলায় আইভীকে অতিথি করে দাওয়াত কার্ড করা হয়েছে। এছাড়া ওই খেলায় অতিথি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও আইনজীবী নেতা আনিসুর রহমান দিপুকে। অতিথির তালিকাতে আছেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম সহ আরো অনেককে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল একনেকের সভায় ফতুল্লার আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসনের জন্য ১১ দশমিক ৬৫ একর জমিতে ১৫ তলাবিশিষ্ট আটটি ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই ১১ দশমিক ৬৫ একর জমির মধ্যে আলীগঞ্জ মাঠের ৫ দশমিক ৭০ একর জমি রয়েছে। একনেকের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট করেন স্থানীয় একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ওই মাঠ রক্ষায় নিয়মিত আন্দোলনও হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানা, মাঠ রক্ষার দাবিতে গত ২৬ মে সকাল ১০টা থেকেই আলীগঞ্জ মাঠে এসে উপস্থিত হয় বিভিন্ন স্কুল কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী, ক্রীড়া সংগঠক সহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ। বেলা ১১টায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজোয়ান আহাম্মেদের নেতৃত্বে মাঠ দখল ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য উপস্থিত হন গণপূর্ত বিভাগের একটি দল। তখন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে দখল ও উচ্ছেদ না করেই বেলা ১টায় ফিরে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সহ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। পরবর্তীতে বেলা আড়াইটায় পুনরায় ম্যাজিস্ট্রেট সহ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা দখল ও উচ্ছেদে গেলে মাঠ দখল ঠেকাতে ঢাকা-পাগলা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় তারা বাঁশ ও টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক সপ্তাহের সময় দিয়ে চলে যান কর্মকর্তারা। আর আধা ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, তারা নিজেরাও জানেন পলাশ বিতর্কিত। কিন্তু শুধুমাত্র এমপি শামীম ওসমানের প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত পাওয়ার কারণেই আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ পলাশকে কাছে টানছেন। তাদের ইন্ধনেই সবশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করলেও ২১ মামলার তথ্য সংযুক্ত না করা ও তথ্যগত ভুলের কারণেই মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে।

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টরা জানান, নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতার ছায়াতলেই বেড়ে উঠছেন পলাশ। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। এ নেত্রীর বেশীরভাগ অনুষ্ঠানেই সরব দেখা যায় পলাশকে। আইভীকে কাছে পেলে ফটোসেশন করেও নিজেকে জাহির করেন। এছাড়া আইভীর বাড়িতে অনুষ্ঠানে আসা মন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও মিশে যান তিনি।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম আরাফাত ছাত্র রাজনীতি থেকে বেড়ে উঠেছেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতেও তাঁর উজ্জল ভবিষ্যৎ। কিন্তু এ আরাফাতকে কদাচিৎ ব্যবহার করছেন পলাশ।

সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে মালিক ও শ্রমিকরা জানান, আমরা এই ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালিয়ে কোন রকমে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন যাপন করি। অথচ ব্যটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ মহল আমাদের পেটে লাথি মেরে আমাদের পরিবারের হক নষ্ট করে জোড় জুলুম অন্যায় অত্যাচার করে আমাদের ঘাম ঝরানো অর্থ টোকেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজী করে নিয়ে যায়। আমরা বিপদে আপদে পড়লে সড়কে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তারা আমাদের কোন সাহায্য সহযোগিতা করেনা অথচ সাহায্য সহযোগিতার কথা বলে প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে আমাদের কষ্টের উপার্জিত অর্থ। ৬ বছর আগে টোকেন বাবদ প্রতি অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। ৪০০ অটোরিকশা থেকে নেয়া হয়েছে সর্বমোট ২৬ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতি ৩০ টাকা চাঁদা হিসেবে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে দৈনিক ১২ হাজার টাকা যা মাসে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা যা বছরে দাড়ায় ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া ৩০০ টাকা মাসিক চাঁদা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০০ টি অটোরিকশা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা যা বছরে দাড়ায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের কথা বলা হলেও গত ৬ বছরে কেউই কল্যাণ ফান্ডের কোন হিসাব পায়নি। বরং হিসাব চাওয়ায় কমিটির সদস্যদেরকেও লাঞ্ছিত করে কমিটি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। কুতুবপুর এলাকায় ব্যটারীচালিত অটোরিকশার কমিটির আহবায়ক ও জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের অনুগামী আজিজুল হক, মজিবর, সালু, সোহাগসহ একটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি করে আসছে। এভাবে পঞ্চবটি থেকে পাগলা রুটেও বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি চলে আসছে। আমাদের গরীবের ঘাম ঝরানো এই অর্থ দিয়ে কেউ কেউ রাতারাতি বিশাল অর্থের মালিক হয়ে গেছেন।আমরা আর কোন চাঁদাবাজকে চাঁদা দিতে চাইনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি অচিরেই যেন আমাদের এই চাঁদা দেয়া বন্ধ হয়।

যদিও পলাশ বলছেন, রাজনৈতিক কোন মহল তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোন ধরনের চাঁদাবাজীতে তার সম্পৃক্ততা নাই। সব কিছু তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

এখানে উল্লেখ্য যে, কাউসার আহমেদ পলাশ নিজেকে ফতুল্লার একমাত্র ও অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা মনে করেন। খোদ আদালতে দায়ের করা জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পলাশ ওই দাবী করেন। তাঁর দাবী, তিনি ফতুল্লার সর্বশ্রেষ্ঠ শ্রমিক নেতা। শ্রমিক নেতা শব্দটি উচ্চারিত হলেই তাঁকেই প্রথম বোঝানো হয়।

জানা গেছে, গত বছরের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে আরেক ‘নূর হোসেন ফতুল্লার গডফাদার পলাশ ও তার চার খলিফা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া পলাশের কোন নাম না থাকলেও একটি সংবাদের রেশ ধরে সময়ের নারায়ণগঞ্জ, ডান্ডিবার্তা ও অনলাইন নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন ও দুইটি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। এর মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি, ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা ও স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি এবং দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন। একই সঙ্গে আলামিন প্রধান ও নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুইটি ৫৭ ধারায় মামলা করেন।

ওই সংবাদ প্রকাশের পর শুধু মামলা নয় তার বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লায় মিছিল করে সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও