বর্ধিত জীবন শামীম ওসমানের

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:০০ পিএম, ১৫ জুন ২০১৯ শনিবার

বর্ধিত জীবন শামীম ওসমানের

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের বর্ধিত জীবন চলছে। এর মধ্যে শামীম ওসমান বার বার এ কথাও বলে আসছেন, তাঁকে হত্যা করতেই ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনা হয়েছে যা ইতোমধ্যে ভারতে গ্রেপ্তারকৃত মোরসালিন ও মোত্তাকিম স্বীকার করেছে।

জানা গেছে, ২০০১ সালের ২০০১ সালের ১৬ জুন শহরের চাষাঢ়াস্থ আওয়ামীলীগ অফিসে ঘোষণা মোতাবেক নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন শামীম ওসমান। সেদিন রাতে দেশের ভয়াবহ নৃশংস বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন মারা যান ২০ জন হতভাগ্য। আহত হয়েছিল শামীম ওসমান সহ অর্ধ শতাধিক। অনেকেই বরণ করে নিয়েছে পঙ্গুত্ব, কেঁদে উঠেছিল নারায়ণগঞ্জবাসী। ঘটনাস্থলে ১১ জন ও পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু ঘটে মোট ২০ জনের। এদের মধ্যে ১৯ জনের পরিচয় সনাক্ত করা হলেও পরিচয় মেলেনি ১ মহিলার। নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে এই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করে আজও শিহরিত হয়ে উঠে এখানকার মানুষ।

ওই ঘটনায় ভারতের দিল্লীতে গ্রেপ্তার হন মোরসালিন ও মোত্তাকিম। তারা স্বীকার করেছিল শামীম ওসমানকে হত্যা করতে বোমা হামলা হয়েছিল।

শামীম ওসমান ইতোমধ্যে একাধিক সমাবেশে বলেন, ‘আমাকে হত্যার জন্য চাষাঢ়ায় বোমা হামলা হয়েছিল। এখন আমি এক্সটেনশন লাইফে আছি।

বোমা হামলা সেই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এর আগে শামীম ওসমান বলেন, রক্ত কত গরম তা অনুভব করেছিলাম। বোমাটি যখন বিস্ফোরণ হল তখন মেঝেতে লুটিয়ে পড়ি। আমার আশেপাশে কারো ছেড়া হাত, পা বা কারো মাথা। সিলিং ঝুলে আছে ছিন্ন ভিন্ন মানবদেহ। আর চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত। পরক্ষণেই জ্ঞান হারাই। আমি প্রথম জঙ্গীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। বলেছিলাম শেখ হাসিনাকে বাঁচান। আমার ওপর হামলার পরেই কিন্তু ২১আগস্ট নেত্রীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। সমস্যাটা হলো আমি আগে বলি পরে সবাই বুঝতে পারে।

বোমা হামলার মামলা ও বিচার প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, আমি হতাশ। এ কারণে যে এ হামলার মূল ছিল চাষাঢ়া এলাকার উবায়দুল নামে এক ব্যক্তি। এই উবায়দুল সেই দিন ঘটনাস্থলে এসে আমার টেবিল চাপড়িয়ে বলেছিলেন, আমি কেন তার কাগজে স্বাক্ষর করব না। তার সাথেই এসেছিলেন হরকাতুল জিহাদের দুই জঙ্গী সহোদর মোত্তাকিম ও মোরসালিস। এই উবায়ুদলের কথা আমি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে বারবার বলার পরে তাকে সরে যেতে সহায়তা করা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ভারত থেকে দেশে এত বন্দী বিনিময় হয়। কিন্তু এত বড় নৃশংস বোমা হামলার জড়িত দুই জঙ্গী মোত্তাকিন ও মোরসালিনকে কেন দেশে আনা হয় না।

আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জঙ্গীদের বিরুদ্ধে আমি প্রথম কথা বলেছিলাম। সেই সময় সবাইকে সাবধান হওয়া দরকার ছিল। আমার ওপর হামলার পরেই ২১আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমার নেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে। আমার দু:খ একটাই যারা আমাকে হত্যা করতে গিয়ে ২০ জন মানুষকে হত্যা করল। তারাতো শুধু আমাকে একটি গুলি করেই হত্যা করতে পারত। খুব কষ্ট হয়। যখন কারো বিধবা স্ত্রী ও এতিম সন্তান আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। আজ আমার জন্য তাদের এই অবস্থা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও