আইভীর বিরুদ্ধে স্মারকলিপি নিয়ে আওয়ামী লীগের সভায় বাদানুবাদ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:১৩ পিএম, ২০ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার

আইভীর বিরুদ্ধে স্মারকলিপি নিয়ে আওয়ামী লীগের সভায় বাদানুবাদ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে স্মারকলিপি দেয়া নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একটি পক্ষ। সেই সাথে আবার অপর একটি পক্ষও মেয়র আইভীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়।

আগামী ২৩ জুন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে ২০ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে ২নং রেলগেইট আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তুতি সভায় এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। গত ১৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে ওই স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়। সেই সাথে ওই স্মারকলিপি জমা দেয়ার সময় জেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগরের সেক্রেটারী খোকন সাহা সহ সিনিয়র নেতা থেকে শুরু করে কয়েকজন পদধারী নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছিল মেয়র আইভীর সাথে জামায়াত-বিএনপির সখ্যতা রয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছিল। সেই সাথে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী ও কলেজ ছাত্রী তনু হত্যাকান্ড নিয়ে মন্তব্য করে সরকারকে বিব্রত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগও আনা হয়। আর এই স্মারকলিপি দেয়া নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যার প্রভাব এখনও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে রয়ে গেছে।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০ জুন বৃহস্পতিবার জেলা আওয়ামীলীগের সভায় স্মারকলিপি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। আওয়ামী লীগের কয়েখজন নেতা আইভীকে দোষারোপ করেন আর অপর একটি পক্ষের নেতারা আইভীর পক্ষ নেন।

সভায় উপস্থিত থাকা নেতাদের সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সের্লিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেয়া নিয়ে তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, জেলা আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে একজন রাজাকারের সন্তান স্মারকলিপি দিয়েছে। আর সেখানে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদেরও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। এটা কখনই কাম্য নয়। আমি এই ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

অপরদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলমের এই বক্তব্যকে কাউন্টার দেন। তিনি বলেন, মেয়র আইভীরও উচিত হয়নি এই বিষয়ে বক্তব্য দেয়া। তার সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তিনি আওয়ামীলীগের নেতা হয়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারেন না। সেই সাথে জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্যে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদলও মনক্ষুণ হয়েছেন।

অবশেষে জেলা আওয়ামীলীগের নেতারা ভবিষ্যতে সকলকেই সতর্ক থাকার আহবান জানিয়েছেন। নিজ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়া কিংবা অন্য কোন কর্মসূচি পালন করা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানত মোঃ শহিদ বাদল, সহ সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, আরজু রহমান ভূঁইয়া, আব্দুল কাদির, আদিনাথ বসু, মো. শিকদার গোলাম রসুল, সাবেক নারী সংসদ সদস্য ও কার্যকরি সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর সোহেল আলী, দপ্তর সম্পাদক এম এ রাসেল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক খালিদ হাসান ও ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক মিয়া প্রমুখ।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও