তাবলীগ ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩০ পিএম, ২৬ জুন ২০১৯ বুধবার

তাবলীগ ইস্যুতে ফের উত্তপ্ত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ

ইসলাম প্রচারে তাবলীগ জামায়াত বেশ সুনাম কুড়িয়েছিল। কিন্তু গত দুই বছর ধরে এই তাবলীগ জামায়াত সারাদেশব্যাপী নানা বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভক্তি। সেই ধারাবাহিকায় নারায়ণগঞ্জের তাবলীগেও এর প্রভাব পড়ে। মসজিদে ভিতরে চলে তুমুল হাতাহাতি আর ধাক্কাধাক্কি। সেই সাথে সারা নারায়ণগঞ্জ জুড়েই এর উত্তেজনা ছড়ায়। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাবলীগ জামায়াতের উভয় পক্ষই শান্ত হয়। কিন্তু কিছুদিন তারা শান্ত থাকলেও এবার ফের নারায়ণগঞ্জে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে সেই তাবলীগ জামায়াত। ফলে ফের উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। ২১ জুন শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল করে তাবলীগ জামায়াতের একটি পক্ষ অপর পক্ষকে হুঁশিয়ারী দিয়েছে। সেই সাথে তারা প্রশাসনকেও সকর্ত করছেন।

জানা যায়, আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ জুন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সাদপন্থী তাবলীগ জামায়াতের লোকেরা ইজতেমা পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। আর এটাকে মেনে নিতে পারছেন না তাবলীগের অপর একটি অংশ। যারা নিজেদেরকে মূলধারার তাবলীগ হিসেবে দাবী করেন। নারায়ণগঞ্জে এই গ্রুপটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডিআইটি রেলকলোনী কেন্দ্রীঢ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আউয়াল। ২১ জুন শুক্রবার বিকেলে তার নেতৃত্বে আড়াইহাজারে সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওই বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে আব্দুল আউয়াল বলেন, সাদপন্থীরা যদি এজতেমার নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে তাহলে আমাদের তাবলীগের নামে বসে থাকার সুযোগ নেই। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও সাদপন্থীদের আমরা প্রতিহত করতে বদ্ধ পরিকর। সাদপন্থীদের এজতেমা করার জন্য যদি অনুমতি দেয়া হয় তাহলে শান্ত নারায়ণগঞ্জ অশান্ত হবে। আর এই দায় সরকারকেই বহন করতে হবে। সাদপন্থীদেরকে কোন মসজিদে আলোচনা করতে দেয়া হবে না। যদি কোন মসজিদে গোপনে গোপনে আলোচনা করে তাহলে আমরা সকলে মিলে এক হয়ে প্রতিহত করবো।

ওই সমাবেশে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেন, এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর ছত্রছায়ায় আড়াইহাজারে সাদপন্থীদের এজতেমার আয়োজন করা হচ্ছে। আমরা কারও রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। আমাদের আন্দোলনের সরকার বাধ্য হয়েছিল আলাদাভাবে এজতেমার আয়োজন করার জন্য। তাই বলছি রক্তের খেলা বন্ধ করুন। যদি আড়াইহাজারে এজতেমার আয়োজন করা হয় তাহলে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে।

ইসমাঈল হোসেন আব্বাসী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের তৌহিদী জনতা সাদপন্থীদেরকে মেনে নিবে না। তাদেরকে দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য আমরা প্রস্তত রয়েছি। তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেয়া হবে। নারায়ণগঞ্জে কোনভাবেই তাদেরকে এজতেমা করতে দেয়া হবে না।

এদিকে তাদের এসকল বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ সাদপন্থীরাও সহজে হাল ছেড়ে দিবেন না। তারাও তাদের অস্তিত্ব ধরে রাখার চেষ্টা চালাবেন। ফলে এসকল বিষয় নিয়ে ফের উত্তপ্ত হতে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ।

এর আগে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় শহরের আমলাপাড়াতে স্বর্ণপট্টি সংলগ্ন অবস্থিত ছোট মার্কাজ মসজিদে তাবলীগ নিয়ে বিবাদমান দুটি গ্রুপের অবস্থানের সময়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে জেলা হেফাজতে ইসলামের আমীর ও শহরের অন্যতম বৃহৎ ডিআইটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল আউয়ালকে লাঞ্ছিত করা হয়। ওই সময়ে অন্যরা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর চড়াও হয় লোকজন। এ নিয়ে মসজিদের ভেতরে যখন চরম উত্তেজনা চলছিল তখন পুলিশ সেখানে প্রবেশ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এরপর ৫ নভেম্বর দুপুরে জেলা পুলিশ প্রশাসন তাবলীগ সতর্কবার্তা পাঠায়। নারায়ণগঞ্জে তাবলীগ ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম ও মার্কাজপন্থীদের সতর্ক করে দেয় পুলিশ প্রশাসন। তাদের বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে যেন তাবলীগ নিয়ে আর কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সেই সঙ্গে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত উভয় গ্রুপকে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলা হয়েছিল।

কিন্তু ওই সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করে ফের ৬ নভেম্বর বিকেলে শহরের আমলাপাড়া ছোট মার্কাজ মসজিদে তাবলীগ ইস্যুতে হেফাজতে ইসলাম ও মার্কাজপন্থীদের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওই সময়ে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়াতে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের শান্ত করে। দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা যায়।

এসব ঘটনায় ১৫ নভেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন নারায়ণগঞ্জ তাবলীগের সাদ অনুসারীরা।

এদিকে তাবলীগের এ বিরোধ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছিলেন, নারায়ণগঞ্জে তাবলীগ জামায়াত ও আলেম উলামাদের মধ্যে চলমান বিরোধ প্রসঙ্গে মাওলনা সাদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তোমার এতো ইসলামের নতুন দর্শন দেওয়ার কি আছে? তোমারে কে লাইসেন্স দিছে? আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। তবে কেন ধর্ম নিয়ে এত কিছু। আমাদের নবী করীম (সা:) এর বিদায় হজের ভাষণ শুনলেই আমরা ধর্মের সঠিক লক্ষ্য বুঝতে পারবো। এভাবে একের পর এক পরস্পর বিরোধী বক্তব্য নারায়ণগঞ্জে বেশ উত্তপ্ত ছিল।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও