শামীম ওসমানদের সহনশীল রাজনীতি

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৩ পিএম, ২৬ জুন ২০১৯ বুধবার

শামীম ওসমানদের সহনশীল রাজনীতি

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে একজন বহুল আলোচিত প্রভাবশালী নেতা হলেন ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের সন্তান শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার রয়েছে বিশাল কর্মী সমর্থক বাহিনী। আর এই বিশাল কর্মী সমর্থক বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করে থাকেন। একের পর এক কর্মসূচিতে সরগরম হয়ে উঠে পুরো নারায়ণগঞ্জ।

কিন্তু সাম্প্রতিক সহনশীল রাজনীতিতে চলে এসেছেন শামীম ওসমান সহ তার অনুগামীরা। বিরোধী পক্ষ একের পর এক কটুক্তি ও বিভিন্নভাবে হেয় করার চেষ্টা চালিয়ে আসলেও শামীম ওসমান সহ তার অনুগামীরা কোনো আন্দোলনে যাচ্ছে না। শুধুমাত্র বিবৃতির মধ্যেই তারা সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছেন।

এরই মধ্যে শামীম ওসমান একাধিকবার বক্তব্যে বলেছন, আল্লাহ আমাকে অনেক ধৈর্য দিয়েছেন। এক সময়ে কোমরে থাকা জিনিরের উপর ভরসা করতাম। এখন ভরসা করি আল্লাহর উপরে। আমার মত মানুষকে আল্লাহ এত ধৈর্য দিয়েছে ভাবলে মাঝেমধ্যে অবাক হই।

জানা যায়, গত ১৫ জুন ফতুল্লার আলীগঞ্জ মাঠে একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে শামীম ওসমানের বিরোধী পক্ষ হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আপনি আলীগঞ্জ খেলার মাঠে এসেছেন, জনগণকে কথা দিয়েছেন মাঠ রক্ষা করবেন। জনগণকে কথা দিলে কথা রক্ষা করতে হয়। আপনি আপনার এলাকার মধ্যে মাঠ রক্ষা না করে আপনি নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামকে দখল করে আপনি বাবার নাম দিয়েছেন কেন। পৌরসভার ৯ একর জায়গা দিয়েছে ওসমানী স্টেডিয়ামকে। আপনি সেখানে ৪ একর জায়গা কেন দখল করেছেন। দখলের স্বভাবটা আপনার বন্ধ করুন। নারায়ণগঞ্জ দখল করতে পারেন নাই, পারবেন না।

মেয়র আইভীর এই মন্তব্যে এদিন রাতে শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘মেয়র আইভি আপনি থামেন। আজকে একটি অনলাইন মিডিয়ায় দেখলাম মেয়র আইভি, আমাদের নারায়নগঞ্জ এর গর্ব, নারায়ণগঞ্জের মানুষের প্রাণের স্পন্দন শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, দখল বাজি ছাড়েন। আমার প্রশ্ন, দখলবাজি কে করে? শামীম ওসমান নাকি আপনি ও আপনার পরিবার? আপনি আপনার বিশ্বস্ত লোক দিয়ে সিটি করপোরেশন এর সকল টেন্ডার নিজের দখলে রেখেছেন। আপনার পিতা জিওস পুকুর, বর্তমান আপনার বাড়ি সহ বহু হিন্দু সম্পত্তি দখল করেছেন। কাউকে খুশি করতে একজন সন্মানিত সাংসদ কে নিয়ে কটুক্তি করা শোভনীয় না।’

আর এই স্ট্যাটাসের মধ্যে দিয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছেন শামীম ওসমান সহ তার অনুগামীরা। অন্য কোন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন নি তারা কিংবা কোন কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেননি। সেই সাথে আড়াল হয়ে যাচ্ছে শামীম ওসমানকে নিয়ে মেয়র আইভীর এই কটুক্তিমূলক বক্তব্য।

এদিকে ১৬ জুন চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগ অফিসে বোমা হামলায় নিহতদের ফলক সম্বলিত স্মৃতিস্তম্ভে পাশে ময়লার ডাস্টবিন রাখা নিয়ে মেয়র আইভীকে আলটিমেটাম শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চন্দনশীল। সেই সাথে মেয়র আইভীকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ারও কথা বলেন তিনি। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা ময়লার ডাস্টবিন সড়িয়ে নিলেও মেয়র আইভীর ক্ষমা চাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। সেই সাথে চন্দনশীলও আর এই বিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

কিন্তু এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কারণে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। গত ১৯ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়। যারা শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত। ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছিল মেয়র আইভীর সাথে জামায়াত-বিএনপির সখ্যতা রয়েছে। ফলে নারায়ণগঞ্জকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছিল। সেই সাথে চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনী ও কলেজ ছাত্রী তনু হত্যাকান্ড নিয়ে মন্তব্য করে সরকারকে বিব্রত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিযোগও আনা হয়।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সারাদেশব্যাপীই সন্ত্রাস, ইভটিজিং, মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। আর এসব অপরাধীদের জন্য অন্যতম আবাসস্থলের জায়গা হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ। ফলে সন্ত্রাস, ইভটিজিং, মাদক ব্যাবসায়ী দমনে শামীম ওসমানের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ আসে। যার ধারাবাহিকতায় গত ২ মার্চ শহরে বিশাল সমাবেশ করে সন্ত্রাস, ইভটিজিং, মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন শামীম ওসমান।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকান্ড ইস্যুতে কয়েক বছর আগেও শহরে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। ওই সময়ে প্রয়াত নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের অনুগামীরা শহরে বিক্ষোভ আর কয়েক দফা নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বির কুশপুত্তলিকা দাহ করেছিল। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও শহরের চাষাঢ়াতে রফিউর রাব্বিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। এসব নিয়ে ২০১৭ সালটি বেশ উত্তেজনাকর ছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকান্ড নিয়ে বিরোধীদের বক্তব্য নিয়ে তেমন একটা প্রাধান্য দিচ্ছেন না শামীম ওসমান সহ তার অনুগামীরা। গত ৮ জুন রাতে শহরের ডিআইটি এলাকায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তন প্রাঙ্গনে ত্বকী হত্যার জন্য প্রয়াত এমপি একেএম নাসিম ওসমানের ছেলে আজমীর ওসমান ও বর্তমান এমপি শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানকে ‘হত্যাকারী’ এবং এমপি শামীম ওসমানকে ‘হত্যার পরিকল্পনাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছিলেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি হালিম আজাদ। তবে এই বিষয়টি নিয়ে শামীম ওসমান সহ তার অনুগামীর গুরুত্ব দিচ্ছেন না। মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ শুধুমাত্র ফেসবুক স্ট্যাটাসের আলটিমেটামেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও