পরিচ্ছন্ন নেতাদের পাশে দুর্ধর্ষ পলাশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫২ পিএম, ৩০ জুন ২০১৯ রবিবার

পরিচ্ছন্ন নেতাদের পাশে দুর্ধর্ষ পলাশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একজন বহুল বিতর্কিত নেতা হলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশ। ইতোমধ্যে তিনি নিজেকে বহু বিতর্কিত কর্মকান্ডে জড়িয়েছেন। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ফতুল্লার শিল্পাঞ্চল বিসিক এলাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিকেরা।

এবার সেই বিতর্কিত নেতা কাউসার আহমেদ পলাশকে দেখা গেল জেলা আওয়ামীলীগের পরিচ্ছন্ন নেতাদের পাশে। যদিও পলাশ জেলা আওয়ামী লীগের কোন পদে নেই। জেলা আওয়ামী লীগের কোন পদে না থাকা সত্ত্বেও জেলা আওয়ামী লীগের পরিচ্ছন্ন নেতাদের পাশে কাউসার আহমেদ পলাশকে দেখে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তৃণমূলে। এ নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, আওয়ামীলীগের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে ৩০ জুন রোববার বিকেলে ২নং রেলগেইট আওয়ামীলীগের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু করে শহরের চাষাঢ়া গোলচত্ত্বর হয়ে আবার কার্যালয় পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য র‌্যালীর আয়োজন করা হয়। এই র‌্যালী উপলক্ষে জেলা আওয়ামীলীগের ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। কিন্তু এই বর্ণাঢ্য আয়োজনকে নষ্ট করে দিল বিতর্কিত শ্রমিক নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের উপস্থিতি। জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আয়োজিত পুরো র‌্যালীতেই সিনিয়র নেতাদের সাথে পাশে ছিলেন কাউসার আহমেদ পলাশ। আর এই বিষয়টিকে ভালভাবে নেননি জেলা আওয়ামীলীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

তাদের মতে, জেলা আওয়ামী লীগের কোন পদে না থেকেও এই বিতর্কিত কেন সিনিয়র নেতাদের সাথে থাকবে। তার কারণে তো নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ তো বিতর্কিত হতে পারে না। কাউসার আহমেদ পলাশ আওয়ামীলীগের ক্ষতিকারক। সে প্রধানমন্ত্রীর প্রজেক্টের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করে। বিভিন্ন সময় গার্মেন্টস শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে দেশের শিল্প ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পলাশ দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে নস্যাৎ করতে চেয়েছে কয়েকবার। তার কারণে ফতুল্লা এলাকার গার্মেন্টস মালিকরা শান্তি পায় না। পলাশের মতো নেতাকে আওয়ামীলীগের দরকার নেই। আর তাকেই কিনা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র‌্যালীতে রাখা হয়েছে, যা দলের নেতাকর্মীদের জন্য বিব্রতকর।

জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পদে কাউসার আহমেদ পলাশের জায়গা হয়। কিন্তু এই মনপুত না হওয়ায় কাউসার আহমেদ পলাশ নিজেকে গুটিয়ে নেন। তবে নিজেকে গুটিয়ে নিলেও স্বার্থ আদায়ের জন্য সময়ে অসময়ে জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন কাউসার আহমেদ পলাশ।

এদিকে কাউসার আহমেদ পলাশের বিরুদ্ধে রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। সর্বশেষ গত ২৯ জুন শনিবারও ফতুল্লা মডেল থানায় শ্রমিকলীগ নেতা কাউছার আহমেদ পলাশের ১০ সমর্থকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর একটি অভিযোগ করেছে এক ইজিবাইক মালিক। সেই সাথে ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জে আলোচিত চরিত্রদের একজন কাউসার আহমেদ পলাশ। বছরজুড়ে গার্মেন্ট সেক্টর, বিভিন্ন পরিবহন সেক্টর থেকে চাঁদাবাজী আর মনোনয়ন ইস্যুতে পলাশ ছিলেন আলোচিত। তাঁর বক্তব্য তিনি হলেন ফতুল্লার সর্বশ্রেষ্ঠ একমাত্র অদ্বিতীয় শ্রমিক নেতা।

২০১৮ সালের  ৩ ডিসেম্বর ও ৬ ডিসেম্বর ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে পরপর দুইদিন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১জন নিহতসহ আহত হয় প্রায় শতাধিক শ্রমিক। এই সংঘর্ষের ঘটনায় মালিকপক্ষ শ্রমিক নেতাদের দায়ী করে। এরপর থেকেই কাউসার আহমেদ পলাশ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে চুপ হয়ে যান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও তাকে আর প্রচারণায় দেখা যায়নি। ফলে কাউসার আহমেদ পলাশ নৌকার মাঝি হতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত নৌকা ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।

সদর উপজেলার ফতুল্লায় কুতুবপুর ইউনিয়নে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশা (ইজিবাইক) থেকে জাতীয় শ্রমিকলীগের শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহাম্মেদ পলাশের নেতৃত্বে বছরে ৫৭ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার মালিক ও শ্রমিকরা। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে কিংবা চাঁদা দিতে দেরী হলে শ্রমিকদের উপর নেমে আসে নির্যাতনের খড়গ।

জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে আরেক ‘নূর হোসেন ফতুল্লার গডফাদার পলাশ ও তার চার খলিফা’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এছাড়া পলাশের কোন নাম না থাকলেও একটি সংবাদের রেশ ধরে সময়ের নারায়ণগঞ্জ, ডান্ডিবার্তা ও অনলাইন নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের ৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন ও দুইটি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। এর মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের ফতুল্লা প্রতিনিধি আলামিন প্রধানের বিরুদ্ধে ১০ কোটি, ইত্তেফাকের নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা ও স্থানীয় দৈনিক ডান্ডিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি এবং দৈনিক সময়ের নারায়ণগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানি মামলা করেন। একই সঙ্গে আলামিন প্রধান ও নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক তানভীর হোসেনের বিরুদ্ধে দুইটি ৫৭ ধারায় মামলা করেন।

ওই সংবাদ প্রকাশের পর শুধু মামলা নয় তার বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লায় মিছিল করে সাংবাদিকদের চামড়া তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে ১১ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রী নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের কিছুটা হুশিয়ার করেছিলেন। শ্রমিকদের উপস্থিতিতে ওই সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘আগামীতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কোন সংবাদ প্রকাশ হলে আরো মামলা দেওয়া হবে। কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আমি ছাড় দেওয়ার মানুষ না।’

২০১৮ সালের ৫ মে ‘এক পলাশেই সর্বনাশ’ শিরোনামে ও  নারায়ণগঞ্জে শ্রমিকলীগের নাম তান্ডব, চাঁদার জন্য ৩৬ শিল্প-কারখানা বন্ধ, এলাকা ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা’ বিশেষণে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয় যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় হয়।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও