ঘুনে ধরা ছাত্রদলে ফাটল দৃশ্যমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৮:৫৮ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৯ বুধবার

ঘুনে ধরা ছাত্রদলে ফাটল দৃশ্যমান

বিএনপির ভ্যানগার্ড খ্যাত সহযোগি সংগঠন ছাত্রদলে দ্বন্দ্ব কোন্দলের মধ্য দিয়ে ঐক্যের মিল বন্ধনে ফাটল দেখা দিচ্ছে। এই ফাটলগুলো ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে। ঘুন পোকা যেমন কাঠ পেলেই তছনছ করে দেয় ঠিক তেমনি ছাত্রদলের দ্বন্দ্বের পোকা বিএনপির সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। যেকারণে বিএনপি ত্রাহিদশার মধ্য দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছাত্রদলের উপর ভর করে বিএনপি বিগত দিনে নানা আন্দোলন কর্মসূচিতে চমক দেখিয়ে এসেছে। কিন্তু সেই সংগঠনটিতে এখন দ্বন্দ্ব কোন্দলের ভাইরাস আক্রমন করেছে। এতে করে ছাত্রদলের দ্বন্দ্বে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর সেই ত্রাহিদশা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে কোন চমক দেখা যাচ্ছেনা। যেকারণে দ্বন্দ্বের পোকা সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।

জানা যায়, জেলা ছাত্রদলের কমিটি নিজস্ব কোন্দল ও একক আধিপত্য রাখতে গিয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে পারেনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। নিজেরা নিজেরাই কমিটি নিয়ে একাধিকবার জড়িয়ে পড়েন দ্বন্দ্বে। এ নিয়ে কমিটির বাকি নেতারা অনেক বার চেষ্টা করেও নেতাদের এক করতে সফল হননি। কমিটি হবার এক মাসের মধ্যেই জেলার পূর্ণাঙ্গ করতে উঠেপড়ে কাজ করলেও সভাপতি রনির জন্য তা করতে পারেনি জেলা ছাত্রদল। অপরদিকে একই সময়ে কমিটি পেলেও তা পূর্ণাঙ্গ করে ফেলেছে মহানগর ছাত্রদল।

সম্প্রতি জেলার কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করেই থানা নিয়ে ঝুঁকেছেন সভাপতি রনি। এ নিয়ে অন্যান্য পদধারী নেতাদের একত্রিত করে জেলার সাধারণ সম্পাদককেও কমিটি দিতে জোর করে তাকে নিয়ে কমিটির ব্যাপারে কাজ শুরু করেন। তবে এটিও নিছক নেতাকর্মীদের সাথে আরেকটি ছলনা, কারণ এই কমিটিও তিনি দেননি একাধিকবার সময় দিয়েও। এখন বলছেন তিনি কেন্দ্রে পদ পান কিংবা না পান কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের পরেই কমিটি দিয়ে দেবেন তিনি। এসব বলে নেতাকর্মীদের তিনি নিজের জন্য কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।

অথচ নির্বাচনের পরে জেল থেকে বের হয়ে একটি বারের জন্য জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কোন কর্মসূচী পালন করেনি রনি। জেলার সভাপতি নিজেও রাজপথে একেবারেই নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। তবে তিনি কেন্দ্রে পদের জন্য করছেন লবিং তদবির।

নেতাকর্মীরা বলেন, রনি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আছেন এবং আবার কেন্দ্রেও সাধারণ সম্পাদক হতে চান অথচ জেলার ও থানার নেতাদের তিনি একটি পদ কিংবা পরিচয় দিতে চান না। আবারো পদধারী নেতাদেরকেই পদায়ন করতে চান। কমিটি নয় নিজের আখের গোছানোয় মূল লক্ষ্য এসব নেতাদের।

অন্যদিকে মহানগর ছাত্রদল কমিটি সমালোচনা এড়িয়ে অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু এর মধ্যে দলের ভেতরে অন্তর্দ্বন্দ্বের নানা দৃশ্যপট তৈরি হয়। যেকারণে এই সংগঠনেরও এখন নানা নাটকীয়তা ও দ্বন্দ্ব কোন্দল দেখা যাচ্ছে।

জানা যায়, গত ২১ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৮ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবীতে দোয়া ও ইফতারের আয়োজন করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের গুটি কয়েক নেতা। কিন্তু তারা ব্যবহার করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের ব্যানার। মহানগর ছাত্রদলের ব্যানার ব্যবহার করলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মহানগরের সভাপতি শাহেদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বাবু। সেই সাথে আয়োজকরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুমতিও নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। ফলে সাংগঠনিক নিয়মের বাইরে গিয়ে ইফতার মাহফিল করেছেন।

আর এখানে উপস্থিত হয়ে মহানগর ছাত্রদলের নেতাদের ইফতার মাহফিল আয়োজনকারীদেরকে উৎসাহিত করেছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি এম এইচ আনোয়ার প্রধান ও জেলা যুবদলের সহ সভাপতি পারভেজ মল্লিক।

এ বিষয়ে মহানগর ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য হচ্ছে, ওই দিনের ইফতার মাহফিলে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা মহানগর ছাত্রদলের কোন্দল সৃষ্টিকারীদের উৎসাহিত করেছেন। ছাত্রদলের মহানগর নেতাদের অনুপস্থিতে এই ইফতারর মাহফিলে উপস্থিত থাকাটা কখনও উচিত হয়নি তাদের জন্য। ওই ইফতার মাহফিলে উপস্থিত না হলে দলের কোন ক্ষতি হয়ে যেত না। তারা দলের ক্ষতি করে হাজির নিজ স্বার্থ আদায়ের জন্যই ইফতার মাহফিলে হাজির হয়েছিলেন অন্যথায় হাজির হতেন না।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও