হকারদের উস্কিয়ে দিয়ে শহরব্যাপী উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন বাম নেতারা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৩৭ পিএম, ১১ জুলাই ২০১৯ বৃহস্পতিবার

হকারদের উস্কিয়ে দিয়ে শহরব্যাপী উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন বাম নেতারা

নারায়ণগঞ্জের অন্যতম একটি অমিমাংসিত ইস্যু হলো হকার ইস্যু। অনেক আলাপ আলোচনার পরেও এই সমস্যার সমাধানে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। সেই সাথে হকাররাও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েও ফুটপাত ছাড়েননি। তবে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদের অ্যাকশনে হকাররা ফুটপাত থেকে সড়েছিলেন। পুলিশ সুপারের অ্যাকশনে কয়েকদিন ফুটপাত দখল করা থেকে বিরত থাকলেও আবার নতুর করে ফুটপাথে বসার জন্য সংঘবদ্ধ হচ্ছেন। গত কয়েকদিন ধরেই তারা শহরের বিভিন্ন জায়গায় সভা সমাবেশ সহ নানা তদবিরও চালিয়ে যাচ্ছেন।

আর তাদেরকে পিছন থেকে উস্কিয়ে দিয়ে শহরব্যাপী উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়কারী খ্যাত বাম দলের নেতারা। এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ন্যাক্কারজনক ঘটনা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সাথে হকার সংঘর্ষের ঘটনাতেও বাম দলের এক নেতার উস্কানি ছিল। সেসময় শুধুমাত্র একজনকে দেখা গেলেও এবার অনেককেই দেখা যাচ্ছে হকারদের সাথে আন্দোলন সংগ্রামে।

তারই ধারাবাহিকতায় ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ জেলা হকার্স সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সেই সাথে শহীদ মিনার থেকে শুরু করে পুরাতন কোর্ট পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিলও করেন তারা। আর এই আন্দোলন কর্মসূচির পুরো পক্রিয়াতেই ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য কমরেড আবু হাসান টিপু, গার্মেন্টস শ্রমিকফ্রন্ট জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নারায়ণগঞ্জের সভাপতি আব্দুল হাই শরীফ, সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন।

তাদের সাথে হকার্স সংগ্রাম পরিষদের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তবে এসকল হকার্স নেতাদের হকারদের নেতৃত্বে ছিলেন নাম উল্লেখিত বাম দলের নেতারা। তারা চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সরকার, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তুলোধুনো করেছেন। সেই সাথে হকারদের উচ্ছেদ করতে গেলে যারা উচ্ছেদ করতে আসবে উল্টা তাদেরকে উচ্ছেদ করার হুঁশিয়ারী দেন। পাশাপাশি হকারদের দাবী আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনেরও ঘোষণা দেন তারা।

এসকল বাম নেতাদের সমর্থন পেয়ে হকাররা আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠছেন। ফলশ্রুতিতে যে কোন সময় নারায়ণগঞ্জে আবারও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী ফুটপাতে বসা নিয়ে হকার সাথে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বড় লংকাকান্ড ঘটেছিল। এদিন ছিল নারায়ণগঞ্জ শহরের রাজপথ উত্তপ্ত। বিকেল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে সংঘর্ষের ঘটনা পুরো বছর জুড়েই আলোচিত ছিল। আতঙ্কে ছিলেন পুরো নারায়ণগঞ্জবাসী।

প্রসঙ্গত চলতি বছলের ১০ জানুয়ারী নারায়ণগঞ্জ চাষাঢ়া শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ চাঁদাবাজি, ভূমিদুস্য, মাদক ব্যবসা ও ফুটপাথ দখলমুক্তকরণ সহ বিভিন্ন ইস্যুতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন। আর সেই ঘোষণার পর বড় বড় রাঘব বোয়ালরাও পুলিশের জালে আটকা পড়ে। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতও দখলমুক্ত হয়ে যায়। এসপি হারুন অর রশিদের ওই ঘোষণার পরে ফুটপাতের দখলদারীরাও ফুটপাত ছেড়ে দিয়েছিলেন।

তবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতগুলো হকারদের দখলে চলে গিয়েছিল। সই সাথে ঈদকে ঘিরে পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদও আর অ্যাকশনে যাননি। তবে ঈদ শেষ তিনি আবার ফুটপাত দখলদারীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যান। গত ১৫ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করণে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ অভিযান চালায়। তার সেই অভিযানে এখন পর্যন্ত অবৈধ দখলমুক্ত রয়েছে শহরের ফুটপাতগুলো।

কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে হকাররা ফুটপাতে না বসলেও আবারও নতুন করে বসার লক্ষ্যে একত্রিত হচ্ছেন হকাররা। গত ৪ জুলাই থেকে হকার নেতাদের নেতৃত্বে চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংগঠিত হওয়া শুরু করেছে হকাররা। উদ্দেশ্য নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাত ফের দখল করা। যার ধারাবাহিকতা এখনও চলমান রয়েছে। তবে এর শেষ কোথায় হবে সেটা এখনও নারায়ণগঞ্জবাসীর অজানা।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও