যারা বলে তাদের দিন বেশী নাই : শামীম ওসমান

সিটি করেসপন্ডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫২ পিএম, ১৪ জুলাই ২০১৯ রবিবার

যারা বলে তাদের দিন বেশী নাই : শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, আমার বড় ভাই আমাকে নিয়ে কিছু কথা বলে গেছেন। আমি উনাকে বলেছি কে কি বললো সেটা নিয়ে এখন আর ভাবার সময় নাই। ওই সকল কথা জাস্ট ইগনোর করেন। এখন শুধু নারায়ণগঞ্জটাকে সুন্দর করে সাজিয়ে যেতে চাই। কারা কি বললো তাতে কিছু যায় আসেনা। তাদের বলতে দেন। যারা বলে তাদের বলার সময় আর বেশি দিন নাই। আর নারায়ণগঞ্জের মানুষের উদ্দেশ্যে বলবো আপনাদের অধিকার আপনাদেরকেই বুঝে নিতে হবে। অন্য কেউ এসে আপনাদের অধিকার বুঝিয়ে দিয়ে যাবেনা।

শনিবার ১৩ জুলাই রাতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রুটের সস্তাপুর এলাকায় অবস্থিত নমস্ পার্কে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও বিকেএমইএ এর আয়োজন সদ্য পদোন্নতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জের বিদায়ী জেলা প্রশাসক রাব্বি মিঞার বিদায় সংবর্ধনা এবং নবাগত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন এর যোগদান উপলক্ষ্যে সংবধর্না অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

একই অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এমপি সেলিম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিতে একটা বিভেদ ছিল। রাজনীতিতে বিভেদ থাকতেই পারে এটা স্বাভাবিক। আমরা জনপ্রতিনিধিরা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করি। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জে অনেক উন্নয়নই হয়েছে। একটু ধেরিতে হলেও সিটি কর্পোরেশন পেয়েছি। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তেমন উন্নয়ন হয়নি। সিটি কর্পোরেশনের ১৭টি ওয়ার্ড আমার নির্বাচনী এলাকায় এবং বাকি ১০টি ওয়ার্ড নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন এলাকায়। আলোচনার মাধ্যমে কি না করা সম্ভব। কিন্তু কেন যেন মনে হচ্ছে এটা নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি হতে পারেনা।

বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেলিম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এক সময় নারায়ণগঞ্জে পাটের ব্যবসা ছিল এখন নেই। জুট অ্যাসোসিয়েশনকে ডাক্তার খানায় পরিণত করা হয়েছে। মেট্রোপলিট্রন চেম্বারের জন্য এই নারায়ণগঞ্জে সেটা ঢাকায় চলে গেছে। আমরা নিটওয়্যার সৃষ্টি করলাম। যেখানে শুধু নারায়ণগঞ্জের প্রায় ২৫লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা নারায়ণগঞ্জে বিকেএমইএ ভবনের কাজ শুরু করলাম ফাউন্ডেশনের কাজ শেষ হওয়ার পর সিটি কর্পোরেশন থেকে রাজউকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে বিকেএমইএ ভবনের কাজ বন্ধ করে দিলো, দুবছর ধরে কাজ বন্ধ হয়ে আছে। ২নং রেলগেইটে রহমতউল্লাহ ইন্সস্টিটিউট আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও কারো সাথে কথা না বলে বুলডোজার চালিয়ে দিলো। ফুটপাত দখল হোক সেটা আমিও চাইনা। কিন্তু ফুটপাতের হকারদের পিটিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় তাদের পুনর্বাসন করা হয়না। অথচ রাস্তা দখল করে নিজের বাবার নামে পাঠাগার তৈরি করা হয়। আসলে সমস্যাটা কোথায়। উনি কারো সাথে কোন আলোচনাই করেন না যা উনার মন চায় উনি তাই করছেন। আমাদের নতুন প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে একদিন এ অবস্থার পরির্তন হবে।

নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ কলেজের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে সেটাকে একটি মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। কলেজের আশপাশের জায়গাগুলো কলেজকে দেওয়ার জন্য পূর্বে ডিসি কাজটা অনেকদূর এগিয়ে ছিলেন। খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে, এটিকেও মেডিকেল কলেজে রূপান্তরিত করা হবে। বন্দরের উন্নয়ন নিয়ে কোন রাজনীতি নাই। বন্দরে প্রতিটি উন্নয়ন কাজে আমি আওয়ামীলীগ বিএনপি জাতীয় পার্টি সবাইকে একটি মঞ্চে পেয়েছি এটা আমার সব থেকে বড় সফলতা। প্রধানমন্ত্রী মদনগঞ্জে নীটপল্লীর অনুমোদন দিয়েছেন পূর্বের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান এবং রাব্বি মিঞা এটা নিয়ে কাজ করেছেন, লাঙ্গলবন্দে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে এ বিষয়গুলো আরো বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে। 

শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘শামীম ওসমানকে গডফাদার বলা হয়। শামীম ওসমান অনেকের পেটে লাথি মেরেছে এটা তাঁর ঠিক হয়নি। টানবাজারের পতিতাপল্লী থেকে যারা পয়সা কামাই করতো, আবার তারাই ওই টাকায় নেতা সাজতো, শামীম ওসমান পতিতাপল্লী উচ্ছেদের ফলে তাদের পেটে লাথি পড়েছে। সে সময় যাদের পেটে লাথি পড়েছে তারাই শামীম ওসমানকে গডফাদার বলে। শামীম ওসমান ভেসে আসে নাই। শামীম ওসমানের দাদা খান সাহেব ওসমান আলী যারা বাড়িতে আওয়ামীলীগের জন্ম, শামীম ওসমানের বাবা শামসুজ্জোহা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠার অন্যতম সদস্য, তিনিই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে দেশে এনে ছিলেন, তিনি প্রথম বেতারে বলেছিলেন আমরা স্বাধীন, তিনিই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে সেফ করতে গিয়ে গুলি খেয়ে ছিলেন। অনেক চুপ থেকেছি আর চুপ করে থাকতে চাই না।’’

বিদায়ী জেলা প্রশাসক রাব্বি মিঞা বলেন, বিদায় হওয়ার ২০দিন পর আবার আমাকে পুণরায় নারায়নগঞ্জে আসতে হয়েছে। যে সম্মান আর ভালবাসা নারায়ণগঞ্জের মানুষ আমাকে দিয়েছে এটা আমার জীবনে স্মরনী হয়ে থাকবে। আমি বার বার নারায়ণগঞ্জে এসেছি, যখনই এসেছি আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করেছেন। যতদিন বাচঁবো নারায়ণগঞ্জকে ভালবেসে যাবো। নারায়ণগঞ্জ চোখে চোখের আড়ালে থাকবে তখন হৃদয়ে ধারন করবো।

নবাগত জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, এই নারায়ণগঞ্জ ঐতিহ্যের নারায়ণগঞ্জ। সেই ঐহিত্যকে ধারণ করে নারায়ণগঞ্জের জন্য ভাল কিছু করতে চাই। নারায়ণগঞ্জ বাসী হতে চাই। আজকে যেমন সম্মান দেওয়া হচ্ছে বিদায়েও যেন এর থেকে আরো বেশি সম্মান পেতে পারি সেভাবে কাজ করতে চাই।

আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ  সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, এমপি সেলিম ওসমানের সহধর্মিনী মিসেস নাসরিন ওসমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, সাবেক নারী সাংসদ অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী সহ অন্যান্যরা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন  বিকেএমইএ ১ম সহ-সভাপতি  মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, বিকেএমইএ সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির খান, প্রবীর কুমার সাহা পরিচালক এফবিসিসিআই, নাজমুল আলম সজল সভাপতি বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশন, সেলিম সারোয়ার সভাপতি বাংলাদেশ নিটিং ওনার্স এসোসিয়েশন, মোরশেদ সারোয়ার (সোহেল) সিনিয়র সহ-সভাপতি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, আমিনুর রশীদ সহ-সভাপতি এনসিসিআই, জি এম ফারুক, কাজী ফয়সাল কায়েস, মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, আতাউর রহমান, সৌমিক দাস, আবু তাহের শামীম, মোঃ সাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া (সাজনু), শ্যামল কুমার সাহা, মোঃ আরিফ দিপু, মোঃ জাকারিয়া ওয়াহিদ, আশিকুর রহমান, সোহেল আক্তার, এড. হোসনে আরা বেগম (বাবলী) ও সাবেক পরিচালক ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান এম.এ রশিদ, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহম্মেদ সাগর, ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদ, ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার, ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুজ্জোহা, ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান বাবুল, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম.এ সালাম, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ সহ সকল ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্যবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও