হঠাৎ কেন জাকির খান? নানা প্রশ্ন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪১ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯ রবিবার

হঠাৎ কেন জাকির খান? নানা প্রশ্ন

দীর্ঘদিন পরে আবারো আলোচনায় এসেছেন নারায়ণগঞ্জের এক সময়ের আলোচিত ছাত্রদল নেতা জাকির খান। দীর্ঘ বছর ধরে প্রবাসে থাকা জাকির খানকে নিয়ে গত সংসদ নির্বাচনের আগে বেশ আলোচনা হচ্ছিল। তখন এও খবর ছড়িয়েছিল তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সবগুলো মামলায় তিনি আদালতে আত্মসমর্পন করবেন। কিন্তু শেষতক সেটা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। এরই মধ্যে জাকির খান নারায়ণগঞ্জে এসেছিল এমন খবরও ছড়ায়। যদিও পরিবারের লোকজন বলছেন, এসব ছিল নিছক গুজব।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জাকির খানের একটি ছবি ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এতে বলা হচ্ছে, গত মাসে অনুগামীদের নিয়ে ভারতের আজমীর শরীফ যিয়ারত করেন জাকির খান। যদিও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কেউ বক্তব্য দেয়নি। কিন্তু এ নিয়ে আছে নানা আলোচনা। হঠাৎ করেই জাকির খানকে আলোচনায় আনা হয়েছে নাকি তিনি ইচ্ছে করেই আলোচনায় আসতে চাচ্ছেন সেটা নিয়েও আছে প্রশ্ন।

ওই খবরে বলা হয়, নাম না প্রকাশের শর্তে জাকির খানের সফর সঙ্গী কয়েকজন জানায়, জাকির খান গত ২৬ জুন রাতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে থাই এয়ার লাইনসের একটি বিমানে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে আসেন। এর পরে সেখানে থাকা বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে দিল্লীর হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়ার মাজার শরীফে গিলাপ চড়িয়ে জিয়ারত করেন। এরপরে মহানগর বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা জাকির খানের নেতৃত্বে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা মুম্বাইতে হযরত হাজী আলীর মাজার শরীফ জিয়ারত শেষে আজমীর শরীফে এসে পৌছায়। পরদিন শুক্রবার জাকির খান আজমীর শরীফে খাজা বাবা খ্যাত হযরত মঈনুদ্দীন চিশতী (রহঃ) মাজার শরীফে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। ২০ জুলাই রাতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ভারতের মাটি ত্যাগ করবেন জাকির খান।

১৯৮৯ সালে নাসিম ওসমানের হাতে ধরে জাতীয় পার্টির ছাত্র সমাজে যোগদানের মাধ্যমেই জাকির খানের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ। তার পিতা দৌলত খান ছিলেন তৎকালীন টানবাজার পতিতালয়ের গডফাদার। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর জাকির খানের সাথে নাসিম ওসমানের বিরোধ বাধলে কামালউদ্দিন মৃধার নেতৃত্বে সে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেয়।    এক পর্যায়ে দেওভোগ এলাকার অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী দয়াল মাসুদকে শহরের সোনার বাংলা মার্কেটের পেছনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্ধর্ষ হিসেবে শহরে পরিচিত হয়ে উঠে জাকির খান। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে জাকির খান শহরের খাজা সুপার মার্কেটে হামলা ও ভাঙ্গচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্ত হয়ে জেলে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার ৭ মাসের মাথায় কাশীপুর বাংলা বাজার এলাকায় এক ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবীর অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় দ্বিতীয় দফায় জাকির খানের ৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড হয় এবং জেলে যায়। ১৯৯৯ সালে স্বল্প সময়ের জন্য জেল থেকে বের হয়ে জাকির খান জেলা ছাত্রদলের সভাপতির পদটি পেয়ে যান। আওয়ামীলীগের শাসনামলের শেষ দিকে ২০০০ সালে শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ থেকে টানবাজার ও নিমতলী পতিতালয় উচ্ছেদ করে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরও প্রায় ৫ মাস জেলে থাকে জাকির খান। সর্বশেষ ২০০৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারী জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও বিআরটিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান তৈমুর আলম খন্দকারের ছোট ভাই ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আততায়ির গুলিতে নিহত হয়। এ ব্যাপারে জাকির খানকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন তৈমুর আলম খন্দকার। এর পর সে নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে  যায়। পাড়ি জমায় থাইল্যান্ডে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও