আওয়ামী লীগের ২ উপজেলায় সম্মেলন ৩টিতে নিস্ক্রিয়তা

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৪৪ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

আওয়ামী লীগের ২ উপজেলায় সম্মেলন ৩টিতে নিস্ক্রিয়তা

দীর্ঘদিন পর নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার মধ্যে ২টি উপজেলায় আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে জেলার বাকি ইউনিটের মধ্যে ফতুল্লা, বন্দর, সোনারগাঁয়ের সম্মেলন নিয়ে কোন তোড়জোড় দেখা যাচ্ছেনা। সেই আগের মত পুরনোদের নিয়ে নিষ্ক্রিয়তার মধ্য দিয়ে খুঁড়ে খুঁড়ে চলছে। নেই কোন চমক নেই কোন উচ্ছ্বাস। এর ফলে নিষ্ক্রিয়তা ও ক্ষোভের পাল্লা ভারী হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দলকে সক্রিয় করে তুলতে হলে দলের ত্যাগী নেতাদের সুযোগে দিয়ে নিষ্ক্রিয়দের মাইনাস করতে হবে। এছাড়া নতুনদের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ জেলায় আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে এবার সম্মেলন হলেও মাত্র দুটি উপজেলায় হয়েছে। বাকি ৩টি উপজেলায় এর কোন তোড়জোড় নেই। এতে করে সেসব এলাকার নেতারা অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, আওয়ামীলীগ দীর্ঘ মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় থাকার পরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের থানা কমিটিগুলোতে গতি ফিরেনি। একের পর এক দলীয় কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই তাদের দিনকাল অতিবাহিত হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ আগের করা কমিটি দিয়ে চলছে থানা কমিটিগুলোর কার্যক্রম। আর এসকল কমিটিগুলো সভাপতি আর সাধারণ সম্পাদকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আবার কোনটির ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে বছরের পর বছর। ফলে ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ গতি ফিরে পাচ্ছে না।

ফলে জেলা আওয়ামী লীগের গতি ফিরাতে নেতাকর্মীদের আলোচনা সমালোচনার মুখে থানা পর্যায়ে নতুন কমিটি করার উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। সেই লক্ষ্যে গত  ১৩ জুলাই ২ নং রেলগেইট আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রূপগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১৬ তারিখ এবং আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ১৯ তারিখ ঘোষণা করা হয়। পরে আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের তারিখ পরিবর্তন করে ২২ জুলাই ঘোষণা করা হয় এবং সেই তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামীলীগের অন্যান্য থানা কমিটিগুলো আগষ্টের পরে ঘোষণা দেয়া হবে জানানো হয়।

যার ধারাবাহিকতায় দুটি উপজেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২২ জুলাই আড়াইহাজার থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সভাপতি হিসেবে নজরুল ইসলাম বাবুর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে এই পদটি তার জন্য প্রমোশন নাকি ডিমোশন সেটা নিয়ে সন্দেহ সংশয় দেখা দিয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেই সাথে রাজনৈতিক মহলেও নানা মুখরোচক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ নজরুল ইসলাম বাবু ছাত্রজীবনেই কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে গত ১৬ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে রূপগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর এই নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর ও সাধারণ সম্পাদক পদে শাহজাহান ভূঁইয়া রয়েছেন। যিনি এর আগেও থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন। আর গোলাম দস্তগীর গাজী টানা তিনবারের এমপি এবং সর্বশেষ মন্ত্রীও হয়েছেন।

১৯৯৭ সালে সাবেক এমপি কায়সার হাসনাতের বাবা আবুল হাসনাতকে সভাপতি ও আব্দুল হাই ভূইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ৫১ সদস্যে বিশিষ্ট সোনারগাঁ থানা কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য সভাপতি আবুল হাসনাত ও সিনিয়র সভাপতি মোশাররফ হোসেনকে নিজ নিজ পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। তাদেরকে সরিয়ে অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়াকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত তিনি আর ভারমুক্ত হতে পারেননি। একই সাথে ২০১৪ সালে সোনারগাঁ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই ভূইয়া মারা গেলে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে মাহফুজুর রহমান কালামকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনিও এখন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্তই রয়েছেন।

এছাড়া ২০০৪ সালে এম এ রশিদকে সভাপতি ও খুরশীদ আলম সাগরকে সাধারণ সম্পাদক করে বন্দর থানা আওয়ামী লীগ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে খুরশীদ আলম সাগরকে বাদ দিয়ে আবেদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময়েও সাধারণ সম্পাদককে ভারমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

একইভাবে ফতুল্লা থানার সভাপতি সাাইফউল্লাাহ বাদল ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী নেতৃত্ব আকড়ে থাকার কারণে নতুন কোনো নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে তাদের দলীয় কার্যক্রম।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক নেতা জানায়, অনেক নেতারা দলের শীর্ষ পদগুলো তাদের কব্জায় রাখতে চায়। কারণ সেসব পদে নতুন নেতৃত্ব চলে আসলে তাদের নানা প্রতিকুলতার সম্মুখিন হতে হবে। তাছাড়া ক্ষমতার দাপটও অনেকটা কমে যাবে। আর সেই লোভ যেসব নেতারা সামলাতে পারছেনা তারা এখনো পদগুলো কুক্ষিকরণ করে রেখেছে। আর সম্মেলন নিয়ে কোন তোড়জোড় করছেনা।

নেতাকর্মী সূত্র বলছে, আওয়ামীলীগে দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা কমিটি গুলোতে কোন পরিবর্তন আসেনি। যেকারণে দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নেতারা নতুন কমিটিতে পদ পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছে। তবে সময়ের পরিধি দীর্ঘ হওয়ায় অনেক নেতা হতাশাগ্রস্থ হয়ে সক্রিয়তার অবস্থান থেকে থমকে দাঁড়িয়েছেন। আবার অনেকে ঝিমিয়ে পড়েছেন। কারণ দলের জন্য কাজ করলেও তার উপহার স্বরুপ কোন পদ পাচ্ছেনা অনেকে। আবার অনেকে পদ পেলেও যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছেনা। তবে এবার সেই অপেক্ষার দিন শেষ হতে চলেছে বলে আশার প্রদিপ জ্বলেছিল। কিন্তু জেলার ২টি উপজেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে করে বাকি উপজেলার নেতাকর্মীদের সেই আশার প্রদিপ নিভে যায়। এতে করে বাকি উপজেলার নেতাকর্মীরা ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও