মামলা নিয়ে আওয়ামী লীগের উদ্বেগ, ভবিষ্যতে কর্মী পাওয়া যাবে না

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ১০:০১ পিএম, ২৩ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

মামলা নিয়ে আওয়ামী লীগের উদ্বেগ, ভবিষ্যতে কর্মী পাওয়া যাবে না

গত ২০ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি আল-আমিন নগর এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনীতে বাক প্রতিবন্ধী সিরাজ নিহত ও একই দিন মানসিক প্রতিবন্ধী শারমিন আহত হওয়ার ঘটনায় দলীয় নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে আসামী করায় পুলিশ সুপার, আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন। ২৩ জুলাই মঙ্গলবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তারা এ আহ্বান জানান।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেন, গুজবে কান দিয়ে এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকান্ডে আমরা অত্যান্ত মর্মাহত। আমরা নিহত সিরাজের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। পাশাপাশি নিহত সিরাজের শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনসহ প্রশাসনের অন্যান্য ইউনিটগুলোর সজাগ দৃষ্টির কারণে পুলিশ প্রশাসন ও তথা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আমরা ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি, মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুই ঘটনায় ইতোমধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। যার একটিতে ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য মামলাটিতে ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উভয় মামলায় অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে ৫৫০ জন।

আমরা আশাকরি এ দুটি মামলার মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও গুজবে কান দিয়ে যারা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তাদের গ্রেফতার করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে কঠোর সাজা প্রদানের ব্যবস্থা করবে।

তবে আমরা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় জানাচ্ছি যে, উক্ত দুটি মামলাতেই আমাদের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে। দুটি মামলায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকেও আসামী করা হয়েছে। এতে আমরা উদ্বিগ্ন। কেননা নাসিকের ১ নং ওয়ার্ডে ঘটনা দুটি ঘটলেও আসামী করা হয়েছে নাসিকের প্রাায় ১০ টি ওয়ার্ডের লোকদেরকেই। যাদের অধিকাংশই ঘটনার অনেক পরে টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছিল। যারা ঘটনাস্থলেই ছিলনা এবং ঘটনা সম্পর্কেই অবহিত ছিল না তারা তাদের নাম মামলা দুটির আসামীর তালিকায় দেখে তারা রীতিমত অবাক ও হতভম্ব।

দলীয় নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে আসামী করায় কোন মহল পুলিশ প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে তৎপর বলে আমরা মনে করি। এ মামলার কারণে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। এভাবে ভুতুড়ে মামলায় দলীয় নেতাকর্মীদের আসামী করা হলে ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি করতে কর্মী খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়বে বলে আমরা মনে করি।

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসাবে হারুণ-অর-রশিদ বিপিএম, পিপিএম (বার) যোগদান করার পর নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যপক উন্নতি হয়েছে। এহেন পরিস্তিতিতে নারায়ণগঞ্জের চৌকশ পুলিশ সুপার হারুণ-অর-রশিদ বিপিএম, পিপিএম (বার)-এর সুনাম ক্ষুন্ন করতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ এ মামলা দুটিতে দলীয় নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদেরকে আসামী করেছে বলে আমাদের বিশ^াস।

প্রসঙ্গত গণপিটুনীতে বাক প্রতিবন্ধী সিরাজ নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ২১ জুলাই শনিবার দুপুরে ঘটনার পর রাতেই ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করেছে পুলিশ। সিরাজকে গণপিটুনীতে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সাখাওয়াত বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আসামীরা হলেন ১. বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ থানার দড়িচর খাজুরিয়া এলাকার মো. রেদোয়ান, ২. ভোলা জেলার দৌলতখান থানার শরীয়তপুর এলাকার সোহেল, ৩. সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতেনপাড়া এলাকার মো. মোশারফ মতবর, ৪. মিজমিজি বাতেনপাড়া এলাকার মো. জুনায়েত হাসান শান্ত, ৫. ফরিদপুর জেলার সালতা থানার বাহিরদি এলাকার মো. হাফিজুর খান, ৬. নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার জাহানাবাজ এলাকার মুনজু, ৭. মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার মো. আল আমিন, ৮. মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার আবুল কালাম আজাদ, ৯. কবির, ১০. পাগলাবাড়ি এলাকার মো. মোশারফ, ১১. মিজমিজি এলাকার মো. সাজু, ১২. পাগলাবাড়ি এলাকার কাজল, ১৩. আল আমিন নগর এলাকার আলমগীর, ১৪. আল আমিন নগর এলাকার ইছহাক, ১৫. আল আমিন নগর এলাকার নূর কামাল, ১৬. মিজমিজি দক্ষিনপাড়া এলাকার আজিজ, ১৭. পাইনাদী নতুন ব্রীজ এলাকার এনায়েত, ১৮. মিজমিজি পূর্ব সিআই খোলা এলাকার কবির হোসেন, ১৯. মিজমিজি এলাকার টাইগার ফারুক, ২০. পাইনাদী মধ্যপাড়া এলাকার রাজ্জাক, ২১. মিজমিজি এলাকার আনোয়ার হোসেন, ২২. পাইনাদী সিআই খোলা এলাকার মো. আলী, ২৩. পাইনাদী মধ্যাপাড়া এলাকার সোহাগ, ২৪. বাতেন পাড়া এলাকতার অলি উল্লাহ অলি, ২৫. বাতেনপাড়া এলাকার নাসির, ২৬. হিরাঝিল এলাকার সাইফুল, ২৭. পাইনাদী নতুন মহল্লা পিএম একাডেমির মোড় এলাকার জয়নাল আবেদীন, ২৮. পাইনাদী সিআই খোলা এলাকার সুফিয়ান, ২৯. আহসান উল্লাহ মার্কেট এলাকার রানা, ৩০. মিজমিজি সিআই খোলা এলাকার রমজান, ৩১. সুমন, ৩২. কাউছার, ৩৩. শিমরাইল এলাকার শামীম, ৩৪. সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার রসুলবাগ এলাকার ইয়াছিন, ৩৫. সমিলপাড়া এলাকার শাহ আলম মনির, ৩৬. কদমতলী মধ্যপাড়া এলাকার শাহজাহান, ৩৭. জাফর, ৩৮. গোদনাইল এলাকার খোকন মোল্লা, ৩৯. কদমতলী কলেজপাড়া এলাকার বাদশা, ৪০. মজিবর, ৪১. এসও রোড এলাকার আরমান, ৪২. কদমতলী নয়াপাড়া এলাকার জুয়েল, ৪৩. গোদনাইল এসও রোড এলাকার আনোয়ার হোসেন মেহেদী, ৪৪. গোদনাইল এসও রোড এলাকার মারুফ, ৪৫. গোদনাইল এলাকার মো. আবু বক্কর, ৪৬. এসও রোড এলাকার ফয়সাল, ৪৭. কদমতলী এলাকার মো. বাদল মিয়া, ৪৮. কলাবাগান পূর্ব মুন্সিপাড়া এলাকার মো. মাঈনুদ্দিন, ৪৯. কলাবাগান এলাকার মো. রাসেল, ৫০. কলাবাগান এলাকার ফারুক মুন্সি, ৫১. আইলপাড়া এলাকার মানিক মাষ্টার, ৫২. কদমতলী মধ্যপাড়া এলাকার শাজাহান, ৫৩. কদমতলী নয়াপাড়া এলাকার মো. নজরুল ইসলাম, ৫৪. ধনকুন্ডা এলাকার মো. নূর নবী, ৫৫. রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার ছোট হরিনাথপুর এলাকার এলাকার মো. রেজাউল করিম, ৫৬. মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার সাইফুল, ৫৭. মিজমিজি পাইনাদী এলাকার মাসুদ, ৫৮. মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার ছানা উল্লাহ, ৫৯. মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকার আশিক, ৬০. মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার রাসেল, ৬১. মিজমিজি পূর্ব পাড়া এলাকার গিয়াস উদ্দিন, ৬২. চিটাগাং রোড এস রহমান মার্কেট এলাকার আবুল মুন্সি, ৬৩. জালকুড়ি এলাকার মো. মনির হোসেন, ৬৪. মো আলাউদ্দিন, ৬৫. জালকুড়ি এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন দেলু, ৬৬. মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার আতাউর, ৬৭. গোদনাইল এসও রোড এলাকার সাদ্দাম, ৬৮. মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকার ইকবাল, ৬৯. গোদনাইল নয়াপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন, ৭০. গোদনাইল এলাকার মো. শাহজাহান, ৭১. মিতালী মার্কেট এলাকার নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ৭২. মিজমিজি মাদ্রাসা রোড এলাকার পলাশ, ৭৩. মিতালী মার্কেট এলাকার শিপন, ৭৪. সোহেল, ৭৫. শিমরাইল এলাকার শাহিন।

আহত শারমিন ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার সালমান মিয়ার স্ত্রী। ওই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত এক থেকে দেড়শ জনকে আসামী করা হয়েছে। তারা হলেন নোয়াখালী জেলার সুদারাম থানার চরমটুয়া এলাকার মো. সোহেল, সিদ্ধিরগঞ্জের আফজাল হোসেন, মুন্সিগঞ্জের টুঙ্গিবাড়ী এলাকার সৈয়দ নান্নু, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলকার মো. রহমত উল্লাহ, কুমিল্লা জেলার মোরাদনগর এলাকার আল-আমিন, পাইনাদী নতুনব্রীজ এলাকার এনায়েত, পাইনাদী মধ্যপাড়া এলাকার রাজ্জাক, পাইনাদী সিআই খোলা এলাকার মো. আলী, পাইনাদী মধ্যপাড়া এলাকার সোহাগ, হিরাঝিল এলাকার আকরাম, কদমতলী উত্তরপাড়া এলাকার তানজিম আহমেদ, বাতানপাড়া এলাকার নাহিদ, রহমান নগর এলাকার নূর আলম, গোদনাইল এলাকার আবু বকর, শিমরাইল এলাকার জজ মিয়া, আটি হাউজিং এলাকার বাদশা, গোদনাইল নয়াপাড়া এলাকার সালাউদ্দিন, গোদনাইল এলাকার মামুন, মিজমিজি কান্দাপাড়া এলাকার মুক্তার হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জের (টাইগার ফারুকের ছোট ভাই) জসিম।

এই মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো, সোহেল (৩৫), আফজাল হোসেন (২৭), সৈয়দ নাননু (৬৫), রহমত উল্লাহ (২৮), আলআমিন (১৯) ও নাহিদ (২৬)।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম মিয়া জানান, সিরাজ হত্যা মামলায় ৮ জন ও শারমিনকে হত্যা চেষ্টা মামলায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও