ছাত্রলীগের একক নিয়ন্ত্রণে শামীম ওসমান

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৩ পিএম, ১ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার

ছাত্রলীগের একক নিয়ন্ত্রণে শামীম ওসমান

আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড বলা হয়ে থাকে তাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গ সহযোগী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে। অতীত থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যে কোন আন্দোলন সংগ্রামেই ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর সেই ছাত্রলীগের নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার একক নিয়ন্ত্রণে নিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান যিনি নিজেও একসময় ছাত্রলীগের তুখোড় নেতা ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের এর আগের বারের কমিটিতে কয়েকটি পদে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের অনুসারীরা স্থান পেলেও এবার শুধুমাত্র শামীম ওসমানের অনুসারীরাই স্থান পেয়েছেন।

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সিংহভাগ তার নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রায় সময়ই নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কিংবা তাদের অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে থাকেন শামীম ওসমানের অনুসারীরা।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এসেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারীরা। ফলে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কয়েকটি কমিটিগুলোর মতো নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন শামীম ওসমান। সেখানে নারায়ণগঞ্জ অন্য কোন নেতারা অনুসারীরা প্রাধান্য পাননি।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ মে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আজিজুর রহমান আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আশরাফুল ইসমাইল রাফেলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাঁদের মধ্যে আজিজ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও রাফেল জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি পদে ছিলেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আাহবায়ক পদে থাকা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্বে থাকা হাসনাত রহমান বিন্দুকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরা সকলেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী।

এদিকে এই কমিটি গঠনের প্রায় ১৪ মাস পর গত ২৮ জুলাই কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ওই কমিটির অনুমোদন দেন। এর মধ্যে জেলা কমিটি করা হয়েছে ১৮৮ জনের এবং মহানগর কমিটি গঠন করা হয়েছে ১৬১ জনের। জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছেন ৪০ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন। আর বাকীরা সবাই বিষয়ভিত্তিক সম্পাদক, উপ-সম্পাদক এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। একই ভাবে মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হয়েছন ১৫ জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ১১ জন। আর বাকীরা সবাই সম্পাদক, উপ-সম্পাদক এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নেতৃত্বে আসা সকলেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের অনুসারী। এখানে স্থান পাননি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেত্রী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর অনুসারীরা। সেই সাথে ছাত্রলীগের একসময়ের প্রভাবশালী ছাত্রনেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম আরাফাত সহ অন্যান্য নেতার অনুসারীরাও স্থান পাননি।

এর আগে ২০১১ সালের জুন মাসে সাফায়েত আলম সানিকে সভাপতি ও মিজানুর রহমান সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি গঠন করা হয় এবং পরবর্তীতে ওই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। সেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও অন্যান্য নেতার কয়েকজন অনুসারী জায়গা পেয়েছিলেন। তবে এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কোন পদেই স্থান পাননি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও