আওয়ামী লীগের সকল কর্মীদের দায় শামীম ওসমানের!

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:২৮ পিএম, ৬ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার

আওয়ামী লীগের সকল কর্মীদের দায় শামীম ওসমানের!

আওয়ামী লীগের সকল কর্মীদের দায় যেন এমপি শামীম ওসমানের উপর পড়ছে। বিশাল কর্মীবাহিনীর এ নেতাকে আবারো সেই অনুগামীদের জন্য লড়তে হচ্ছে। এসব কর্মী বাহিনীর কারণে যখন অনেকেই নেতা বনে যাচ্ছেন বা গেছেন তাদের অনেকেই আর সাড়া দিচ্ছেন না। ফলে পরিশ্রান্ত এসব কর্মীদের আশারস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছেন শামীম ওসমান।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা সন্দেহে এলাকাবাসীর গণপিটুনীতে বাক প্রতিবন্ধী নিহত সিরাজ এবং একই দিন মানসিক প্রতিবন্ধী গুরুতর আহত হওয়ায় ঘটনায় দুটি মামলার আসামীর তালিকাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নামও রয়েছে। এছাড়া ব্যবসায়ী অনেকের নামও আছে। ওই মামলায় ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করেছে পুলিশ। সিরাজকে গণপিটুনীতে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সাখাওয়াত বাদি হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

সোমবার ৫ আগষ্ট বিকাল সাড়ে ৫টায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় হাজির হন শামীম ওসমান। ওই সময়ে নানা কারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ কিছুটা কঠিন সময় পার করছে জানিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনকে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশে থাকতে আহবান জানিয়েছে এমপি শামীম ওসমান। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম কার্যকরী সদস্য।

কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্যে বক্তব্যে শুরু করেন এমপি শামীম ওসমান। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগের নেতা ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা চুপসে বসে রয়েছে, কেউ প্রতিবাদ করছে না। সিদ্ধিরগঞ্জে ছেলে ধরা ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ সকল ওয়ার্ডের শীর্ষ নেতা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। আপনি (আনোয়ার হোসেন) আওয়ামীলীগের একজন সিনিয়র নেতা। আপনার জন্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র দেখতে বিশাল জনসভায় আমি সহ সকল নেতাকর্মীরা সমর্থন দিয়েছিল। সে বদলে নেত্রী আপনাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিয়েছেন। এমন অবস্থায় আপনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে দূরে না থেকে নেতাকর্মীদের পাশে থাকুন। আমি আপনার নেতাকর্মীর পাশে আছি, থাকবো। আপনিও আমার নেতাকর্মীদের পাশে থাকবেন সে আশা করি। এখানে ব্যক্তি মুখ্য না। আমার নেতাকর্মী যেমন বঙ্গবন্ধু আর জননেত্রী শেখ হাসিনার দল করে। তেমনি আপনার নেতাকর্মীও একই দল করে। আর আমরা তো সবাই আওয়ামী লীগ করি। এখানে নেতার চেয়ে দল বড়। ঘুরেফিরে সবাই এক।

এমপি শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামীলীগ শক্তি ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে। কারো ভয়ে দলকে পিছে ফেলে তার পাশে হাঁটা ঠিক নয়।

গত ২৭ জুলাই দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামীম ওসমান। ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শামীম ওসমান বলেন, আমার মনে হচ্ছে, নারায়ণগঞ্জে খেলা চলতেছে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এই ঘাঁটিকে ভাঙ্গার জন্য অনেকে মিলেই খেলা খেলতেছেন। যেহেতু অনেকে মিলেই খেলা খেলতেছে, হয়তো আমাকে রাস্তায় নামতে হবে। যারা খেলতেছে তাদের উদ্দেশ্য বলি, বয়স ৫৮ বছর হয়ে গেছে, মানসিকভাবে এখনও ১৮ বছর রয়ে গেছে। আমরা যখন খেলতে নামবো তখন আমরা কাউকে মানবো না। প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কাউকে মানি না আর মানবো না। আমরা যখন ছাত্র রাজনীতি করতাম তখন পুলিশের এত সাহস ছিল না। এখনকার পুলিশের অনেক সাহস। মার্ডার হয় এক জায়গায় আর আসামী করা হয় নারায়ণগঞ্জজুড়ে।

একই দিন সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী কদমতলী এলাকায় সাংসদের নিজস্ব কার্যালয়ে কর্মী সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গায়ে আচড় লাগার আগে আমার বুকের উপর দিয়ে যেতে হবে। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না আমি শামীম ওসমান আপনাদের পাশে আছি। আমি সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বলে আসছি আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’

সর্বশেষ গত ২৮ জুলাই স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান বলেন, ‘সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষেরা ক্ষুব্ধ। সম্প্রতি একজন প্রতিবন্ধী মারা গেছে। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের ৭৫জনকে আসামী করা হয়েছে। ১নং ওয়ার্ডে ঘটনা কিন্তু ১০ নং ওয়ার্ড পর্যন্ত নেতাকর্মীদের আসামী করা হয়েছে। এ মিটিংয়ে আসার আগে আমার সাথে এসপি সাহেবের সাথে কথা হয়েছে। আমি এসপি সাহেবকে বিষয়টা বলেছি। ঢাকার ডিআইজি অবগত হয়েছে। এ মামলায় যাদের নাম দেওয়া হয়েছে অন্যায় অপরাধভাবে নাম দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এটা একটা ষড়যন্ত্রের পার্ট। আমাকে পুলিশ সুপার কথা দিয়েছেন, উনি তদন্ত করবেন। মামলায় আসামী যারা হয়েছেন তাদেরকে ধরার তো বহুত মুশকিলের কথা। কিন্তু এই মামলাটা করলো কে? কি উদ্দেশ্য করলো?, এক নম্বর ওয়ার্ডে ঘটনা ঘটবে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা মামলা খেয়ে যাবেন, শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায়। এই ধরনের মুফতী হান্নানরা গোপালগঞ্জের পরিচয় দিয়ে কেউ বসে থাকে। তা চলবে না। আমরা কিন্তু এমপি হওয়ার জন্য রাজনীতি করিনা আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য রাজনীতিতে আসছি।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও