আন্দোলনের এক বছরে ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৯:৫৪ পিএম, ৭ আগস্ট ২০১৯ বুধবার

আন্দোলনের এক বছরে ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ৯টি দাবীর ভেতর সড়ককে ঢেলে সাজানোর জন্য ছাত্রদের দাবী ছিল ৬টি। তবে এসব দাবী কতটা পূরণ হয়েছে বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। সরকারী সদিচ্ছার অভাবেই আশ্বাসের ভেতর আটকে গেছে দাবীগুলো এমনটাই মন্তব্য করলেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের বছর পূর্তিতে এসে।

২০১৮ সালের জুলাইয়ে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসের প্রতিযোগীতার রোষানলে পরে নিহত হয়। তারই জের ধরে নৌ পরিবহন মন্ত্রীর মন্তব্য ও হাসিকে কেন্দ্র করে উত্তালে ফেটে পড়ে ছাত্ররা। আন্দোলনের স্রোত নারায়ণগঞ্জেও এসে স্তব্ধ করে দেয় পুরো শহরকে। সরকারী তোলারাম কলেজ, মহিলা কলেজ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নিরাপদ সড়কের দাবী জোরালো হয়। ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরের সড়কগুলো ছিল উত্তাল। ওই সময়ে চেক করা হয় বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র। সারিবদ্ধ বা নিয়মেই চলাচল করেছিল গাড়িগুলো।

তবে আন্দোলনের এক বছর দাবীগুলো পূরণ না করে সরকার লাইসেন্সবিহীন বাস ট্রাক চালকদের পক্ষেই রয়ে গেছে এমনটাই মনে করছেন তখনকার আন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদানকারীরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি শুভ দেব নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, যেই প্রত্যাশা নিয়ে ছাত্রদের নিরাপদ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিলো সেটি পূরণ হয়েছে তা আমরা বলতে পারছি না। এখনও ঈদের মৌসুমে ঢাকঢোল পিটিয়ে বিভিন্ন বুলি শোনানো হয় আর আমরা দেখতে পাই ঈদের পূর্বে ও পরে সড়কে লাশের মিছিল। সুতরাং বলাই যায় সরকারের এই ক্ষেত্রে স্পষ্ট অনিহা রয়েছে। যেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্র মেরামতের জন্য যেভাবে নিজেদের হাতে দায়িত্ব তুলে নিয়েছিলো সেটি থেকে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত ছিল। নারায়ণগঞ্জে একমাত্র সেই সময়েই ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণে সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি রিক্সা লেন ধরে চলেছে যা পুলিশ করতে ব্যর্থ। আমরা আশাবাদী আমাদের ভেতরে সেই পরিবর্তের চেতনা রয়েছে এবং পরিবর্তনটা ছাত্রদের মাধ্যমেই আবারও রচিত হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সুলতানা আক্তার নিউজ নারায়ণগঞ্জকে বলেন, এটি পরিষ্কার যে খুব সচেতন ভাবেই রাষ্ট্র ছাত্রদের দাবীগুলো ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের দাবীগুলো প্রায় সারাদেশেই একই ভাবে উচ্চারিত হচ্ছিলো। রাষ্ট্র যেহেতু দাবী গুলো মেনে নেয় নি সুতরাং নারায়ণগঞ্জে আলাদা ভাবে মেনে নিবে এটা বলা যায় না। তবে পজেটিভ দিকটা হচ্ছে, হাজার হাজার ছাত্ররা মাঠে নেমেছে, এবং নেমে তাদের সামনে যে পর্দা ছিল সেটি উন্মুক্ত করে দেখিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রের ত্রুটিগুলো। সুতরাং প্রাথমিক বিজয়টা ছাত্ররা প্রথমেই আদায় করে নিয়েছে। কিন্তু যেই প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলন সংগঠিত হয়েছিলো সেটি পূরণ হয়নি। এবং আমরা মনে করছি তা পূরণ করতেও পারবে না এই সরকার কারন তারা প্রতিটা বিপর্যয় সামাল দিতে ব্যার্থ।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রদের নিয়ে নেতৃত্ব দেয়া সাফাত আহমেদ নিউজ নারায়ণগঞ্জকে জানান, আমরা সেদিন সকল ছাত্র জনতা একই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য একত্রিত হয়েছিলাম। সবার জন্য নিরাপদ সড়ক চাই। কোন ব্যাক্তি স্বার্থ নিয়ে কেউ উপস্থিত হয়নি সেদিন। রোদ, বৃষ্টি ও পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যে আন্দোলনে ছাত্ররা দাবী জানিয়েছিলো তা আজও পূরণ হয়নি। পূরণ হয়নি আমাদের ফুটওভার ব্রিজ কিংবা সড়কে শৃঙ্খলা। পত্রিকা আর টিভিতে সড়কের দুর্ঘটনা দেখলেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায় কতটা নিরাপদ সড়ক দেশে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক নিরাপদ রাখতে যে সকল আইন রয়েছে সেগুলো সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হওয়া জরুরী। একই ভাবে আইনের বাস্তবাযন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন। নাগরিকদের যেমন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে তেমনি আইন প্রণেতাদের ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থাগুলোকেও পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করতে হবে। প্রশাসনের ব্যার্থতার কারণেই তৈরী হয়েছিলো এই আন্দোলন আর তাদের আন্দোলনের কারণে সরকার সেসময় নড়েচড়ে বসেছে বাধ্য হয়েছিলো। যা ছাত্রসমাজের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে রচিত থাকবে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও