রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫১ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৯ বুধবার

রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে

রাজধানীর পাশ্ববর্তী জেলা হিসেবে রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেই সাথে দেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের জন্মস্থান হচ্ছে এই নারায়ণগঞ্জ। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এই নারায়ণগঞ্জেই প্রথম আওয়ামীলীগের সভা হয়েছিল। অন্যদিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির ক্ষেত্রেও এই নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিএনপির ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এই নারায়ণগঞ্জ থেকে অনেকেই বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি নিয়ে জনসাধারণের মাঝে তেমন একটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেই সাথে ভোটের আগ্রহও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের উপজেলা নির্বাচনগুলোতে এরই প্রমাণ মিলেছে।

সূত্র বলছে, টানা তিন মেয়াদ ধরে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামীলীগ। আর এই তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেও নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগ শক্তিশালী হিসেবে নিজেদেরকে জানান দিতে পারছে না। জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের মূলদল সহ তাদের অঙ্গসংগঠগুলোর কোনটিরই থানা কমিটির নবায়ন নেই দীর্ঘ প্রায় ১ যুগ ধরে। সেই সাথে অনেকগুলোর মূল কমিটিও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে বহু আগে। আর দীর্ঘ বছর ক্ষমতায় থেকেও তারা দলকে গোছাতে পারছে না। ফলে তাদের দলীয় ঘোষিত কর্মসূচিগুলো প্রায় ফাঁকা থাকে। ক্ষমতার থাকার পরেও আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মসূচিতে কর্মী সমর্থকদের তেমন একটা উপস্থিতি থাকে না।

সর্বশেষ গত ২৩ জুন দেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সমর্থকদের মাঝে তেমন একটা সাড়া মিলেনি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী জ্ঞাপন করা হয়। পাশাপাশি জেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল খুবই অল্প। অথচ কয়েক বছর আগেও আওয়ামীলীগের এসকল কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কানায় কানায় পূর্ণ থাকতো।

অন্যদিকে ক্ষমতার বাইরে থাকতে থাকতে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। দলীয় কর্মসূচিতে শুধুমাত্র পদধারী নেতারাই উপস্থিত হয়ে থাকেন। কর্মী সমর্থকদের তেমন একটা উপস্থিতি থাকে না। অনেক সময় পদধারী নেতারাও উপস্থিত থাকেন না। সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর মূল দল সহ তাদের কয়েকটি অঙ্গসঠনেরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই কমিটি ঘোষণা উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে তেমন একটা প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি। নেতাকর্মীদের সমর্থকদের মাঝে দেখা যায়নি কোনো উচ্ছ্বাস। কিন্তু গত কয়েক বছর পূর্বেও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির ঘোষণা হলে নেতাকর্মী সমর্থকদের মাঝে সাড়া পড়ে যেত। চারদিকে সাজ সাজ রব বিরাজ করতো।

পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই ক্ষমতাসীন সাথে আঁতাতের রাজনীতি করে যাচ্ছেন। আর এসকল নেতাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো অ্যাকশনেও যাচ্ছেন না বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা। বরং তাদেরকে সুযোগ দিয়ে পরোক্ষভাবে অন্য নেতাকর্মীদেরকেও আঁতাতের জন্য উৎসাহিত করে যাচ্ছেন।

এদিকে গত ৩১ মার্চ ৪র্থ ধাপে অনুষ্ঠিত হয়ে যায় সারাদেশের ১৫৯ টি উপজেলার নির্বাচন। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসকল উপজেলার কোনটিতেই বিএনপির কোন প্রার্থী ছিল না। সেই সাথে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত প্রার্থীদের বিপরীতে গিয়ে কেউ প্রার্থী হওয়ার সাহস করেনি। আর যারা সাহস করে প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অনেকেই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে টিকে থাকতে পারেনি। ফলে ভোট কেন্দ্রগুলোও ভোটারবিহীন।

সর্বশেষ গত ১৮ জুন দেশের ১৭ টি উপজেলার সাথে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে যায়। এই নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আগে থেকেই চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে গেছেন আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী এম এ রশিদ। আর এই সুযোগটি করে দিয়েছেন বিএনপি নেতা আতাউর রহমান মুকুল। যিনি গত দুই মেয়াদ ধরে বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবারেও তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে আতাউর রহমান মুকুল নির্বাচনে যাননি। ফলে ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই বিভিন্ন সভা সমাবেশে মুকুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। যদিও মুকুলের ভাষ্য হচ্ছে, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়েই তিনি নির্বাচনে যাননি।

চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন থাকলেও পুরুষ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে কোন দলীয় মনোনয়ন ছিল না। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার সুযোগ থাকতেও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যানে বিএনপির কোন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেননি। নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একজন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও তাকে বিএনপির নেতারা সঙ্গ দেননি। একাই নির্বাচনী মাঠে লড়তে হয়েছে তাকে।

তবে পুরুষ ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলেরই অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। যাদেরকে নিয়ে গত ১৮ জুন বন্দর উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই নির্বাচন জনসাধারণে কোনে সাড়া ফেলেনি। সংশ্লিষ্ট এলাকার অনেকেই বলতেই পারেননি যে এদিন তাদের উপজেলা নির্বাচনের ভোট ছিল। আর এভাবেই দিন দিন জনসাধারণের মাঝে রাজনীতির আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও