প্রভাবশালী ধরে নেতা হারাচ্ছেন আইভী

স্পেশাল করেসপনডেন্ট || নিউজ নারায়ণগঞ্জ ০৪:৫২ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০১৯ বুধবার

প্রভাবশালী ধরে নেতা হারাচ্ছেন আইভী

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী সাম্প্রতিক সময়ে একটু ভিন্নপথে হাঁটা শুরু করছেন। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রভাবশালী নেতাদেরকে নিজের কাছে ভিড়াতে শুরু করছেন। এমনকি একসময় যারা আইভীর বিরোধীতা করতো তাদেরকেও তিনি তার বলয়ে ভিড়াচ্ছেন। আর এতে করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদেরকে হারাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। দিন দিন তাদের সাথে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই বাড়তে শুরু করছে।

সূত্র বলছে, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগে দায়িত্ব পালন করাকালীন সময়ে সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়গুলো অনেকটাই এড়িয়ে চলতেন তিনি। বিভিন্ন সভা সমাবেশে হাজির হলেও খুব বেশি একটা রাজনৈতিক বক্তব্য দিতেন না আইভী।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি পুরোদমে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সক্রিয় হতে শুরু করছেন। নেতাকর্মীদের বিপদ আপদে তিনি বিবৃতি দিতেও শুরু করছেন। অথচ বিগত দিনে এসকল কর্মকান্ডে তাকে খুব কমই পাওয়া যেত। সেই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই এক প্রতিক্রিয়ায় ছেলে ধরা গুজবকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের নেতাদের হয়রানী না করতে জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদকে অনুরোধ করেছেন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

এর আগে গত ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে উপস্থিত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র আইভী। কিন্তু ওই সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন না নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রত্যেকটি থানায় সম্মেলন করবেন। প্রত্যেকটি থানায় কমিটি দিতে হবে। আজকে না কালকে কোন তালাবাহানা চলবে না। সবাই প্রস্তুত সম্মেলন করার জন্য। অবশ্যই কমিটি দিতে হবে। যদি না দেন তাহলে বাধ্য হবো নেত্রীর কাছে বলতে। বাধ্য হবো নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেভাবে চায় সেভাবে করার জন্য। তার এই বক্তব্য পরোক্ষভাবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেই যায়। এই বক্তব্যের মাধ্যমে মেয়র আইভী জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশের কথা বলেছেন।

গত ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এবারের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গোলাম দস্তগীর গাজী ও বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন তারা। কিন্তু ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। অথচ দলীয় লোক হিসেবে তাদেরই বেশি প্রাধান্য পাওয়ার কথা। কিন্তু সেই জায়গায় তাদেরকে অনেকটাই এড়িয়েই চলা হয়েছে বলে অভিযোগ নেতাদের।

এর আগে ১৩ জুলাই ২নং রেলগেইট এলাকায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভাতেও নজরুল ইসলাম বাবু মেয়র আইভীর প্রশংসা করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি হিসেবে প্রত্যোকটি থানা কমিটি গুলোর সম্মেলনে উপস্থিত থাকার আহবান জানিয়েছেন। অথচ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় পরোক্ষভাবে নজরুল ইসলাম বাবুর মনোনয়ন বিরোধী ছিলেন মেয়র আইভী। পাশাপাশি নজরুল ইসলাম বাবুও আইভীর বিরোধী পক্ষের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক বজায় রেখে আসছিলেন। কিন্তু ওইদিনের সভায় নজরুল ইসলাম বাবু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদককে প্রাধান্য না দিয়ে আইভীকেই বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়। ফলশ্রুতিতে তাদের মাঝে একটু মনোমালিন্যের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর সাথে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পূর্ব থেকেই ভাল সম্পর্ক চলে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই আরও ঘনিষ্ট হচ্ছে। বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র আইভীকে গোলাম দস্তগীর গাজী বিরল মেয়র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাক আবু সুফিয়ান। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে সকল কর্মকান্ডেই মেয়র আইভীর একান্ত সহযোগী ছিলেন আবু সুফিয়ান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মেয়র আইভীর সাথে সেই সুফিয়ানের দেখা মিলছে না। বন্দর উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে তাদের মাঝে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। ফলে সেই বন্দর উপজেলা নির্বাচন ও নির্বাচনী পরবর্তী সময়ে কোন সভা সমাবেশে মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে সুফিয়ানের দেখা মিলছে না।

এসকল বিয়ষকে কেন্দ্র করে দিন দিন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাথে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের দূরত্ব বাড়তে শুরু করছে। বিভিন্ন সভা মঞ্চেও একসাথে তাদের আর দেখা মিলছে না। ক্রমেই যেন তাদের মাঝে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই বাড়তে শুরু করছে। আর সেই লড়াই বজায় রেখে নারায়ণঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি কতটুকু এগুতে পারবেন সেটাই লক্ষ্যণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


বিভাগ : রাজনীতি


নিউজ নারায়ণগঞ্জ এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

আরো খবর
এই বিভাগের আরও